নয়াদিল্লি: ভারতীয় রেলওয়ে অবশেষে সেই সফল মডেলটি গ্রহণ করছে (Railways)যা হাইওয়ে নির্মাণে বিপ্লব এনেছিল। হাইব্রিড অ্যানুইটি মডেল বা এইচএএম। এবার ছয়টি নতুন ফ্রেইট লাইন নির্মাণে বেসরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বে যাচ্ছে রেল। সরকার নির্মাণকালে প্রকল্প ব্যয়ের ৪০ শতাংশ অনুদান হিসেবে দেবে আর বাকি ৬০ শতাংশ বেসরকারি পক্ষই বহন করবে। ঝুঁকিও ভাগ করা। পুরোটা সরকারি বাজেটের ওপর নির্ভর নয়। খরচ ভাগ, দায়িত্ব ভাগ।
কাজ শুরু হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিল থেকে।এই মডেল হাইওয়ে (Railways)সেক্টরে রাস্তা বানাতে সাহায্য করেছে। এখন কয়লা ও কন্টেইনার সরানোর জন্য একই পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই। পণ্যবাহী ট্রেনগুলো যাতে যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে একই ট্র্যাকে আটকে না থাকে। আলাদা ফ্রেইট লাইন তৈরি হলে মালামাল দ্রুত চলবে আর যাত্রী পরিষেবাও আরও মসৃণ হবে।
আরও দেখুনঃ মোদীকে শেষ করেই ছাড়ব! রামলীলা ময়দানে হুমকি বামনেত্রী ওমরজিত কৌরের
চিনির খুচরো মূল্য নিয়ন্ত্রণে স্টক ধরণের ক্ষমতা ৪ থেকে ২০০০ কুইন্টাল করল মোদী সরকার
মোট ছয়টি প্রকল্পের সম্মিলিত বিড কস্ট প্রায় ১৫,৯৭৬ কোটি টাকা। পুরো কনসেশন পিরিয়ড ধরে মোট পুঁজি ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৪০,৮৬৬ কোটি টাকায়। এই ছয়টি লাইনের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৪৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে চারটি ওড়িশায়। একটি তেলেঙ্গানায় আর একটি ঝাড়খণ্ডে।
ওড়িশার প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বলারাম-পুটগাদিয়া-তেনতুলোই (Railways)ইনার করিডর, বুধাপাঙ্ক-তেনতুলোই-লুবুরি আউটার করিডর, জাজপুর-কেওনঝর রোড-আরাদি-ধামরা পোর্ট লাইন এবং টিকিরি স্টেশন থেকে ওয়াল্টেয়ার বক্সাইট মাইনস পর্যন্ত লাইন।
এগুলো মূলত খনিজ ও পোর্ট সংযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।রেল মন্ত্রণালয় প্রথমে ডিবিএফওটি মডেলে যাওয়ার কথা ভেবেছিল। কিন্তু বাজার থেকে প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পর হাইব্রিড অ্যানুইটি মডেলে সরে আসে। এই মডেলে ট্রাফিক ও ট্যারিফের ঝুঁকি রেলওয়েই নেবে। বেসরকারি সংস্থা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে। লাইন চালু হওয়ার পর রেলওয়ে বেসরকারি পক্ষকে অ্যানুইটির মাধ্যমে বাকি ৬০ শতাংশ পরিশোধ করবে।
সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা পেমেন্টও থাকবে। (Railways)যাত্রী ও মালবাহী আয় পুরোটা রেলওয়ের কাছেই থাকবে।এটি রেলওয়ের ইতিহাসে প্রথমবার হাইব্রিড অ্যানুইটি মডেল প্রয়োগ। হাইওয়েতে এই মডেল সফল হওয়ার পর এখন রেলও সেই পথে হাঁটছে। বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং সরকারি বাজেটের চাপ কমানোই মূল উদ্দেশ্য। প্রকল্পগুলো শেষ পর্যন্ত কেবিনেট অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
বোলিং প্রক্রিয়া ২০২৭-২৮ অর্থবছরে শুরু হতে পারে। নির্মাণ কাজ ২০২৮ সালের এপ্রিল থেকে শুরু করার পরিকল্পনা।যদি এই ছয়টি লাইন সময়মতো তৈরি হয় তাহলে পণ্য পরিবহনে বড় পরিবর্তন আসবে। কয়লা, আকরিক, কন্টেইনার সহ বিভিন্ন মালামাল দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাবে। যাত্রী ট্রেনের ওপর চাপ কমবে। লজিস্টিক খরচ কমবে। শিল্প ও বন্দর সংযোগ আরও মজবুত হবে।
বিশেষ করে ওড়িশার খনিজ সমৃদ্ধ এলাকাগুলো উপকৃত হবে।রেলওয়ে এখন আর শুধু সরকারি অর্থের ওপর নির্ভর করতে চাইছে না। বেসরকারি পুঁজি ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে পরিকাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। হাইওয়েতে যে মডেল রাস্তা বানিয়েছে সেই মডেল এবার ট্র্যাক বানাবে। ঝুঁকি ভাগ করে নেওয়ার এই পদ্ধতি সফল হলে ভবিষ্যতে আরও অনেক প্রকল্পে একই মডেল ব্যবহার হতে পারে।
