রায়পুর: দীর্ঘ ১৩ বছর অপেক্ষার পর অবশেষে ২০১৩ সালের ভয়াবহ ঝীরম উপত্যকা (Naxal Attack)হত্যাকাণ্ডের মামলায় বড়সড় রায় দিল এনআইএ-র বিশেষ আদালত। মামলায় বেঁচে থাকা ১০ অভিযুক্তকেই দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। বিচারপর্বের শেষ শুনানি হয়েছিল গত ১২ আগস্ট। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর রায় ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছিল। প্রথমে ৩১ আগস্ট রায় ঘোষণার কথা থাকলেও পরে তা পাঁচ দিন পিছিয়ে ৫ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়। সেই মতো শুক্রবার আদালত রায় ঘোষণা করে।
মামলাটি এনআইএ-র বিশেষ আদালতের বিচারক অজয় সিং রাজপুতের বেঞ্চে চলছিল (Naxal Attack)। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার পর এই রায় সামনে এল। এনআইএ ২০১৫ সালে মামলায় প্রায় এক হাজার পাতার চার্জশিট পেশ করেছিল। সেখানে প্রথমে মোট ১১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে বিচার চলাকালীন এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়। বর্তমানে বাকি ১০ জনই জগদলপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি রয়েছে।
আরও দেখুনঃ EVM এ টোটালাইজার কেন! মোদী সরকারের উত্তর চাইল সুপ্রিমকোর্ট
মামলার শুনানিতে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে মোট ১০১ জন সাক্ষীর বক্তব্য আদালতে তুলে ধরা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বিচারপর্বে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক তথ্য-প্রমাণ আদালতের সামনে পেশ করা হয়। অন্যদিকে, নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য প্রতিরক্ষা পক্ষের তরফে কোনও সাক্ষী হাজির করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত আদালত ১০ অভিযুক্তকেই দোষী সাব্যস্ত করেছে।
ঝীরম উপত্যকা হত্যাকাণ্ড শুধু ছত্তীসগঢ় নয়, (Naxal Attack)গোটা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ নকশাল হামলা হিসেবে পরিচিত। ২০১৩ সালের ২৫ মে বস্তার এলাকায় কংগ্রেসের ‘পরিবর্তন যাত্রা’ চলছিল। কংগ্রেস নেতাদের একটি কনভয় ঝীরম উপত্যকার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই চারদিক থেকে হামলা শুরু হয়। আগে থেকেই জঙ্গলে ঘাপটি মেরে থাকা বিপুল সংখ্যক মাওবাদী কনভয়টিকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায়।
সেদিনের হামলায় কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতা প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন ছত্তীসগঢ় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নন্দকুমার পটেল, প্রাক্তন মন্ত্রী তথা ‘বস্তার টাইগার’ হিসেবে পরিচিত মহেন্দ্র কর্মা এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিদ্যাচরণ শুক্ল।
তাঁদের পাশাপাশি নিরাপত্তাকর্মী ও দলের অন্যান্য কর্মীরাও হামলার শিকার হন। হামলায় মোট ৩২ জনের মৃত্যু এবং ৩৮ জনের গুরুতর আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এনআইএ-র চার্জশিটে ২৭ জন মৃতের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
ঘটনার পর থেকেই ঝীরম হামলা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়। (Naxal Attack)এত বড় একটি রাজনৈতিক কনভয়ের ওপর কীভাবে মাওবাদীরা এমন হামলা চালাতে সক্ষম হল, তা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন উঠেছে। হামলার নেপথ্যে কারা ছিল এবং কীভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্তও দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে।
এনআইএ তদন্তভার নেওয়ার পর মামলাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রায় এক হাজার পাতার চার্জশিটে তদন্তের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। কিন্তু আদালতে চূড়ান্ত রায় আসতে লেগে গেল আরও বহু বছর। ফলে নিহত নেতাদের পরিবার এবং হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে এই রায় নিঃসন্দেহে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাল।
