নয়াদিল্লি: প্রায় ১,৩২২ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে Zee গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ চন্দ্র-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI। অভিযোগ, বিভিন্ন সংস্থাকে দেওয়া ঋণের ক্ষেত্রে ভুল তথ্য ও নেট-ওয়ার্থ সার্টিফিকেট ব্যবহার করে LIC Housing Finance Ltd (LICHFL)-কে আর্থিকভাবে প্রতারিত করা হয়েছিল। LICHFL-কে দেওয়া একটি অভিযোগের ভিত্তিতে CBI হেডকোয়ার্টারে এই মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
Vasant Sagar-কে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ
CBI-এর অভিযোগে দুটি বড় ঋণ সুবিধার উল্লেখ রয়েছে। প্রথম ক্ষেত্রে Vasant Sagar Properties Pvt Ltd-কে সহ-ঋণগ্রহীতা Pan India Infra Projects Pvt Ltd-র সঙ্গে মোট ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দেয় LICHFL। ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য takeover ও top-up সুবিধা হিসেবে এই ঋণ অনুমোদন করা হয়েছিল। ঋণটি Loan Account No. 610700003341-এর অধীনে দেওয়া হয়। এই ঋণের নিরাপত্তা হিসেবে ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ সুভাষ চন্দ্রের দেওয়া একটি Letter of Continuing Guarantee ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও ৪৮০ কোটি টাকা ঋণ
দ্বিতীয় ক্ষেত্রে Digital Subscriber Management and Consultancy Services Pvt Ltd-কে সহ-ঋণগ্রহীতা Spirit Infra Power and Multi Ventures Pvt Ltd-এর সঙ্গে ৪৮০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছিল। এই ঋণটি Rental Discounting facility হিসেবে Rental Securitization Scheme-এর অধীনে দেওয়া হয়। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল Loan Account No. 610700003500।
এই ঋণের ক্ষেত্রেও সুভাষ চন্দ্রের দেওয়া Letter of Continuing Guarantee ছিল বলে অভিযোগ। সেটির তারিখ ১০ আগস্ট ২০১৮।
নেট-ওয়ার্থ সার্টিফিকেট নিয়েও প্রশ্ন
CBI-এর অভিযোগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির একটি হল সুভাষ চন্দ্রের নামে জমা দেওয়া net-worth certificates। অভিযোগ অনুযায়ী, Vasant Sagar-এর₹৫০০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সুভাষ চন্দ্রের জমা দেওয়া একটি নেট-ওয়ার্থ সার্টিফিকেট আংশিকভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল। DIM & Co ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ সার্টিফিকেটটি জারি করেছিল এবং সেখানে ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত তাঁর আর্থিক অবস্থার উল্লেখ ছিল। সার্টিফিকেটে তাঁর নেট ওয়ার্থ ৬,১৯৭.৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ আনুমানিক ৫৯,১১৩.২১ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। অন্যদিকে Digital-এর ৪৮০ কোটি টাকা ঋণের ক্ষেত্রেও আরেকটি নেট-ওয়ার্থ সার্টিফিকেট ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। MPJ & Co ২০১৮ সালের ৬ জুলাই সেটি জারি করেছিল এবং সেখানে সুভাষ চন্দ্রের নেট ওয়ার্থ ৪০,৫৬২ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়।
পরে দুই ঋণেই ডিফল্ট
CBI-এর অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে দুটি ঋণ অ্যাকাউন্টেই ডিফল্ট হয়। এরপর সুভাষ চন্দ্রের ব্যক্তিগত insolvency resolution-এর জন্য Insolvency and Bankruptcy Code, 2016-এর অধীনে প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই insolvency proceedings চলাকালীনই জমা দেওয়া নেট-ওয়ার্থ সার্টিফিকেটের তথ্য নিয়ে সুভাষ চন্দ্রের বক্তব্য সামনে আসে। CBI-এর অভিযোগে বলা হয়েছে, ঋণ অনুমোদন ও টাকা বিতরণের সময় LICHFL-এর কাছে যে নেট-ওয়ার্থ সার্টিফিকেট জমা দেওয়া হয়েছিল, সেখানে উল্লেখ করা সম্পদের পরিমাণ তিনি পরবর্তী সময়ে অস্বীকার করেন।
২০২৪ সালে নেট ওয়ার্থ ৩১.৭৯ কোটি টাকা বলে দাবি
অভিযোগ অনুযায়ী, insolvency proceedings-এ সুভাষ চন্দ্র দাবি করেন যে ২০২৪ সালে তাঁর নেট ওয়ার্থ ছিল ₹৩১.৭৯ কোটি। একই সঙ্গে তিনি নাকি দাবি করেন, ২০১৭-১৮ সালেও তাঁর নেট ওয়ার্থ ৪০,০০০ কোটি টাকার বেশি ছিল না। অর্থাৎ, LICHFL-এর কাছে ঋণ নেওয়ার সময় জমা দেওয়া ৪০,৫৬২ কোটি টাকা বা প্রায় ৫৯,১১৩ কোটি টাকা নেট-ওয়ার্থের তথ্য এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর নিজের দেওয়া আর্থিক অবস্থার দাবির মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। CBI এখন এই নেট-ওয়ার্থ সার্টিফিকেট, ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মাধ্যমে LICHFL-কে কীভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে, তা তদন্ত করবে।
