লখনউ: নেপালে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট মহাপ্রলয়ের মর্মান্তিক ছবি এবার ধরা পড়ল ভারতের মাটিতেও। গত দু’দিনে উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জ এবং কুশীনগর জেলায় গণ্ডক নদীর স্রোত থেকে অন্তত ১০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, নেপালের ভয়াল হড়পা বানে ভেসে আসা নিখোঁজ মানুষদেরই দেহ এগুলি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের ভোতে কোশী ও ত্রিশূলী নদীর প্রমত্ত স্রোত ভারতে গণ্ডক নদী নামে প্রবেশ করায় এই মৃতদেহগুলি ভেসে এসেছে।
উদ্ধারকাজ ও প্রশাসনিক তৎপরতা
প্রশাসন সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার মহারাজগঞ্জে নদীর প্রবল স্রোতের মধ্যে দু’জন মহিলা-সহ তিনজনের দেহ ভাসতে দেখে সশস্ত্র সীমা বল (SSB)-এর উদ্ধারকারী দল। মোটরবোটের সাহায্যে দেহগুলি উদ্ধার করে স্থানীয় মর্গে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, শুক্রবার প্রতিবেশী কুশীনগর জেলার খাড্ডা এলাকার মদনপুর-সুক্রাউলিতে ব্যারেজের ৩ নম্বর পিয়ারের কাছ থেকে আরও তিনটি দেহ উদ্ধার করে এসডিআরএফ (SDRF)।
পরিচয় জানতে নেপালের সঙ্গে যোগাযোগ
উদ্ধার হওয়া দেহগুলির পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তবে এরা নেপালের বন্যায় নিখোঁজ হওয়া কয়েক হাজার মানুষেরই অংশ কি না, তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই নেপাল প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ভারত।
ভেসে আসছে ধ্বংসাবশেষ, কড়া সতর্কতা
নদীর জলে শুধু মৃতদেহ নয়, ভেসে আসছে ধ্বংসের আরও নানা চিহ্ন। গাড়ি, গৃহস্থালির সামগ্রী, গ্যাস সিলিন্ডার, আসবাবপত্র এবং কাঠের বড় বড় গুঁড়ি ভেসে এসে নদীর পাড়ে জমছে। এই সব সামগ্রী নদী থেকে তুলতে ভিড় জমাচ্ছেন প্রচুর স্থানীয় মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন কড়া সতর্কতা জারি করেছে। গ্রামবাসীদের জলে নামতে নিষেধ করার পাশাপাশি নদীতে সন্দেহজনক কিছু ভাসতে দেখলে অবিলম্বে পুলিশকে খবর দিতে বলা হয়েছে।
গত ২৬ অগাস্ট নেপালের রাসুয়া অঞ্চলে আচমকা জলস্তর বাড়ার ফলে এই হড়পা বানের সৃষ্টি হয়, যাতে কয়েকশো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ভারতে জলস্তর কিছুটা কমলেও নদীর স্রোত এখনও প্রবল। তাই আগামী দিনে আরও মৃতদেহ বা ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গণ্ডকের তীরবর্তী স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে এসএসবি, এসডিআরএফ এবং জেলা পুলিশের নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
বাংলাদেশের রাস্তায় ‘অ্যান্টি-ইন্ডিয়া’ গ্রাফিতি! বিদ্যুৎ সংকটকে হাতিয়ার করে ভারতবিরোধী প্রচার
এক ধাক্কায় প্রায় ৪ টাকা বাড়ল সিএনজি-র দাম, রাজ্যে রাজ্যে ভাড়াবৃদ্ধির আতঙ্ক
