কেরলে বিশিষ্ট ইসলামি পণ্ডিত ও গ্র্যান্ড মুফতি কান্থাপুরম এপি আবুবাক্কার মুসলিয়ার ফের বিতর্কে(Kanthapuram)। সম্প্রতি নারীদের ভূমিকা নিয়ে তিনি এমন কিছু মন্তব্য করেছেন যা রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছে। কোচিতে এক ইসলামি সম্মেলনে তিনি বলেছেন, নারীদের ঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। তাঁর মতে, নারীদের জনসমক্ষে বা পাবলিক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এলে “বড় ধরনের ধ্বংস” নেমে আসতে পারে।
এই কারণেই ইসলামে পর্দা প্রথার বিধান রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। (Kanthapuram)তিনি নারীদের তুলনা করেছেন সোনার নেকলেসের সঙ্গে। বলেন, একটা নেকলেসের সৌন্দর্য ধরে রাখতে হলে সেটিকে নিরাপদে বাক্সের ভিতরে রাখতে হয়। রাস্তায় ফেলে রাখলে সবাই হাত দিয়ে স্পর্শ করবে এবং তার মান ও সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে। একইভাবে নারীদেরও ঘরের বাইরে বের করে আনলে সমাজে বড় ক্ষতি হতে পারে।
আরও দেখুনঃ কে বেশি চিকেন খেয়েছে! বচসার জেরে পার্টিতে ছুরি মেরে খুন যুবক
বাবরের দেশ থেকে সর্বোচ্চ সম্মান! মোদীকে কটাক্ষ ওয়াইসির
কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, নারীদের ঘরের মধ্যেই থাকতে হবে এবং জনসমক্ষে উপস্থিত হওয়া উচিত নয়।এই মন্তব্য এসেছে সাম্প্রতিক এক সার্কুলারের পর। সামস্থা কেরল জমিয়াতুল উলামার কান্থাপুরম গোষ্ঠী গত সপ্তাহে এক নির্দেশনায় বলেছিল, নারীরা পুরুষদের সঙ্গে একই মঞ্চে বা জনসমক্ষে উপস্থিত থাকবেন না। ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও অনুষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যেই রাখতে হবে।
এই সার্কুলার নিয়েই ইতিমধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছিল। নারী রাজনৈতিক নেতারা ও বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই কান্থাপুরম (Kanthapuram)তাঁর অবস্থান রক্ষা করে এই বক্তব্য রাখেন।তিনি বলেন, এমন শিক্ষা প্রায় একশো বছর ধরে ধর্মীয় পণ্ডিতরা, বিশেষ করে সামস্থার নেতারা দিয়ে আসছেন। সেই কারণেই দেশের নারীরা তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখতে পেরেছেন। তিনি দাবি করেন, এই নিষেধাজ্ঞা নারীদের অবমূল্যায়ন করার জন্য নয়, বরং তাঁদের সম্মান ও সুরক্ষার জন্যই।
ইসলাম নারীদের উচ্চ মর্যাদা দিয়েছে, সম্পত্তির অধিকার দিয়েছে এমন কথাও তিনি উল্লেখ করেন।তবে এই বক্তব্যের পরপরই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিরোধী সিপিআই(এম) এটিকে “অবমাননাকর” ও “অপমানজনক” বলে অভিহিত করেছে। নারী অধিকারকর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন প্রশ্ন তুলেছে যে একবিংশ শতাব্দীতে এসে নারীদের ঘরে বন্দি রাখার কথা বলা কতটা যৌক্তিক।
কেরলের মত শিক্ষিত ও সামাজিকভাবে অগ্রসর রাজ্যে এ ধরনের মন্তব্য বিস্ময় ও ক্ষোভ দুটোই জাগিয়েছে।অনেকের মতে, ধর্মীয় স্বাধীনতার নামে নারীদের স্বাধীনতা ও কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ সীমিত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে কান্থাপুরমের সমর্থকরা বলছেন, তিনি শুধু ধর্মীয় বিধান ব্যাখ্যা করছেন এবং সমালোচনা সত্ত্বেও সত্য কথা বলার দায়িত্ব পালন করছেন।
