মালদহ মেডিক্যালে ৩ সপ্তাহে ৬০ শিশুর মৃত্যু, একদিনে ১০ মৃত্যু ঘিরে তদন্ত

মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে অগস্টের প্রথম তিন সপ্তাহে ৬০ শিশুর মৃত্যু (Child Deaths) ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় সপ্তাহের একটি দিনেই ১০…

Malda Medical College

মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে অগস্টের প্রথম তিন সপ্তাহে ৬০ শিশুর মৃত্যু (Child Deaths) ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় সপ্তাহের একটি দিনেই ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতর।

Advertisements

শুধু মেডিক্যাল কলেজের পরিস্থিতিই নয়, যে বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোম এবং ব্লক স্তরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে অসুস্থ শিশুদের মালদহ মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছিল, সেগুলিও তদন্তের আওতায় এসেছে। ইতিমধ্যেই একাধিক হাসপাতাল ও নার্সিংহোম পরিদর্শন করেছেন তদন্তকারীরা।

   

আরও পড়ুন: নেপালে বিপর্যয়: নিখোঁজ বসিরহাটের শিক্ষক দম্পতি-সহ বাংলার ৩ পর্যটক!

একদিনে ১০ শিশুর মৃত্যু

মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার প্রণজিৎ বার একদিনে ১০ শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ১০ জনের মধ্যে আটজনকে অন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে জন্মের পর গুরুতর অবস্থায় মালদহ মেডিক্যালে নিয়ে আসা হয়েছিল। বাকি দু’জনের জন্ম হয়েছিল মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালেই।

Advertisements

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই শিশুদের অনেকেই অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছেছিল। ফলে মৃত্যুর পিছনে শুধুমাত্র মালদহ মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসা পরিষেবাকে দায়ী করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।

অগস্টে মোট ৬০ শিশুর মৃত্যু

স্বাস্থ্য দফতরের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অগস্টের প্রথম তিন সপ্তাহে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মোট ৬০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই ৬০ জনের মধ্যে ৪৪ জন এমন শিশু, যাদের জন্ম হয়েছিল অন্য হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল।

অর্থাৎ মৃত শিশুদের একটি বড় অংশ গুরুতর অবস্থায় মালদহ মেডিক্যালে পৌঁছেছিল। এই শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা কোথায় হয়েছিল এবং কখন তাদের মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: পরীক্ষার নামে রোগীর যৌন হেনস্থা, কর্তব্যে গাফিলতি! কল্যাণী জেএনএম-এ হুলস্থূল

শ্বাসকষ্ট, জন্ডিস-সহ একাধিক সমস্যা

চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মৃত নবজাতকদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা ছিল। এর মধ্যে শ্বাসকষ্ট, জন্ডিস এবং জন্মগত হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা রয়েছে। নবজাতকদের ক্ষেত্রে এই ধরনের জটিলতা দ্রুত গুরুতর আকার নিতে পারে। তাই শিশুদের জন্মের পর কোথায় চিকিৎসা শুরু হয়েছিল, তাদের শারীরিক অবস্থার কী পরিবর্তন হয়েছিল এবং কত দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।

১৬টি হাসপাতাল ও নার্সিংহোম পরিদর্শন

মালদহ মেডিক্যাল কলেজে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে তদন্ত শুরু করার পাশাপাশি জেলার অন্যান্য স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ১৬টি হাসপাতাল এবং নার্সিংহোম পরিদর্শন করেছেন আধিকারিকরা। মৃত শিশুদের মধ্যে যাদের অন্য জায়গায় জন্ম হয়েছিল বা প্রথমে চিকিৎসা হয়েছিল, সেই প্রতিষ্ঠানগুলির পরিষেবা ও রেফার করার প্রক্রিয়াও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিশুদের মালদহ মেডিক্যালে পাঠানোর আগে তাঁদের কী ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল, সেই বিষয়টিও বোঝার চেষ্টা চলছে।

প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়েছে

ঘটনা নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই তদন্তের একটি প্রাথমিক রিপোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি তদন্তকারী দল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট পাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হতে পারে। মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার প্রণজিৎ বার জানিয়েছেন, হাসপাতাল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের জন্য বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করছে।

বৃহস্পতিবার বৈঠক করবেন জেলাশাসক

পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার মালদহের জেলাশাসকের বৈঠক করার কথা রয়েছে। সেখানে চলতি তদন্তের অগ্রগতি এবং এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করা হবে।

মালদহ মেডিক্যাল কলেজে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের প্রেক্ষিতে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে অন্য হাসপাতাল ও নার্সিংহোম থেকে গুরুতর অবস্থায় রেফার হওয়া শিশুদের সংখ্যা এবং তাদের চিকিৎসার ইতিহাস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য থেকে স্পষ্ট, মৃত শিশুদের একটি বড় অংশ মালদহ মেডিক্যালে পৌঁছনোর আগেই গুরুতর অসুস্থ ছিল। তাই পুরো বিষয়টি বুঝতে শুধু মেডিক্যাল কলেজ নয়, শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং রেফারাল ব্যবস্থার দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই ৬০ শিশুর মৃত্যুর সামগ্রিক কারণ এবং কোথাও চিকিৎসা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।

Advertisements