আদালত জামিন দিলেও আর্থিক দুর্নীতি PMLA তে তা কার্যকর হবে না! নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের

নয়াদিল্লি: দিল্লি হাইকোর্টের সাম্প্রতিক একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। (PMLA ruling)হাইকোর্টের রায়ে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, মূল অপরাধ বা ‘Predicate Offence’-এর মামলায় কোনও অভিযুক্ত আদালতের কাছ…

delhi-hc-pmla-ruling

নয়াদিল্লি: দিল্লি হাইকোর্টের সাম্প্রতিক একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। (PMLA ruling)হাইকোর্টের রায়ে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, মূল অপরাধ বা ‘Predicate Offence’-এর মামলায় কোনও অভিযুক্ত আদালতের কাছ থেকে যে আইনি সুরক্ষা বা জামিন পান, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন বা PMLA-এর মামলায় কার্যকর হবে না।

Advertisements

অর্থাৎ, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মূল এফআইআর-এ গ্রেফতারি থেকে সুরক্ষা থাকলেও, সেই সুরক্ষার ভিত্তিতে তিনি PMLA মামলায় আগাম জামিনের দাবি করতে পারবেন না। বিচারপতি মধু জৈনের একক বেঞ্চ এই বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছে।

   

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, PMLA-এর অধীনে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার (PMLA ruling)নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র কাঠামো রয়েছে। মূল অপরাধের তদন্ত এবং সেই অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের লেনদেন বা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ দুই বিষয়কে একই চোখে দেখা যায় না। কোনও একটি মামলায় আদালতের দেওয়া সুরক্ষা অন্য একটি পৃথক আইনি প্রক্রিয়ায় হুবহু প্রযোজ্য হবে, এমন কোনও স্বয়ংক্রিয় নিয়ম নেই।

আরও দেখুনঃ ‘এক দেশের বিচারক অন্য দেশের বিচার ব্যবস্থা দেখুন!’ BRICS র লিগ্যাল ফোরামের উদ্বোধনে অনুরোধ সূর্যকান্তের

Advertisements

মামলাটির প্রেক্ষাপটও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ‘বাবাজি ফিন্যান্স গ্রুপ’-এর সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী রাম সিংয়ের বিরুদ্ধে প্রায় ২৬.১৮ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ED তদন্ত করছে(PMLA ruling)। এই মামলায় রাম সিং আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। তাঁর মূল যুক্তি ছিল, যে Predicate Offence-এর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে, সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে গ্রেফতারি থেকে সুরক্ষা দিয়েছে। ফলে একই সুরক্ষা PMLA মামলার ক্ষেত্রেও কার্যকর হওয়া উচিত এবং ED তাঁকে গ্রেফতার করতে পারবে না।

তবে দিল্লি হাইকোর্ট সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। (PMLA ruling)আদালত বুঝিয়ে দিয়েছে, মূল অপরাধের মামলায় কোনও ধরনের সুরক্ষা পাওয়া মানেই PMLA-এর অধীনে একই সুবিধা পাওয়া নয়। PMLA একটি বিশেষ আইন এবং এর অধীনে অর্থ পাচারের অভিযোগের তদন্ত আলাদাভাবে পরিচালিত হয়। তাই অভিযুক্তকে PMLA মামলায় গ্রেফতার করা যাবে কি না, কিংবা তাঁকে আগাম জামিন দেওয়া হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট মামলার নিজস্ব তথ্য, পরিস্থিতি এবং আইনি শর্তের ভিত্তিতেই বিচার করতে হবে।

আরও দেখুনঃ ফের বিক্ষোভের সাক্ষী জন্তরমন্তর! কমলা পতাকার নিচে এবার উঠল শুরু SC-ST সংস্কারের দাবি

আদালতের এই পর্যবেক্ষণ আর্থিক অপরাধের ক্ষেত্রে তদন্তকারী সংস্থার ক্ষমতা এবং অভিযুক্তের আইনি অধিকারের মধ্যে ভারসাম্যের প্রশ্নটিকেও সামনে নিয়ে এসেছে। সাধারণ অপরাধের তুলনায় অর্থনৈতিক অপরাধের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের উৎস, অর্থের গতিপথ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন হয়। ফলে তদন্তের পরিধিও অনেক সময় বিস্তৃত হয়। আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে, এই বিশেষ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে জামিনের বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট আইনের কাঠামোর মধ্যেই বিবেচনা করতে হবে।

বিশেষজ্ঞ মহলের কাছে এই রায়ের তাৎপর্য মূলত (PMLA ruling)এখানেই যে, এটি Predicate Offence এবং PMLA মামলার মধ্যে আইনি পার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করে। কোনও অর্থ পাচারের মামলা সাধারণত একটি মূল অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও, PMLA-এর অধীনে গঠিত অপরাধের নিজস্ব আইনি উপাদান রয়েছে। ফলে মূল মামলায় পাওয়া প্রতিটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ বা সুরক্ষা পরবর্তী PMLA তদন্তকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আটকে দেবে এমন ধারণা আদালত গ্রহণ করেনি।

Advertisements