নয়াদিল্লি: এনডিএ এখন ‘ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন’ বা এক দেশ (Election 2029)এক নির্বাচন বাস্তবায়নের সময়সীমা এগিয়ে আনার কথা ভাবছে। বর্তমানে যে বিলগুলো সংসদে আলোচনাধীন, সেগুলো অনুযায়ী প্রথম একযোগে নির্বাচন হওয়ার কথা ২০৩৪ সালে। কিন্তু জোট সরকারের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে এসেছে ২০২৯ সালেই লোকসভার সঙ্গে ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচন একসঙ্গে করার সম্ভাবনা।
এর জন্য প্রয়োজন হবে ওই রাজ্যগুলোর বিধানসভাগুলোকে (Election 2029)তাদের পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে দেওয়া।জানা গেছে, এনডিএ শাসিত ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে ১১টিতে আগামী দুই বছরের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আর চারটি রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, সিকিম ও ওডিশা ইতিমধ্যেই লোকসভার সঙ্গে একযোগে ভোট হয় এবং এগুলো বর্তমানে এনডিএর শাসনাধীন।
আরও দেখুনঃ অনুমতি ছাড়া উর্দু স্কুলে ঢুকে শিক্ষিকাদের হুমকি! মহারাষ্ট্রে দিপকের নামে মামলা
যদি জোট সরকার এই রাজ্যগুলোতে আগামী দুই বছরেও ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে, (Election 2029)তাহলে ২০২৯ সালের জানুয়ারির মধ্যেই ওই ২২টি বিধানসভাকে ভেঙে দেওয়ার পথ খুলে যেতে পারে। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাজ্যপাল মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শে বিধানসভা ভেঙে দিতে পারেন এবং তারপর ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়।এই আলোচনা চলছে সেই সময়ে যখন সংসদের যৌথ কমিটি ‘ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন’ বিলগুলো নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছে।
কমিটি বিভিন্ন মুখ্যমন্ত্রী, বিধায়ক, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ ও শিল্পমহলের সঙ্গে কথা বলছে। (Election 2029)আশা করা হচ্ছে, এই বছরের শীতকালীন অধিবেশনেই কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। কমিটির চেয়ারম্যান পিপি চৌধুরী বলেছেন, এই বিষয়টি মূলত এনডিএর মুখ্যমন্ত্রীদের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে এবং কমিটির সরাসরি ম্যান্ডেটের বাইরে।সূত্রগুলো বলছে, যদি ২০২৯ সালেই লোকসভার সঙ্গে এই ২২টি বিধানসভার নির্বাচন একসঙ্গে হয়, তাহলে কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
আরও দেখুনঃ বদলে গেল নিয়ম! এবার মাত্র ১ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়েও কাজ করার সুযোগ পাওয়া যাবে সুপ্রিমকোর্টে
কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিন থেকে চার বছর আগেই সভা ভেঙে দিতে হতে পারে। এর ফলে একদিকে যেমন নির্বাচনী খরচ কমবে, প্রশাসনিক কাজকর্ম বারবার মডেল কোড অব কন্ডাক্টের কারণে ব্যাহত হবে না, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোও স্থায়ী নির্বাচনী মোড থেকে বেরিয়ে এসে শাসনকাজে মনোযোগ দিতে পারবে বলে সমর্থকরা মনে করেন।তবে এই পরিকল্পনা সহজ নয়। বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এবং সাংবিধানিক প্রশ্নও উঠতে পারে।
বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে বলছেন যে একযোগে নির্বাচন (Election 2029)ফেডারেলিজমকে দুর্বল করতে পারে এবং ছোট মেয়াদের বিধানসভা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ১৯৫২ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত ভারতে লোকসভা ও বিধানসভার নির্বাচন একসঙ্গেই হতো এবং সেটা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী ছিল না।
বর্তমান বিলগুলো অনুযায়ী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর (Election 2029)‘অ্যাপয়েন্টেড ডেট’ নির্ধারণ করে পরবর্তী চক্রে ২০৩৪ সালে পূর্ণ একযোগে নির্বাচন করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এনডিএ যদি নিজেদের শাসিত রাজ্যগুলোতে আগেভাগে সিঙ্ক্রোনাইজ করতে পারে, তাহলে ২০২৯-এই একটি বড় অংশের নির্বাচন একসঙ্গে হয়ে যেতে পারে এবং পরবর্তীতে পুরো দেশকে একই চক্রে আনা সহজ হবে।
