মেমরি চিপে চাপে অ্যাপল! iPhone 18 Pro-এর দাম বাড়তে পারে

কলকাতা: অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের iPhone 18 Pro বাজারে আসার আগেই এর দাম নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। মেমরি চিপ-সহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় নতুন…

iphone-18-pro-price-hike-memory-chip-cost-apple

কলকাতা: অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের iPhone 18 Pro বাজারে আসার আগেই এর দাম নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। মেমরি চিপ-সহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় নতুন আইফোনের উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে। সেই চাপের কিছুটা ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে অ্যাপল। এখনও পর্যন্ত আইফোন ১৮ সিরিজের দাম বা আনুষ্ঠানিক লঞ্চের তারিখ ঘোষণা করেনি অ্যাপল। কিন্তু, নতুন আইফোন ১৮ প্রো-এর দাম ঠিক কতটা বাড়বে, আদৌ বাড়বে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

Advertisements

মেমরি চিপের দামেই বড় চাপ

ব্লুমবার্গের মার্ক গুরম্যানের তথ্য অনুযায়ী, মেমরি চিপ-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের দাম বাড়ায় অ্যাপল তাদের আসন্ন কিছু আইফোনের দাম বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এদিকে বাজার গবেষণা সংস্থা ট্রেন্ডফোর্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও স্মার্টফোন নির্মাতাদের ওপর বাড়তে থাকা খরচের চাপের ছবি উঠে এসেছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২৫৬ জিবি আইফোন ১৮ প্রো-এর যন্ত্রাংশের খরচ ২০২৫ সালের আগের মডেলের তুলনায় ৩৮ শতাংশ বেশি হতে পারে। দাম বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ মেমরি চিপের দাম বৃদ্ধি।

   

আইফোন ১৮ প্রো-এর যন্ত্রাংশের খরচে মেমরির অংশ বাড়ছে

ট্রেন্ডফোর্সের অনুমান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে আইফোন ১৮ প্রো-এর মোট যন্ত্রাংশের খরচের প্রায় ৩৪ শতাংশ মেমরির পেছনে যেতে পারে। এক বছর আগে এই অংশ ছিল প্রায় ১০ শতাংশ। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে আইফোনের উৎপাদন খরচে মেমরি সংক্রান্ত ব্যয়ের গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। মেমরি চিপের দাম বৃদ্ধির প্রভাব অবশ্য শুধু অ্যাপলের ওপর পড়ছে না। স্মার্টফোনের পাশাপাশি অন্যান্য ভোক্তা ইলেকট্রনিক্স পণ্যের নির্মাতারাও এই বাড়তি খরচের মুখে পড়ছে।

বাড়তি খরচ কি ক্রেতাদের দিতে হবে?

মেমরি এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশের দাম বাড়লে অ্যাপলের সামনে মূলত দুটি পথ থাকবে। প্রথমত, সংস্থা বাড়তি উৎপাদন খরচের একটি অংশ নিজেরাই বহন করতে পারে। সেক্ষেত্রে আইফোন বিক্রি থেকে অ্যাপলের লাভের পরিমাণ বা মার্জিন কমতে পারে। দ্বিতীয়ত, বাড়তি খরচের একটি অংশ নতুন আইফোনের দামের সঙ্গে যোগ করে ক্রেতাদের ওপর চাপানো হতে পারে। ট্রেন্ডফোর্সের মতে, অ্যাপল প্রতিযোগিতামূলক দাম বজায় রাখা এবং আইফোনের বিক্রির পরিমাণ ধরে রাখার জন্য কম মার্জিন মেনে নেওয়ার কথাও বিবেচনা করতে পারে। যন্ত্রাংশের খরচ বাড়লেও অ্যাপল সরাসরি পুরো খরচ ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দেবে, এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

Advertisements

পুরনো আইফোনের দামও বদলাতে পারে

শুধু আইফোন ১৮ সিরিজের দাম নয়, অ্যাপল পুরনো আইফোন মডেলগুলির দামেও পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন মডেল বাজারে আসার সময় আগের প্রজন্মের আইফোনের দাম কমানো অ্যাপলের প্রচলিত কৌশলগুলির একটি। তবে উৎপাদন খরচের বর্তমান পরিস্থিতিতে সংস্থাকে নতুন করে মূল্য নির্ধারণের কৌশল ঠিক করতে হতে পারে। ফলে আইফোন ১৮ সিরিজের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে মেমরি চিপের বাজারদর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

আইফোন ১৮ প্রো-এর দাম কত হতে পারে?

এই মুহূর্তে আইফোন ১৮ প্রো-এর সম্ভাব্য নতুন দাম সম্পর্কে নিশ্চিত কোনও তথ্য নেই। অ্যাপল এখনও আইফোন ১৮ সিরিজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। ফোনটির সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন, দাম এবং নির্দিষ্ট লঞ্চের তারিখও প্রকাশ করা হয়নি। তাই মেমরি চিপের খরচ ৩৮ শতাংশ বাড়তে পারে বলে ট্রেন্ডফোর্সের যে হিসাব, সেটিকে সরাসরি আইফোনের খুচরো দামে ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধির সঙ্গে সমান করা যাবে না। একটি ফোনের চূড়ান্ত দামের মধ্যে যন্ত্রাংশের পাশাপাশি উৎপাদন, সফটওয়্যার, পরিবহণ, বিপণন এবং অন্যান্য খরচও থাকে।

লঞ্চের আগে নজরে মেমরি বাজার

আইফোন ১৮ প্রো-এর দাম বাড়বে কি না, শেষ পর্যন্ত তা নির্ভর করবে অ্যাপলের মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত এবং যন্ত্রাংশের বাজার পরিস্থিতির ওপর। তবে মেমরি চিপের দাম যদি উচ্চস্তরে থাকে, তাহলে নতুন আইফোনের উৎপাদন খরচের ওপর তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অ্যাপল সেই বাড়তি খরচ নিজেরা বহন করবে, নাকি তার কিছুটা ক্রেতাদের ওপর চাপাবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। আইফোন ১৮ সিরিজের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তাই সম্ভাব্য দাম বৃদ্ধির খবরকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে না দেখে বাজার-সংক্রান্ত পূর্বাভাস হিসেবেই দেখা উচিত।

Advertisements