পটনা: পটনা হাইকোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায় বিবাহবিচ্ছেদ ও (High Court)ব্যভিচারের প্রমাণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে বলেছে, শুধু ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ থাকা ব্যভিচার প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়। ‘আপত্তিকর অবস্থা’ আর ‘যৌন সম্পর্ক স্থাপন’-এর মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। এই পর্যবেক্ষণ দিয়েই এক স্বামীর বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতিরা।
স্বামী অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর স্ত্রী বড় বোনের স্বামীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়েছেন। কিন্তু আদালত বলেছে, এই অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।মামলাটির মূল অভিযোগ ছিল ব্যভিচার ও নিষ্ঠুরতা। স্বামী দাবি করেছিলেন, স্ত্রী তাঁর বড় বোনের স্বামীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রেখেছেন এবং তাঁকে মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন। কিন্তু পটনা হাইকোর্ট দুই অভিযোগই যথেষ্ট প্রমাণিত হয়নি বলে মনে করেছে।
আরও দেখুনঃ রাজ্যে দুর্নীতির তদন্তে এবার CBI র হাত বেঁধে দিল বিহারের ডবল ইঞ্জিন! স্বেচ্ছাচারের অভিযোগ বিরোধীদের
ব্যভিচারের ক্ষেত্রে আদালত বলেছে, শুধু কোনো আপত্তিকর (High Court )পরিস্থিতিতে দেখা গেলেই তা যৌন সম্পর্ক বলে ধরে নেওয়া যায় না। দুইয়ের মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে। প্রমাণ ছাড়া শুধু সন্দেহ বা পরিস্থিতিগত অনুমানের ভিত্তিতে ব্যভিচার মেনে নেওয়া যায় না।নিষ্ঠুরতার অভিযোগও আদালতের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। বিচারপতিরা বলেছেন, স্বামীর করা নিষ্ঠুরতার অভিযোগ একেবারেই অস্পষ্ট ও সাধারণ ধরনের।
কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা, সময় বা বিস্তারিত বিবরণ ছাড়া শুধু সাধারণ অভিযোগ দিয়ে নিষ্ঠুরতা প্রমাণিত হয় না। এ ধরনের অস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করা যায় না বলেই আদালত মত দিয়েছে। ফলে স্বামীর আবেদন খারিজ হয়েছে।এই রায় বিবাহবিচ্ছেদ মামলার প্রমাণের মানদণ্ড নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। ভারতীয় আইনে ব্যভিচার বিবাহবিচ্ছেদের অন্যতম কারণ হিসেবে স্বীকৃত।
কিন্তু তা প্রমাণ করতে হলে শুধু সন্দেহ বা পরিস্থিতিগত প্রমাণ যথেষ্ট নয়। যৌন সম্পর্ক স্থাপনের সরাসরি বা যথেষ্ট পরোক্ষ প্রমাণ থাকতে হয়। ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ থাকা মানেই যে যৌন সম্পর্ক ঘটেছে, তা আদালত মানতে রাজি হয়নি। এই পার্থক্যটুকুই রায়ের মূল কথা।বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় অনেক সময় স্বামী বা স্ত্রী একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যভিচার বা নিষ্ঠুরতার অভিযোগ আনেন। কিন্তু প্রমাণের অভাবে অনেক মামলাই টেকে না।
পাটনা হাইকোর্টের (High Court)এই রায় সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে। আদালত বলেছে, অভিযোগ যত গুরুতরই হোক, তা প্রমাণের দায়িত্ব অভিযোগকারীর ওপরই বর্তায়। শুধু অভিযোগ করেই দায়িত্ব শেষ হয় না। প্রমাণের মান যথেষ্ট মজবুত না হলে আদালত বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি দিতে পারে না।নিষ্ঠুরতার অভিযোগের ক্ষেত্রেও আদালত কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
‘অস্পষ্ট ও সাধারণ’ অভিযোগকে আদালত গ্রাহ্য করেনি। নিষ্ঠুরতা প্রমাণ করতে হলে নির্দিষ্ট ঘটনার বিবরণ, সময়, স্থান এবং তার প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য থাকতে হয়। শুধু বলা যে স্ত্রী বা স্বামী নিষ্ঠুর আচরণ করেছেন, তা যথেষ্ট নয়। এ ধরনের সাধারণ অভিযোগ দিয়ে বিবাহবিচ্ছেদ চাওয়া যায় না বলেই আদালত মনে করেছে।
