নয়াদিল্লি: ভারতের মহাকাশ অভিযানের স্বপ্ন এগিয়ে চললেও একটি বড় বাধা (rocket launch)সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভারতের রকেট উৎক্ষেপণ খরচ আমেরিকার তুলনায় চার গুণেরও বেশি। এই ব্যয়বহুলতা দেশের মহাকাশ কর্মসূচির গতি কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।ভারত ইতিমধ্যেই মহাকাশ ক্ষেত্রে বেশ কিছু সাফল্য অর্জন করেছে।
চাঁদে সফট ল্যান্ডিং, মঙ্গলে অভিযান, নেভিগেশন স্যাটেলাইট ব্যবস্থা গড়ে তোলা, (rocket launch)এসব অর্জন বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করেছে। গগনযান মিশনের মাধ্যমে মানুষকে মহাকাশে পাঠানোর প্রস্তুতিও চলছে। বেসরকারি খাতকেও উৎসাহিত করা হচ্ছে। কিন্তু উৎক্ষেপণ খরচ যদি এত বেশি থাকে, তাহলে ভবিষ্যতের বড় বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।
আরও দেখুনঃ ভারতীয় সেনা-PNB র নয়া MOU তে এবার চালু হবে সব পদমর্যাদার সদস্যদের জন্য বিশেষায়িত ক্রেডিট কার্ড
আমেরিকায় স্পেসএক্সের মতো সংস্থাগুলো পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে খরচ অনেক কমিয়ে এনেছে। একই রকেট বারবার ব্যবহার করার ফলে প্রতিটি উৎক্ষেপণে ব্যয় কমছে। অন্যদিকে ভারতের রকেটগুলো এখনও মূলত একবার ব্যবহারযোগ্য। ফলে প্রতিবার নতুন করে তৈরি করতে হয় এবং খরচ বেড়ে যায়। সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে এই পার্থক্য চার গুণেরও বেশি।
এতে করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। (rocket launch)মহাকাশ অর্থনীতি এখন দ্রুত বর্ধনশীল খাত। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, মহাকাশ পর্যটন সবখানেই সম্ভাবনা বাড়ছে। ভারত যদি কম খরচে উৎক্ষেপণ করতে না পারে, তাহলে বিদেশি গ্রাহকরা অন্য দেশের রকেট বেছে নেবে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু দেশ সস্তা উৎক্ষেপণ সুবিধার জন্য মার্কিন বা অন্যান্য সংস্থার দিকে ঝুঁকছে।
ভারতের পক্ষে এই বাজার ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।খরচ কমানোর জন্য প্রযুক্তিগত উন্নতি জরুরি। পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরি করা, উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও দক্ষ করা, সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নত করা এসব পদক্ষেপ নিতে হবে। (rocket launch)ইসরো ইতিমধ্যেই কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। স্কাইরুট, অগ্নিকুল, পিক্সেল-এর মতো স্টার্টআপগুলো নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।
তাঁদের সাফল্য খরচ কমাতে সাহায্য করতে পারে।তবে শুধু প্রযুক্তি নয়, নীতিগত সহায়তাও দরকার। গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ালেও কিছুটা সুবিধা হতে পারে। খরচের এই ব্যবধান দূর না হলে গগনযান, চাঁদে মানুষ পাঠানো বা মঙ্গল অভিযানের মতো বড় পরিকল্পনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।
আরও দেখুনঃ বড় পদক্ষেপ মহারাষ্ট্র সরকারের! ১১ টি পুকুরে হানা দিয়ে নষ্ট করা হল ৩৬ টন থাই মাগুর
সরকারি বাজেটের ওপর চাপ বাড়বে।মহাকাশ ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে ভারত এগোচ্ছে। কিন্তু খরচের বিষয়টি উপেক্ষা করা যাবে না। সমীক্ষার ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কম খরচে নির্ভরযোগ্য উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে ভারত বিশ্ব মহাকাশ বাজারে শক্তিশালী প্রতিযোগী হয়ে উঠতে পারে।
