ঢাকা: বাংলাদেশে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটকে কেন্দ্র করে ভারতবিরোধী (Anti-India)প্রচার আরও জোরদার করার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দেওয়াল লিখন বা গ্রাফিতির মাধ্যমে ভারতের বিরুদ্ধে জনমত উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই প্রচারের নেপথ্যে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স বা ISI-এর (Anti-India)প্রভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনও সরকারি তথ্য এখনও সামনে আসেনি। ফলে গোটা বিষয়টি ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপানউতোর।
আরও দেখুনঃ রাষ্ট্রসংঘের নিকোবর প্রকল্প স্থগিতের আবেদন সম্পূর্ণ খারিজ করল মোদী সরকার
সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একটি ছবিকে ঘিরে এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। (Anti-India)ছবিতে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র রামপাল থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টকে কেন্দ্র করে ভারতবিরোধী বার্তা ছড়ানোর অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ, বাংলাদেশের বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের জন্য ভারতকে দায়ী করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। শুধু তাই নয়, এই ধরনের প্রচারের মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধেও জনরোষ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি উঠেছে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ (Anti-India)মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি, লোডশেডিং এবং জ্বালানি সংক্রান্ত সমস্যার প্রভাব বিভিন্ন জায়গায় পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে কোনও বিদেশি শক্তি ভারতবিরোধী প্রচার চালাচ্ছে কি না, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্যের পরিবর্তে দেওয়াল লিখন, পোস্টার এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মতো মাধ্যম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পাকিস্তানি ISI-এর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নতুন নয় (Anti-India)। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় ভারতবিরোধী প্রচার, ভুয়ো তথ্য এবং উসকানিমূলক কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে কোনও নির্দিষ্ট প্রচারের পিছনে ISI সরাসরি যুক্ত রয়েছে কি না, তা প্রমাণের জন্য গোয়েন্দা তদন্ত এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। বর্তমানে যে অভিযোগ সামনে এসেছে, তার ক্ষেত্রেও সেই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার রামপালে অবস্থিত এই তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পে ভারতীয় সংস্থার অংশগ্রহণ রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ভারত-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রসঙ্গে এই প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সেই কারণেই রামপালকে ভারতবিরোধী প্রচারের একটি প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিদ্যুৎ সংকটের মতো স্পর্শকাতর বিষয়কে কেন্দ্র করে জনমত দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।(Anti-India) কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যার দায় অন্য দেশের উপর চাপিয়ে দিলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর সেই ক্ষোভ যদি নির্দিষ্ট কোনও দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে।
