Refurbished Phone কিনছেন? প্রতারণা এড়াতে আগে যাচাই করুন এই ১০ বিষয়

নয়াদিল্লি: ভারতে স্মার্টফোনের দাম ক্রমশ বাড়ছে। এর পাশাপাশি মেমরি চিপের দাম বৃদ্ধির প্রভাবও পড়ছে ফোনের দামে। ফলে নতুন ফোনের বদলে রিফারবিশড স্মার্টফোন (Refurbished Phone) কেনার…

refurbished-phone-buying-guide-india-10-things-to-check-before-buying

নয়াদিল্লি: ভারতে স্মার্টফোনের দাম ক্রমশ বাড়ছে। এর পাশাপাশি মেমরি চিপের দাম বৃদ্ধির প্রভাবও পড়ছে ফোনের দামে। ফলে নতুন ফোনের বদলে রিফারবিশড স্মার্টফোন (Refurbished Phone) কেনার দিকে ঝুঁকছেন অনেক ক্রেতা।

Advertisements

বিশেষ করে অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের মতো সংস্থার ব্যবহৃত ফোনের চাহিদা বেশি। সাধারণত এই ফোনগুলি পুনরায় বিক্রির আগে পরীক্ষা, কার্যক্ষমতা যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মেরামত করা হয়। ফলে নতুন ফোনের তুলনায় কম দামে সাম্প্রতিক মডেলের স্মার্টফোন কেনার সুযোগ পাওয়া যায়। তবে রিফারবিশড ফোন কেনার ক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। ফোনটির প্রকৃত অবস্থা, বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা, হার্ডওয়্যার, ওয়ারেন্টি এবং ফেরত দেওয়ার নিয়ম, সবকিছু যাচাই না করে ফোন কেনা উচিত নয়।

   

কীভাবে নিরাপদ রিফারবিশড ফোন বিক্রেতা বেছে নেবেন?

রিফারবিশড ফোন কেনার আগে কোন মডেলটি কিনবেন, তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হল বিশ্বাসযোগ্য বিক্রেতা বেছে নেওয়া। কারণ নির্ভরযোগ্য বিক্রেতাই ফোনটির প্রকৃত অবস্থা, আগের ব্যবহারের ইতিহাস, ওয়ারেন্টি এবং ফেরত দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে পারে। সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে প্রস্তুতকারক সংস্থার অনুমোদিত রিফারবিশড ফোন।

বড় স্মার্টফোন সংস্থাগুলি নিজেদের সার্টিফায়েড রিফারবিশড ফোন বিক্রি করে। যেমন, স্যামসাংয়ের সার্টিফায়েড রি-নিউড কর্মসূচিতে গ্যালাক্সি এস২৫ আল্ট্রা এবং গ্যালাক্সি এস২৫-এর মতো ফোন কম দামে পাওয়া যায়।

Advertisements

সংস্থার নিজস্ব রিফারবিশড ফোন কেন তুলনামূলক নিরাপদ?

ব্র্যান্ডের নিজস্ব রিফারবিশড ফোন সাধারণত বিক্রির আগে সংস্থার অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যায়। এর মধ্যে থাকতে পারে:

  • সম্পূর্ণ ফোন পরীক্ষা
  • বিভিন্ন ফিচারের কার্যক্ষমতা যাচাই
  • সফটওয়্যার পরীক্ষা
  • আগের মালিকের সমস্ত তথ্য মুছে ফেলা
  • ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রাংশ পরিবর্তন
  • প্রয়োজন অনুযায়ী আসল খুচরো যন্ত্রাংশ ব্যবহার

তবে ফোনটি সত্যিই সংস্থার অনুমোদিত রিফারবিশড মডেল কি না, তা অবশ্যই সংস্থার সরকারি ওয়েবসাইটে যাচাই করে নিন। সেই সঙ্গে ফোনটির সঙ্গে বৈধ ওয়ারেন্টি রয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।

