ক্ষমতার বদলেই রাজ্যে অস্থিরতা, দীর্ঘমেয়াদী সরকারের ইঙ্গিত!

কলকাতা: বদলের বঙ্গে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর মসনদে বসার পরপরই নানা ইস্যু তুলে সরব বিরোধীরা। সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি পথে নেমে প্রতিবাদও চোখে…

Suvendu Adhikari-government-opposition-long-term-rule

কলকাতা: বদলের বঙ্গে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর মসনদে বসার পরপরই নানা ইস্যু তুলে সরব বিরোধীরা। সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি পথে নেমে প্রতিবাদও চোখে পড়েছে। সরকার গঠনের শুরুতেই এই অস্থিরতা শুভেন্দুর দীর্ঘ মেয়াদের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

Advertisements

আচমকা দামী হয়েছে চিনি। কিন্তু অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি অনেকে। এই নিয়ে রাজ্যের দিকে দিকে ক্ষোভ। বারুইপুর বা সমতুল ঘটনা নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার। এই সুযোগে বিরোধীদের দাবি, বিজেপির সরকার আর বেশিদিন নয়। ২০৩১ কিংবা তার আগেই সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন সিপিএমের নেতাকর্মীরা। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

   

২০১১ সালের মে মাসে ক্ষমতায় বসে তৃণমূল। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পার্ক স্ট্রিটে ধর্ষণের ঘটনার পর থেকে সর্বাত্মক সমালোচনার মুখে পড়েন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকেই সামনে আসে তৃণমূলের একের পর এক দুর্নীতি। কাটমানি-তোলাবাজিরও ভূরি ভূরি অভিযোগ সামনে আসে। তারপরেও দুই দফায় মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতা। তবে শুভেন্দুর সরকারের সূচনালগ্নের সঙ্গে মমতার ২০১১ সালের পরিবর্তনের সাদৃশ্য দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৪ সালের কেন্দ্রে মোদী সরকারের সূচনাকালের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সফর শুরুর সাদৃশ্য আছে।

এক যুগ আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন নরেন্দ্র মোদী। চা-ওয়ালার দেশের প্রশাসনিক প্রধান হওয়ায় অনেকেই কটাক্ষ করেছিলেন। বিজেপির ক্ষমতা দখল নিয়েও অনেক সমালোচনা শোনা গিয়েছিল। সেই সময়ে দাদরি কাণ্ড কিংবা রোহিত ভেমুলার মৃত্যু নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে পদক ফেরানোর ঘোষণা করেন। পরে পদক ফিরিয়েছিলেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এরপর ২০১৫ সালে অভিনেতা আমীর খান এক অনুষ্ঠানে বলেন, “অসহিষ্ণু হয়ে যাচ্ছে ভারত।” রে-রে করে ওঠে বিরোধী শিবির। এত কিছুর পরেও নরেন্দ্র মোদীর চেয়ার টলানো যায়নি।

Advertisements

বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদী সরকারের যাত্রা শুরুতেই তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়। সেই সময়ে তৈরি হওয়া ফাটল মেরামত করে ফেলে বিজেপি। ২০১৯ সালের ভোটের সময় পরিস্থিতি মোদী-শাহের অনুকূলে চলে যায়। একার ক্ষমতায় ৩০০ পেরিয়ে যায় বিজেপি। ২০২৪ সালের ভোটে আবার ধাক্কা খেয়েছে পদ্মশিবির। সেই ক্ষত যে মেরামত হয়ে গিয়েছে তার প্রমাণ মিলেছে একের পর এক রাজ্যের বিধানসভা ভোটে। তেমনই শুরুতেই শুভেন্দু অধিকারীর বিরোধিতা আখেরে তাঁকে দীর্ঘ মেয়াদে সুবিধা দেবে বলেই পূর্বাভাস মিলছে৷

Also Read |  পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা

Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন

Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের

Advertisements