কলকাতা: ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র (Annapurna Yojana) ৩ হাজার টাকা এখনও অ্যাকাউন্টে না ঢোকায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যখন ক্ষোভের আগুন জ্বলছে, ঠিক তখনই এই ইস্যুতে মুখ খুললেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তাঁর সাফ কথা, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে মুড়ি-মুড়কির মতো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar) বিলি করে মানুষের অভ্যাস খারাপ করে দেওয়া হয়েছে। যোগ্যরাই কেবল এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, শুক্রবার মেদিনীপুরে এই ক্ষোভের আঁচ সরাসরি টের পান রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)।
কী বললেন দিলীপ ঘোষ?
শনিবার সকালে মর্নিং ওয়াকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে মানুষের অভ্যাস খারাপ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এটা বোঝা উচিত যে, সব সুবিধা সবার জন্য নয়। কেন্দ্রীয় সরকার বা রাজ্য সরকার, যে প্রকল্পই করুক না কেন, তার একটা নির্দিষ্ট সীমা এবং মাপকাঠি (Criteria) থাকে। যাঁরা সেই মাপকাঠির মধ্যে পড়বেন, তাঁরাই টাকা পাবেন।” তৃণমূলকে নিশানা করে তিনি আরও বলেন, “সবাইকে দানধ্যান করা হবে, তৃণমূল কংগ্রেস এই অভ্যাসটা খারাপ করে দিয়েছে। এটা চলতে পারে না।”
বিক্ষোভের মুখে অগ্নিমিত্রা
প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের আশ্বাস ছিল, যোগ্য উপভোক্তারা ১৭ অগস্ট থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন। কিন্তু সেই টাকা না মেলার অভিযোগেই গত বৃহস্পতিবার থেকে দিকে দিকে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। শুক্রবার মেদিনীপুরের (Medinipur) কর্নেলগোলায় দলীয় কর্মীদের সংবর্ধনা নিতে গিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়েন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বেশ কয়েকজন মহিলা তাঁকে ঘিরে ধরে প্রশ্ন করেন, “দিদি, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাচ্ছি না কেন?” মন্ত্রী তাঁদের স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
পরবর্তীতে মেদিনীপুর জেলাশাসকের কার্যালয়েও বিক্ষোভের মুখে পড়েন অগ্নিমিত্রা। সেখানে তিনি বিক্ষোভকারীদের এসডিও (SDO) অফিসে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার কথা বলেন। পাশাপাশি এই ঘটনার নেপথ্যে তৃণমূলের একাংশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তোলেন তিনি।
অগ্নিমিত্রা বলেন, “বলতে খারাপ লাগছে, কিন্তু ভিতরে অনেক তৃণমূলের লোক বসে আছেন, যাঁরা গন্ডগোল পাকাচ্ছেন। তাঁরা দেখে দেখে যোগ্যদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের টাকা দিচ্ছেন। আর সেই কারণেই যোগ্যরা ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। এর পুরোটাই রাজনীতির অংশ। ধীরে সুস্থে সব ঠিক হয়ে যাবে।” পুরো বিষয়টি তিনি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনবেন বলেও জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল।
মৃতদের ৯ লাখ, ক্ষতিগ্রস্তদের ৩০ হাজার! সবং পরিদর্শনে গিয়ে আর কী ঘোষণা শুভেন্দুর?
জোরকদমে দল গঠন! ইমামির বিদায়ের পর ইস্টবেঙ্গলের ভরসা জুপিটার,
