গুরুগাঁও: নতুন পালসার ১২৫ এবং পালসার ১৫০ ভারতে বাজারে আনার পর আগামী কয়েক মাসে আরও তিনটি নতুন মডেল বাজারে আনার পরিকল্পনা করেছে বাজাজ অটো (Bajaj Auto)। পাশাপাশি দুটি নতুন ব্র্যান্ডও চালু করবে সংস্থা। নতুন ক্রেতাদের আকর্ষণ করার পাশাপাশি পুরনো ক্রেতাদের ফের নিজেদের মডেলের দিকে টানাই এই পরিকল্পনার লক্ষ্য। উৎসবের মরশুমে মোটরসাইকেল ও স্কুটারের চাহিদা নিয়েও যথেষ্ট আশাবাদী বাজাজ অটো।
সোমবার নতুন পালসার ১২৫ এবং পালসার ১৫০ বাজারে এনেছে বাজাজ অটো। দিল্লিতে এই দুই মোটরসাইকেলের প্রারম্ভিক এক্স-শোরুম দাম যথাক্রমে ৯২,৯০০ টাকা এবং ১.১৫ লক্ষ টাকা। নতুন মডেলগুলিতে একাধিক নতুন প্রযুক্তি ও বৈশিষ্ট্য যোগ করা হলেও পালসার সিরিজের মূল চরিত্র ধরে রাখা হয়েছে।
Also Read | চার-দরজার Ford Mustang আসছে? ৪ সেকেন্ডের কমে ১০০ কিমি গতি!
বাজাজ অটোর ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাকেশ শর্মা নতুন মডেল দুটির উদ্বোধনের পর বলেন, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে তিনটি নতুন পণ্য বাজারে আনা হবে। পাশাপাশি সংস্থা দুটি নতুন ব্র্যান্ড চালু করার পরিকল্পনাও করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর থেকে এখনও পর্যন্ত বাজাজ অটো ১২টি নতুন মডেল বাজারে এনেছে।
শর্মা জানান, ১২৫ সিসি এবং ১৫০ সিসি পালসারের মতো কয়েকটি মডেল দীর্ঘদিন বড় ধরনের আপডেট না পাওয়ায় এই বিভাগে কিছুটা আগ্রহের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। নতুন পালসার ১২৫ এবং পালসার ১৫০-এর আপডেটেড সংস্করণ সেই পরিস্থিতি বদলাতে সাহায্য করবে বলে আশা করছে সংস্থা। এর মাধ্যমে নতুন ক্রেতাদের পাশাপাশি ইতিমধ্যে পালসার ব্যবহার করছেন এমন গ্রাহকদেরও নতুন মডেলের দিকে আকৃষ্ট করা যাবে বলে মনে করছে বাজাজ।
বাজাজ অটোর বিক্রিতেও সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জুলাই মাসে সংস্থার মোট বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেড়ে ৪,৭৪,৬৭৭ ইউনিট হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে মোট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩,৬৬,০০০ ইউনিট। দেশের বাজারে সংস্থার মোট বিক্রি ২০ শতাংশ বেড়ে ২,২০,১৯২ ইউনিট হয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল ১,৮৩,১৪৩ ইউনিট।
Also Read | মেক ইন ইন্ডিয়ায় ফের বড় ঘোষণা! দেশীয় যুদ্ধ বিমান তৈরিতে রিলায়েন্সের সঙ্গে হাত মেলাল রোলস রয়েস
দেশের বাজারে বাজাজের দুই-চাকার গাড়ির বিক্রিও জুলাইয়ে ১৯ শতাংশ বেড়ে ১,৬৫,৭৪৭ ইউনিট হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এই সংখ্যা ছিল ১,৩৯,২৭৯ ইউনিট। তবে পালসার ১২৫ এবং পালসার ১৫০-এর বিক্রিতে সাম্প্রতিক সময়ে চাপ দেখা গিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, পালসার ১২৫-এর বিক্রি এক বছরে ৩৮ শতাংশ এবং পালসার ১৫০-এর বিক্রি ৬৭ শতাংশ কমেছে।
বাজাজ অটোর দুই-চাকা ব্যবসার প্রধান সারং কানাডে বলেন, বর্তমানে দেশের দুই-চাকার গাড়ির বাজার প্রায় ১২ শতাংশ হারে বাড়ছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেল বিভাগে বৃদ্ধির হার প্রায় ১০ শতাংশ। স্কুটারের বৃদ্ধির হার কিছুটা বেশি হলেও বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার প্রায় ৮০ শতাংশ হারে বাড়ছে।
উৎসবের মরশুমের বাজার নিয়েও যথেষ্ট আশাবাদী বাজাজ। কানাডের মতে, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধ এবং উৎসবের মরশুমে দুই-চাকার গাড়ির বিক্রি ভালো থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ১২৫ সিসি বিভাগে স্বল্পমেয়াদি প্রবণতা বাজারের অন্যান্য অংশের তুলনায় এখনও ততটা শক্তিশালী নয়।
তবে দীর্ঘমেয়াদি ছবিটি ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ইতিবাচক বলে মনে করছে বাজাজ। কানাডে জানান, প্রায় তিন বছর আগে দেশের মোট মোটরসাইকেল বাজারে ১২৫ সিসি বিভাগের অংশ ছিল প্রায় ২৫ শতাংশ। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২৮ শতাংশ হয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই বিভাগ ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে বলে মনে করছে সংস্থা।
তিনি আরও জানান, নতুন মডেলগুলির দাম বাড়ানো হলেও সেই অতিরিক্ত খরচের একটি অংশ ক্রেতাদের ওপর চাপানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও জুলাই ও আগস্টে চাহিদা যথেষ্ট শক্তিশালী রয়েছে। অতীতে বাজারে একাধিক দফায় দ্রুত মূল্যবৃদ্ধি ও অন্যান্য চাপ দেখা গেলেও সেই তীব্রতার বড় অংশ ইতিমধ্যেই পেরিয়ে এসেছে বলে মনে করছে বাজাজ অটো।
নতুন পালসার ১২৫ ও পালসার ১৫০-এর পর আগামী ৪৫ দিনে আরও তিনটি নতুন পণ্য এবং দুটি নতুন ব্র্যান্ড বাজারে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উৎসবের মরশুমে বাজাজ অটোর মডেলভিত্তিক উপস্থিতি আরও বাড়বে। সংস্থার আশা, নতুন পণ্য, আপডেটেড প্রযুক্তি এবং উৎসবের মরশুমের বাড়তি চাহিদা মিলিয়ে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বিক্রিতে আরও গতি আসবে।
