Digital Payment: আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ব্রিকস (BRICS) সম্মেলন। ব্রিকস সম্মেলনে ভারত, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহজ ও দ্রুত ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিতে পারে। পাশাপাশি, ভারত ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোতে ‘সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল কারেন্সি’ বা সিবিডিসি (CBDC)-র ব্যবহার প্রসারের ওপরও জোর দেবে। উল্লেখ্য, সংস্থাটির ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবেই ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে এই ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা সহজতর করার লক্ষ্যে একটি উন্নত ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা করতে চায়। পাশাপাশি, ব্রিকস (BRICS) দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে জাতীয় মুদ্রার ব্যবহার বৃদ্ধির উপায় নিয়েও বিবেচনা করা হবে।
আগামী সপ্তাহে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবহারের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলো সম্পর্কে ধারণা লাভ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। এটি ব্রিকস (BRICS) দেশগুলোর মধ্যে নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য বৃদ্ধির উপায়গুলোও খতিয়ে দেখবে। তবে ভারতের এই উদ্যোগটি অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়; এর মূল লক্ষ্য হলো ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও ডিজিটাল লেনদেন সহজতর করা।
এছাড়া ভারত এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে যা বিভিন্ন দেশের দ্রুত পেমেন্ট বা অর্থ আদান-প্রদান ব্যবস্থাকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করতে সক্ষম হবে; এর ফলে আন্তঃসীমান্ত পেমেন্ট প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে এবং লেনদেন খরচ কমে আসবে।
আন্তঃকার্যক্ষমতা (Interoperability) হলো সিবিডিসি (CBDC)-র ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, আরবিআই (RBI), ইতিমধ্যেই একটি সিবিডিসি পাইলট প্রকল্প পরিচালনা করছে। বর্তমানে আরবিআই ব্রিকস (BRICS) দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে সিবিডিসি-র সম্ভাব্য ব্যবহারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে।
তবে, অধিকাংশ দেশেই সিবিডিসি (CBDC) এখনো পুরোপুরি চালু করা হয়নি। বিভিন্ন দেশ এগুলোর ব্যবহার, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই-বাছাই করে দেখছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ‘ইন্টারঅপারেবিলিটি’ বা আন্তঃকার্যক্ষমতা—অর্থাৎ, বিভিন্ন দেশের ডিজিটাল মুদ্রা ও পেমেন্ট ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ স্থাপন করা। এটি বাস্তবায়নের জন্য দেশগুলোকে তাদের প্রযুক্তি ও নীতিমালার মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করতে হবে। চিন-সহ ব্রিকস (BRICS) জোটের কয়েকটি দেশ ডিজিটাল মুদ্রা নিয়ে ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম (পাইলট প্রজেক্ট) পরিচালনা করছে।
বাণিজ্য সহজীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ
ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের আলোচনায় শুল্ক সংক্রান্ত সহযোগিতা চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এর লক্ষ্য হলো বাণিজ্য ত্বরান্বিত করা, লেনদেন-সংক্রান্ত খরচ কমানো, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং অবৈধ বাণিজ্য রোধ করা। এছাড়া, সরবরাহ ব্যবস্থাকে (supply chain) আরও শক্তিশালী, দক্ষ ও স্থিতিস্থাপক করে তোলার লক্ষ্যে ২০২৬-৩০ সময়কালে বৈশ্বিক মূল্য সংযোজন শৃঙ্খল (global value chains) বিষয়ক সহযোগিতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
