পূর্ব মেদিনীপুর: তমলুক মহাবিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতিতে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে (Tamluk College)। স্থানীয় সূত্র ও ছাত্র সংগঠনের দাবি অনুসারে, এসএফআই-এর কিছু কর্মী প্রতিটি ছাত্রের কাছ থেকে ১০ টাকা করে সংগ্রহ করার চেষ্টা করছিলেন। এই খবর পেয়ে এবিভিপি-র সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের মুখোমুখি হন এবং পরে এসএফআই কর্মীদের সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করেন।
SFI members were allegedly collecting ₹10 from each student at Tamluk Mahavidyalaya.
ABVP members spotted them and confronted them, forcing them to Leave. 🔥
=> Meanwhile, CM Suvendu Adhikari has BACKED ABVP after a Bengali media group labelled the ABVP students “SAFFRON…
— Megh Updates 🚨™ (@MeghUpdates) August 29, 2026
ঘটনাটি কলেজ চত্বরে ছোটখাটো বিতর্কের জন্ম দিলেও বড় কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। (Tamluk College)এসএফআই দাবি করেছে তারা ছাত্রদের সাহায্য করতে গিয়েছিলেন, অন্যদিকে এবিভিপি বলেছে জোর করে চাঁদা তোলার চেষ্টা রুখে দেওয়া হয়েছে।এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও দেখুনঃ প্রেসিডেন্সিতে আফতাবের সেলে মোবাইল, রাউটার, নগদ! জেলে বসেই পাক যোগ?
রাজনৈতিক জট কাটিয়ে ডবল ইঞ্জিনে ভর করে অশোকনগরে শুরু হল অপরিশোধিত তেল উত্তোলন
আদালতের নির্দেশ ভেঙে রাস্তা আটকে সভা! মমতার বিরুদ্ধে FIR-এর নির্দেশ শুভেন্দুর
সম্প্রতি এক বাংলা সংবাদমাধ্যম এবিভিপি ছাত্রদের কার্যকলাপকে ‘গেরুয়া তান্ডব’ বলে অভিহিত করেছিল। এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে সরাসরি সমালোচনা করে বলেছেন, গেরুয়া রঙ শুধু রাজনৈতিক রং নয়। এটি স্বামী বিবেকানন্দ, চৈতন্য মহাপ্রভু ও অন্যান্য আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত।
তিনি সেই শব্দপ্রয়োগ প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে এবিভিপির ছাত্রদের পক্ষে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন এবং এ ধরনের তকমা দেওয়ার চেষ্টাকে তিনি মেনে নেবেন না।পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়েছে।
এসএফআই (Tamluk College)দীর্ঘদিন ধরে বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করে আসছিল। অন্যদিকে এবিভিপি গত কয়েক মাসে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে তাদের উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তমলুকের মতো ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি মুখোমুখি হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও বড় ধরনের উত্তেজনা এড়ানো গেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং কলেজ কর্তৃপক্ষকে শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জাতীয়তাবাদী চেতনাকে সন্ত্রাস বলে অভিহিত করার কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে তিনি সংবাদমাধ্যমকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে এ ধরনের শব্দপ্রয়োগের পরিণতি ভালো হবে না। তাঁর এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এবিভিপি সমর্থকরা মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্যদিকে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো বলছে, ক্যাম্পাসে কোনো সংগঠনের একচেটিয়া আধিপত্য চলতে পারে না এবং ছাত্রদের অধিকার রক্ষাই তাদের লক্ষ্য।
তমলুক মহাবিদ্যালয়ের (Tamluk College)ঘটনাটি এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। কেউ কেউ বলছেন, ছোট অঙ্কের টাকা সংগ্রহের অভিযোগ আগেও বিভিন্ন ক্যাম্পাসে উঠেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ছাত্র ইউনিয়নের নামে বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের খরচ হিসেবে নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়। তবে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার বলে মনে করছেন অনেকে। কলেজ প্রশাসন এখনও কোনো সরকারি বিবৃতি দেয়নি। পুলিশও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।
