শিলিগুড়ি: সীমান্ত নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে শিলিগুড়িতে অমিত শাহ (Amit Shah)। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলায় অনুপ্রবেশের কারণে বদলে যাচ্ছে বাংলার ভৌগোলিক চেহারা। সেই প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরকে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। শিলিগুড়িতে পৌঁছে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি, অনুপ্রবেশ রোধে নেওয়া পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই সফরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (Amit Shah)এক বড় বিবৃতি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীরা ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব পাবেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে সরানো হবে। এই বার্তা একদিকে যেমন শরণার্থীদের মধ্যে আশার আলো জ্বালিয়েছে, অন্যদিকে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে।
আরও দেখুনঃ রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ অনুষ্ঠানে উত্তেজনা! ৫০-৬০ যুব কংগ্রেস কর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের মামলা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, দেশের নাগরিকত্ব আইন অনুসারে যারা যোগ্য, তাঁদের দ্রুত নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। আর যারা অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করেছে, তাঁদের চিহ্নিত করে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা হবে।শিলিগুড়ি সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাঁরা বলছেন, সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার না হলে স্থানীয় অর্থনীতি ও সামাজিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (Amit Shah)এই সফর এবং বিবৃতি তাঁদের মধ্যে নতুন আশা জাগিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, কেন্দ্রীয় সরকার এবার সত্যিই কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। হিন্দু, শিখ ও জৈন সম্প্রদায়ের শরণার্থীরা যারা দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্বের অপেক্ষায় ছিলেন, তাঁদের জন্য ছয় মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করায় তাঁরা স্বস্তি বোধ করছেন।
আরও দেখুনঃ ‘ইসলামিক ন্যাটো’-য় যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ? সৌদি-পাক-তুরস্কের ‘মক্কা চুক্তি’ ঘিরে জল্পনা
অনেকেই বলছেন, এতদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে। এবার সরকারি ঘোষণায় তাঁদের ভবিষ্যৎ আরও স্পষ্ট হয়েছে।অনুপ্রবেশকারীদের সরানোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (Amit Shah)কথাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি বলেছেন, প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এই ঘোষণা রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে আরও সক্রিয় করা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করার কথাও উঠে এসেছে বৈঠকে। (Amit Shah)শিলিগুড়ি থেকে নেপাল ও বাংলাদেশ সীমান্তের দূরত্ব খুব বেশি নয়। তাই এই অঞ্চলের নিরাপত্তা দেশের সামগ্রিক সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই সফর করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