পরিচিত রিটেলার থেকেও কিনতে পারেন

ব্র্যান্ডের নিজস্ব রিফারবিশড কর্মসূচি না থাকলে রিফারবিশড ফোন বিক্রির জন্য পরিচিত কোনও প্রতিষ্ঠিত রিটেলার-এর কাছ থেকেও ফোন কেনা যেতে পারে। তবে কেনার আগে অবশ্যই জেনে নিন:

  • ফোনটির অবস্থা কেমন?
  • ফোনটি কোন গ্রেডের?
  • কোনও যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করা হয়েছে কি না?
  • কতদিনের ওয়ারেন্টি রয়েছে?
  • ফোন ফেরত দেওয়ার নিয়ম কী?
  • ফোন বদলে দেওয়ার সুবিধা রয়েছে কি না?

কেনার সময় পাওয়া বিল বা ইনভয়েস অবশ্যই রেখে দিন। ভবিষ্যতে ওয়ারেন্টি বা ফোন বদলের প্রয়োজন হলে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগবে।

দোকানে গিয়ে ফোন পরীক্ষা করে কিনুন

অনলাইনে ফোন না কিনে সরাসরি দেখে কিনতে চাইলে কোনও পরিচিত রিফারবিশড ফোনের দোকান বেছে নিতে পারেন। সামনাসামনি ফোন দেখার সুবিধা হল, টাকা দেওয়ার আগে নিজেই ফোনটির:

  • ডিসপ্লে
  • ক্যামেরা
  • স্পিকার
  • মাইক্রোফোন
  • বডি
  • বোতাম
  • ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর
  • ফেস আইডি

পরীক্ষা করে নিতে পারবেন। বিক্রেতা যদি ফোনের আইএমইআই নম্বর বা বিল দিতে অস্বীকার করেন, তাহলে সেই ফোন না কেনাই ভালো।

আইএমইআই নম্বর অবশ্যই মিলিয়ে নিন

ফোন কেনার আগে তার পরিচয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফোনে দেখানো আইএমইআই নম্বর বক্স বা ইনভয়েসে থাকা আইএমইআই নম্বরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। ভারতে সঞ্চার সাথী সিইআইআর পরিষেবা ব্যবহার করে ফোনটির আইএমইআই স্ট্যাটাসও যাচাই করা যায়। এতে ফোনটি হারানো বা চুরি যাওয়া হিসেবে রিপোর্ট করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুরক্ষা পাওয়া যায়।

আইফোন কিনলে অ্যাপল অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করুন

রিফারবিশড আইফোন কেনার সময় নিশ্চিত করুন, আগের মালিক তাঁর অ্যাপল অ্যাকাউন্ট থেকে সাইন আউট করেছেন। আগের মালিকের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ফোনটি যুক্ত থাকলে পরে ফোন ব্যবহার বা রিসেট করার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ক্ষেত্রেও একইভাবে নিশ্চিত করুন, আগের মালিকের গুগল অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ব্যাটারির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন

রিফারবিশড ফোন কেনার ক্ষেত্রে ব্যাটারির অবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইফোন কিনলে সেটিংস-এ গিয়ে ব্যাটারি হেলথ পরীক্ষা করুন। ব্যাটারির স্বাস্থ্য খুব কম থাকলে ভবিষ্যতে দ্রুত ব্যাটারি পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ক্ষেত্রেও অনেক মডেলে ব্যাটারির ক্ষমতা বা ব্যাটারি হেলথ দেখা যায়। তবে এই তথ্য কোথায় থাকবে, তা ফোন প্রস্তুতকারক সংস্থার উপর নির্ভর করে।

ডিসপ্লে ও ক্যামেরা ভালোভাবে পরীক্ষা করুন

ফোন হাতে নিয়ে ডিসপ্লে ভালোভাবে দেখুন। বিশেষ করে খেয়াল করুন:

