নয়াদিল্লি: ভারত এবার সরাসরি আইনি পথে এগোচ্ছে। (Hafiz Saeed)লাহোরে থাকা হাফিজ সাঈদের বিরুদ্ধে নোটিশ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার মামলায় জাতীয় তদন্ত সংস্থা বা এনআইএ যে শমন জারি করেছে, তা বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লাহোরে পৌঁছানো হবে। এই পদক্ষেপ শুধু একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
হাফিজ সাঈদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। (Hafiz Saeed)ষড়যন্ত্র এবং ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। আদালত অগ্রিম জামিনযোগ্য নয় এমন গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেছে। এর পরও তিনি পাকিস্তানে থেকে আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলেছেন। এখন ভারত সেই ফাঁকফোকর বন্ধ করতে মরিয়া। এনআইএ-র সমন বিদেশ মন্ত্রণালয়ের চ্যানেল দিয়ে পাঠানো হচ্ছে যাতে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই নোটিশ পৌঁছানো যায়।
আরও দেখুনঃ মরিশাসে একমাত্র জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছে ইন্ডিয়ান অয়েল
লাহোরে তাঁর ঠিকানায় এই নোটিশ পৌঁছলে আইনি বাধ্যবাধকতা আরও স্পষ্ট হবে। (Hafiz Saeed)মোদী সরকারের নতুন ফৌজদারি আইন কাঠামো বা বিএনএস এই প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করেছে। ধারা ৩৫৬ অনুসারে যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতের প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলতে থাকেন, তাহলে তাঁর অনুপস্থিতিতেই বিচার চালানোর পথ খুলে গেছে। হাফিজ সাঈদ যদি এবারও হাজির না হন বা নোটিশ উপেক্ষা করেন, তাহলে ভারতীয় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতেই বিচারকার্য এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।
এটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে ভারতের আইনি লড়াইকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। (Hafiz Saeed)পহেলগাঁও হামলার ঘটনা দেশজুড়ে গভীর আঘাত তৈরি করেছিল। সেই মামলায় হাফিজ সাঈদের নাম উঠে আসায় তদন্তকারী সংস্থাগুলো কঠোর অবস্থান নিয়েছে। চার্জশিট এবং গ্রেফতারি পরোয়ানার পর এখন সমন পাঠানোর সিদ্ধান্ত সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, পাকিস্তান যতই তাঁকে আড়াল করার চেষ্টা করুক, আইনি প্রক্রিয়া থেকে তাঁকে চিরকাল রক্ষা করা যাবে না।
আরও দেখুনঃ শিখ দাঙ্গার মাথা সজ্জন কুমার হিরো নয়! ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করে রাহুল গান্ধীর বাড়ি ঘেরাও শিখদের
আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক মাধ্যম ব্যবহার করেই ভারত নিজের অবস্থান জোরদার করছে।এনআইএ-র এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলেও নজর কাটবে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী লড়াইয়ে ভারতের অবস্থান আরও স্পষ্ট হচ্ছে। হাফিজ সাঈদ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নজরদারিতে রয়েছেন। এখন ভারতীয় আদালতের সমন সরাসরি তাঁর দোরগোড়ায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া চালানো হলে (Hafiz Saeed)পাকিস্তান সরকারের কাছেও এটি অস্বীকার করার সুযোগ কমবে। আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা অনুসারে নোটিশ গ্রহণ ও জবাব দেওয়ার দায়িত্ব তৈরি হবে।বিএনএস-এর ধারা ৩৫৬ ব্যবহারের সম্ভাবনা এই মামলাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
আগে অনেক সময় অভিযুক্তরা বিদেশে আড়াল নিয়ে বিচার এড়িয়ে যেত। এখন আইন সেই পথ রুদ্ধ করেছে। অনুপস্থিতিতে বিচার চালানো গেলে ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া থেমে থাকবে না। হাফিজ সাঈদের ক্ষেত্রেও সেই পথ খোলা রয়েছে। ভারত সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে আইনের শাসন কাউকে ছাড় দেবে না।
