গুরুগাঁও: বিলাসবহুল ইলেকট্রিক এসইউভি বাজারে ভলভো এক্স৯০ (Volvo EX90) একটি নজরকাড়া মডেল। শুধু বড় আকার বা শক্তিশালী পারফরম্যান্স নয়, গাড়িটির ডিজাইন, কেবিন এবং প্রযুক্তির ব্যবহারেও আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। গাড়িটি চালানোর পর এমন কিছু বিষয় সামনে এসেছে, যা একদিকে এক্স৯০-কে আকর্ষণীয় করে তোলে, আবার অন্যদিকে কিছু ক্ষেত্রে প্রশ্নও তুলতে পারে। দেখে নেওয়া যাক, ভলভো এক্স৯০ সম্পর্কে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
১. বাইরে থেকে দেখতে যথেষ্ট প্রিমিয়াম
ভলভো এক্স৯০-এর ডিজাইন প্রথম দেখাতেই নজর কাড়ে। গাড়িটির ফ্লাশ-ফিটিং ডোর হ্যান্ডেল, ফ্রেমলেস ওআরভিএম এবং এমন এলইডি ডিআরএল রয়েছে, যা মাঝখান থেকে খুলে গিয়ে হেডল্যাম্প প্রকাশ করে। এই ডিজাইনের কারণে এক্স৯০ অন্যান্য বিলাসবহুল এসইউভির তুলনায় আলাদা হয়ে ওঠে। ভলভো সাধারণত মিনিমালিস্ট ডিজাইনের জন্য পরিচিত। এক্স৯০-এ সেই দর্শন আরও স্পষ্ট। গাড়িটির বাহ্যিক ডিজাইনে অপ্রয়োজনীয় কোনও উপাদান যোগ না করেও প্রিমিয়াম এবং আধুনিক চেহারা তৈরি করেছে সংস্থা।
২. কেবিনে বিলাসবহুল অনুভূতি
গাড়ির ভিতরে ঢুকলেও একই ধরনের অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। এখানে অপ্রয়োজনীয় বোতাম, অতিরিক্ত স্ক্রিন বা অসংখ্য অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং দিয়ে কেবিন ভরিয়ে দেয়নি ভলভো। বরং সোজা লাইন এবং পরিষ্কার ডিজাইনের মাধ্যমে একটি শান্ত ও পরিশীলিত পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। তবে বর্তমান ভলভো গাড়ির মালিকদের কাছে এই ডিজাইন কিছুটা পরিচিত মনে হতে পারে। কেবিনে প্রিমিয়াম উপকরণের ব্যবহারও নজর কাড়ে। দরজা এবং ড্যাশবোর্ডে লেদারেট প্যাডিং, কাঠের ইনসার্ট এবং ক্রিস্টাল গিয়ারশিফট ডায়ালের মতো উপাদান কেবিনের বিলাসবহুল অনুভূতি বাড়িয়েছে।
৩. অতিরিক্ত সরলতা কখনও অসুবিধাও তৈরি করে
মিনিমালিস্ট ডিজাইন অন্যান্য বিলাসবহুল এসইউভির তুলনায় এক্স৯০-কে সতেজ করে তুলেছে। কিন্তু এই সরলতার কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। গাড়ির ক্লাইমেট কন্ট্রোল, স্টিয়ারিং অ্যাডজাস্টমেন্ট, ওআরভিএম অ্যাডজাস্টমেন্ট এবং হেডল্যাম্প সেটিং-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইনফোটেনমেন্ট টাচস্ক্রিনের মাধ্যমে করতে হয়। চলন্ত অবস্থায় বারবার টাচস্ক্রিনে গিয়ে এই নিয়ন্ত্রণগুলি ব্যবহার করা কিছুটা বিরক্তিকর হতে পারে। অন্যান্য গাড়িতে যে কাজগুলি আলাদা ফিজিক্যাল বোতাম বা সুইচ দিয়ে দ্রুত করা যায়, এক্স৯০-এ সেগুলির জন্য স্ক্রিনে যেতে হয়। ফলে ডিজাইনের সরলতা বজায় থাকলেও ব্যবহারিক দিক থেকে কিছু ক্ষেত্রে আপস করতে হয়েছে।