  • স্ক্র্যাচ আছে কি না
  • ডিসপ্লেতে উল্লম্ব দাগ রয়েছে কি না
  • কোনও পিক্সেল কাজ করছে না কি না
  • অস্বাভাবিক দাগ বা ছোপ রয়েছে কি না
  • টাচ ঠিকমতো কাজ করছে কি না

সামনের ও পিছনের সব ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলে পরীক্ষা করুন। স্পিকার ও মাইক্রোফোনও পরীক্ষা করে নিন।

সিম ও নেটওয়ার্ক সমর্থন যাচাই করুন

ফোনটি আপনার ব্যবহৃত সিম কার্ড সমর্থন করে কি না এবং প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক ব্যান্ড রয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করুন। বিশেষ করে বিদেশ থেকে আমদানি করা রিফারবিশড ফোন কেনার ক্ষেত্রে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফোনটি দেখতে একেবারে নতুন হলেও আপনার ব্যবহৃত নেটওয়ার্কের প্রয়োজনীয় ব্যান্ড না থাকলে সমস্যা হতে পারে।

ফোন সম্পূর্ণ রিসেট করা হয়েছে কি না দেখুন

কেনার আগে নিশ্চিত করুন ফোনটি সম্পূর্ণভাবে ফ্যাক্টরি রিসেট করা হয়েছে এবং আগের মালিকের কোনও ব্যক্তিগত তথ্য ফোনে নেই। এর পাশাপাশি অবশ্যই চাইবেন:

  • বৈধ বিল বা ইনভয়েস
  • ওয়ারেন্টির তথ্য
  • পরিবর্তন করা যন্ত্রাংশের বিবরণ
  • ফোন ফেরত দেওয়ার নিয়ম
  • ফোন বদলে দেওয়ার নিয়ম

ব্যক্তিগত বিক্রেতার কাছ থেকে কিনলে আরও সতর্ক

অনলাইন শ্রেণিবদ্ধ বিজ্ঞাপন বা ব্যক্তিগত বিক্রেতার কাছ থেকেও ব্যবহৃত ফোন কেনা যায়। তবে এই ক্ষেত্রে সামনাসামনি ফোন পরীক্ষা না করে টাকা দেওয়া উচিত নয়। পেমেন্ট করার আগে নিশ্চিত করুন:

  • ফোনটি কোনও অ্যাকাউন্টে লক করা নেই
  • ফোনটি হারানো বা চুরি যাওয়া হিসেবে রিপোর্ট করা হয়নি
  • আইএমইআই নম্বর সঠিক
  • বিক্রেতার কাছে বৈধ বিল রয়েছে
  • ফোনটির মালিকানার প্রমাণ রয়েছে

বিশেষ করে যে ফোন আপনি নিজে দেখেননি, তার জন্য আগাম টাকা পাঠানো এড়িয়ে চলুন। বিক্রেতা যদি বৈধ বিল বা মালিকানার প্রমাণ দিতে না পারেন, তাহলে সেই ফোন কেনা থেকে দূরে থাকাই নিরাপদ। রিফারবিশড ফোন কিনলে নতুন ডিভাইসের তুলনায় যথেষ্ট টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। কিন্তু শুধু কম দাম দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বিক্রেতা, আইএমইআই, অ্যাকাউন্ট লক, ব্যাটারি হেলথ, ডিসপ্লে, ক্যামেরা, নেটওয়ার্ক সমর্থন, বিল, ওয়ারেন্টি এবং ফেরত দেওয়ার নিয়ম, সবকিছু যাচাই করার পরেই ফোন কিনুন।

সবচেয়ে নিরাপদ পথ হল প্রস্তুতকারক সংস্থার অনুমোদিত রিফারবিশড ফোন। আর ব্যক্তিগত বিক্রেতার ক্ষেত্রে ফোনটি হাতে নিয়ে সম্পূর্ণ পরীক্ষা না করে কোনওভাবেই টাকা দেওয়া উচিত নয়।

Advertisements