দিল্লিতে হু হু করে বাড়ছে H1N1 সংক্রমণ! নয়া স্ট্রেন নিয়ে কী বলছে ICMR?

নয়াদিল্লি: রাজধানীতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এইচ১এন১ (H1N1) ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সোয়াইন ফ্লু আক্রান্তের সংখ্যা। হাসপাতালগুলির আউটডোরে (OPD) শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে আসা রোগীর ভিড় ক্রমশ বাড়ছে।…

নয়াদিল্লি: রাজধানীতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এইচ১এন১ (H1N1) ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সোয়াইন ফ্লু আক্রান্তের সংখ্যা। হাসপাতালগুলির আউটডোরে (OPD) শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে আসা রোগীর ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। গত বছরের তুলনায় এবার সংক্রমণের হার রীতিমতো উদ্বেগজনক। তবে কি ভাইরাসের কোনও নতুন বা মারাত্মক ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়েছে? ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR) অবশ্য তেমন জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, আতঙ্কের কোনও কারণ নেই।

Advertisements

উদ্বেগ বাড়াচ্ছে পরিসংখ্যান

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর এখনও পর্যন্ত দিল্লিতে ১৭৭৭ জন এইচ১এন১-এ আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র ২০ অগাস্টেই ১১৪ জন নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন। গত বছর ঠিক এই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ২২৯। এ বছর দিল্লিতে ইনফ্লুয়েঞ্জা ‘এ’ এবং ‘বি’ মিলিয়ে মোট ২৬০২ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে সিংহভাগই এইচ১এন১ (H1N1)।

   

কী বলছে আইসিএমআর (ICMR)?

সংক্রমণ বাড়লেও আইসিএমআর-এর বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশে এইচ১এন১-এর কোনও নতুন স্ট্রেন ছড়ায়নি। বর্তমানে যে ভাইরাসটি ছড়াচ্ছে, সেটি ২০২৫ সাল থেকেই দেশে সক্রিয় রয়েছে এবং নর্দান হেমিস্ফিয়ারের জন্য প্রস্তাবিত ভ্যাকসিনের সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

উপসর্গে বদল, কী বলছেন চিকিৎসকরা?

নতুন স্ট্রেন না হলেও, চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন যে এবারের সংক্রমণ বেশ জোরালো। এইমসের (AIIMS) মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. অনিমেষ বলেন, “ভাইরাসের জিনগত সামান্য পরিবর্তনের (Antigenic drift) কারণে মানুষের শরীরে তার বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এখন সেটাই হচ্ছে। প্রতিদিন ১৫-২০ জন ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্ত রোগী দেখছি। অনেকের শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়া হচ্ছে। তবে এবার ডায়েরিয়া বা কিডনির সমস্যার মতো উপসর্গও দেখা যাচ্ছে।”

Advertisements

ফোর্টিস হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নেহা রাস্তোগি জানান, “প্রথম ৩-৪ দিন প্রচণ্ড জ্বর থাকছে। কাশি দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে যা সহজে কমতে চাইছে না। এর পাশাপাশি এবার শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার সঙ্গে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল উপসর্গ, যেমন, ডায়েরিয়া এবং পেটে ব্যথার প্রকোপ অনেক বেশি।”

কাদের ঝুঁকি বেশি ও কী করণীয়?

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই ফ্লু মৃদু প্রকৃতির। তবে যাঁদের আগে থেকেই ফুসফুসের সমস্যা বা অন্যান্য কো-মর্বিডিটি রয়েছে, বয়স্ক মানুষ এবং শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতা বাড়ছে। অনেককে আইসিইউ-তে (ICU) অক্সিজেন সাপোর্টেও রাখতে হচ্ছে।

পিএসআরআই (PSRI) ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ডা. জিসি খিলনানি বলেন, “আক্রান্ত হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ (যেমন Oseltamivir) শুরু করলে সবচেয়ে ভালো ফল মেলে। তবে সবার এই ওষুধের প্রয়োজন নেই। কো-মর্বিডিটি থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।”

চিকিৎসকদের মোদ্দা কথা আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতার। ভিড় এড়াতে মাস্কের ব্যবহার, হাত পরিষ্কার রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ক্ষেত্রে ফ্লু ভ্যাকসিন নেওয়ার ওপরেই জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্পূর্ণ ভারতীয় উপাদানে তৈরী নতুন AK ২০৩ র পরীক্ষা সফল! সেনাবাহিনীকে ভরসা জোগাল মেড ইন ইন্ডিয়া

চিনির পর এবার পেঁয়াজেও ছ্যাঁকা! উৎসবের মরশুমে পকেটে টান আমজনতার

Advertisements