কলকাতা: ভারতীয় ফুটবলের অনূর্ধ্ব-১৭ পুরুষ জাতীয় দলের নতুন হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেলেন প্রাক্তন জাতীয় দলের ফুটবলার মেহরাজউদ্দিন ওয়াদু (Mehrajuddin Wadoo)। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন বা এআইএফএফ তাঁকে এই দায়িত্ব দিয়েছে। উজবেকিস্তানে ২০২৭ এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় দল।
৪২ বছর বয়সি ওয়াদু বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর গোয়ার মারগাঁওয়ে শুরু হওয়া অনূর্ধ্ব-১৭ দলের প্রস্তুতি শিবিরে দায়িত্ব নিয়েছেন। আপাতত শিবিরটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে চলছে। কোচিং স্টাফরা বিভিন্ন ফুটবলারকে দেখে তাঁদের দক্ষতা ও সম্ভাবনা যাচাই করছেন। এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের জন্য সেরা দল তৈরি করাই এই শিবিরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে কঠিন গ্রুপে ভারত
২০২৭ এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে ভারত রয়েছে গ্রুপ ‘ই’-তে। ১১ থেকে ২০ নভেম্বর মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে হবে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলি। সেখানে ভারতকে খেলতে হবে আয়োজক মালয়েশিয়া, প্যালেস্টাইন, সিঙ্গাপুর এবং গুয়ামের বিরুদ্ধে।
ফলে নতুন কোচের সামনে শুরুতেই কঠিন পরীক্ষা। গ্রুপের প্রতিটি ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখন থেকেই খেলোয়াড় বাছাই, দলগত বোঝাপড়া এবং কৌশল তৈরির দিকে জোর দিতে হবে ওয়াদুকে।
কোচিংয়ে অভিজ্ঞ ওয়াদু
মেহরাজউদ্দিন ওয়াদুর কাছে রয়েছে এএফসি প্রো লাইসেন্স। কোচ হিসেবে এর আগে তিনি একাধিক ক্লাবে কাজ করেছেন। সম্প্রতি তিনি মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হেড কোচের দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে রিয়েল কাশ্মীর এফসি এবং সুদেবা দিল্লি এফসিতেও কোচ হিসেবে কাজ করেছেন।
ফলে জাতীয় দলের অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলারদের নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে তাঁর ক্লাব ফুটবলের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষ করে তরুণ ফুটবলারদের উন্নতি এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা তৈরির ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে।
জাতীয় দলের হয়ে সাফল্যের অভিজ্ঞতা
খেলোয়াড় হিসেবেও ভারতীয় ফুটবলে উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে ওয়াদুর। জাতীয় দলের মিডফিল্ডার হিসেবে তিনি ২০০৮ সালে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ জয়ী ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন। পরে ২০১১ সালের এএফসি এশিয়ান কাপেও ভারতের হয়ে খেলেন তিনি।
এছাড়াও ২০০৫ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০০৭ ও ২০০৯ সালের নেহরু কাপ জয়ী ভারতীয় দলের অংশ ছিলেন ওয়াদু। অর্থাৎ জাতীয় দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলার সরাসরি অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
ক্লাব ফুটবলেও সাফল্য পেয়েছেন প্রাক্তন এই মিডফিল্ডার। ২০১৫ সালে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ বা আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হওয়া চেন্নাইয়িন এফসি দলের সদস্য ছিলেন তিনি।
তরুণ ফুটবলারদের জন্য সঠিক পরিবেশ তৈরি করতে চান
দায়িত্ব নেওয়ার পর ওয়াদু জানিয়েছেন, এই বয়সের ফুটবলারদের বিকাশের জন্য সঠিক পরিবেশ তৈরি করাই তাঁর তাৎক্ষণিক লক্ষ্য। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তরুণ খেলোয়াড়দের শুধু ফুটবল দক্ষতা নয়, নিজেদের উন্নতির সুযোগও দিতে হবে।
ওয়াদু বলেন, ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলের দায়িত্ব পাওয়া তাঁর কাছে অত্যন্ত সম্মানের। এই বয়সের দল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাঁর প্রথম লক্ষ্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ফুটবলাররা নিজেদের উন্নত করতে পারবেন এবং সর্বোচ্চ স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুত হতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই ট্রায়ালের মাধ্যমে প্রস্তুতি শিবির শুরু হয়েছে। আসন্ন যোগ্যতা অর্জন পর্বের জন্য যতটা সম্ভব ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়াই এখন লক্ষ্য। ফুটবলারদের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি ফলপ্রসূ শিবিরের দিকেও নজর থাকবে তাঁর।
প্রথম লক্ষ্য শক্তিশালী দল তৈরি
এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্ব শুরু হতে বেশি সময় বাকি নেই। তাই ওয়াদুর প্রথম বড় দায়িত্ব হবে ট্রায়াল এবং প্রস্তুতি শিবিরের মাধ্যমে সঠিক ফুটবলারদের চিহ্নিত করা। এরপর তাঁদের নিয়ে একটি সংগঠিত এবং প্রতিযোগিতামূলক দল তৈরি করতে হবে।
মালয়েশিয়া, প্যালেস্টাইন, সিঙ্গাপুর এবং গুয়ামের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বে ভালো ফল করতে হলে দলের কৌশল, ফিটনেস এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন কোচের অধীনে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলের প্রস্তুতি তাই এখন থেকেই নজরে থাকবে।