৪. এক গাড়িতে দুই ধরনের চরিত্র
ভলভো এক্স৯০-এর অন্যতম আকর্ষণ এর দ্বৈত চরিত্র। গাড়িটিতে রয়েছে ৪৬২ হর্সপাওয়ার, গ্রিপযুক্ত অল-হুইল ড্রাইভ ব্যবস্থা এবং মাত্র ৫.৫ সেকেন্ডে ০ থেকে ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে পৌঁছনোর ক্ষমতা। তাই গাড়িটি শুধু আরামদায়ক বিলাসবহুল এসইউভি নয়, প্রয়োজনে যথেষ্ট মজাও দিতে পারে। শহরের রাস্তায় ধীরে এবং স্বাভাবিকভাবে চালালে এক্স৯০ মসৃণ, সহজ এবং অনুমানযোগ্য আচরণ করে। আবার চালক চাইলে এর শক্তিশালী পারফরম্যান্সও উপভোগ করতে পারেন। এর সঙ্গে রয়েছে উন্নত রাইড কোয়ালিটি। অ্যাডাপটিভ ড্যাম্পার রাস্তার ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করে এবং যাত্রীদের পাশাপাশি চালকের জন্যও আরামদায়ক অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
৫. পিছনের সিট আরও ভালো হতে পারত
বিলাসবহুল এসইউভি হিসেবে এক্স৯০-এর পিছনের সিট মোটের ওপর যথেষ্ট আরামদায়ক। এখানে রয়েছে সাপোর্টিভ ক্যাপ্টেন সিট, ভালো বোলস্টারিং এবং পর্যাপ্ত জায়গা। ফলে দীর্ঘ সময় বসে থাকার ক্ষেত্রেও যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্য পাবেন। তবে এই দামের গাড়ি হিসেবে কিছু সুবিধা না থাকাটা চোখে পড়ে। পিছনের যাত্রীদের জন্য সানব্লাইন্ড, ভেন্টিলেশন বা ম্যাসাজ ফাংশন নেই। অথচ এক্স৯০-এর দামের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দামের কিছু ক্রসওভারে এই ধরনের সুবিধা পাওয়া যায়। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সামনের সিটের যাত্রীরা এই ধরনের কিছু সুবিধা পান। ফলে পিছনের সিটে বসা যাত্রীদের জন্য আরও বেশি বিলাসবহুল সুবিধা আশা করা স্বাভাবিক।
ভলভো এক্স৯০-এর সবচেয়ে বড় শক্তি হল এর ভারসাম্য। একদিকে রয়েছে নজরকাড়া ডিজাইন, প্রিমিয়াম কেবিন এবং অসাধারণ রাইড কোয়ালিটি। অন্যদিকে ৪৬২ হর্সপাওয়ার এবং ৫.৫ সেকেন্ডের ০-১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা সময় গাড়িটিকে যথেষ্ট পারফরম্যান্স-ভিত্তিক চরিত্রও দিয়েছে।
তবে অতিরিক্ত মিনিমালিস্ট কেবিন ডিজাইনের কারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করা কঠিন হতে পারে। পিছনের সিটেও আরও কিছু বিলাসবহুল সুবিধা থাকলে গাড়িটির অভিজ্ঞতা আরও সম্পূর্ণ হত। ভলভো এক্স৯০ এমন একটি ইলেকট্রিক এসইউভি, যা শান্ত এবং আরামদায়ক পারিবারিক গাড়ি হিসেবে যেমন কাজ করতে পারে, তেমনই চালকের ইচ্ছা অনুযায়ী শক্তিশালী পারফরম্যান্সও দিতে পারে।
