পটনা: বিহার সরকার এবার সিবিআইয়ের তদন্তের পথে নতুন বাধা তৈরি করেছে। (CBI investigation)রাজ্য সরকারের কর্মকর্তা এবং রাজ্য নিয়ন্ত্রিত বা অর্থায়িত সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাতে হলে এখন থেকে সিবিআইকে আগে বিহার সরকারের অনুমতি নিতে হবে। এই অনুমতি কোনোভাবেই স্বয়ংক্রিয় নয়। প্রতিটি মামলা আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হবে। সিবিআই প্রস্তাব জমা দেবে, তারপর বিহার সরকার সিদ্ধান্ত নেবে তদন্ত করা যাবে কি না।
সহজ কথায়, সিবিআই তদন্ত করতে চাইলেও শেষ সিদ্ধান্ত বিহার সরকারের হাতেই থাকবে।(CBI investigation)এই সিদ্ধান্ত রাজ্য ও কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার সম্পর্কে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সিবিআই ভারতের প্রধান তদন্ত সংস্থা। দুর্নীতি, কেন্দ্রীয় আইন লঙ্ঘন বা আন্তঃরাজ্য মামলার তদন্তে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বেশ কয়েকটি রাজ্য ইতিমধ্যেই সাধারণ সম্মতি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বিহার এখন সেই তালিকায় যুক্ত হল নতুন শর্ত আরোপ করে।
আরও দেখুনঃ পশ্চিমবঙ্গে লুকিয়ে আছে আল কায়েদা জঙ্গি আবু তালহা! তদন্তে নামল NIA
বিহার সরকারের এই সিদ্ধান্তেই নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। (CBI investigation)রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে বিজেপি শাসনের সুবিধা এবং সুযোগ নিয়ে বিহার সরকার সেচ্ছাচার করছে। তাদের মতে অন্যান্য রাজ্যে দুর্নীতির তদন্তে CBI বা কোনও কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা বিনা বাধায় তদন্ত করতে পারে। তবে কেন বিহারের বেলায় কেন সেই নিয়ম খাটবে না। তবে কি শুধুমাত্র বিজেপি সরকার কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সুবিধা নিয়ে স্বেচ্ছাচার করতে চাইছে।
রাজ্য সরকার বলছে, প্রতিটি মামলা আলাদা করে দেখা হবে যাতে অপ্রয়োজনীয় বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্ত এড়ানো যায়। তবে সমালোচকরা মনে করছেন, এতে স্বচ্ছ তদন্তের পথ আরও সংকীর্ণ হয়ে যাবে।বিহার সরকারের এই অবস্থানের ফলে সিবিআইয়ের কাজের পরিধি সীমিত হয়ে পড়বে। রাজ্যের আমলা, পুলিশ কর্মকর্তা বা রাজ্য অর্থায়িত সংস্থার কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এলেই সরাসরি তদন্ত শুরু করা যাবে না।
প্রথমে প্রস্তাব দিতে হবে। সেই প্রস্তাব রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ খতিয়ে দেখবে। (CBI investigation)অনুমতি না পেলে তদন্ত এগোতে পারবে না। এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ এবং জটিল। ফলে অনেক মামলাই দীর্ঘসূত্রিতার শিকার হতে পারে।এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজ্য স্বায়ত্তশাসনের যুক্তি দেওয়া হচ্ছে। বিহার সরকারের মত হলো, রাজ্যের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়ে রাজ্যেরও কিছু বলার অধিকার থাকা উচিত।
কেন্দ্রীয় সংস্থা যখন রাজ্যের বিষয়ে নাক গলায়, তখন সমন্বয় থাকা জরুরি। তবে বাস্তবে এর অর্থ দাঁড়ায় সিবিআইয়ের স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা খর্ব করা। বিশেষ করে দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো সংবেদনশীল মামলায় রাজ্য সরকারের অনুমতির শর্ত তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি রাজ্য সিবিআইয়ের সাধারণ সম্মতি প্রত্যাহার করেছে।
পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, মহারাষ্ট্রসহ কয়েকটি রাজ্যে এই প্রবণতা দেখা গেছে। বিহারের নতুন নিয়ম সেই ধারারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিহারের ক্ষেত্রে শর্তটি আরও স্পষ্ট প্রতিটি মামলা আলাদা করে বিবেচনা। এর ফলে সিবিআইকে প্রতিবারই রাজ্য সরকারের দ্বারস্থ হতে হবে। তদন্ত শুরু করার আগেই এক ধরনের অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
