কলকাতা: সীমান্তবর্তী কোচবিহার থেকে শুরু করে তদন্তের জাল ছড়িয়ে দিল্লি পর্যন্ত। (SIM smuggling)পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা STF-এর অভিযানে সম্ভাব্য পাকিস্তান-সংযুক্ত গুপ্তচরবৃত্তি এবং সিম কার্ড পাচার চক্রের হদিশ মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি।
আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে একাধিক গ্রেফতারির পর তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে এই চক্রের সম্ভাব্য আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের নানা তথ্য। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় ধৃতদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি।
আরও দেখুনঃ যাদবপুর ইস্যুতে ‘নাক গলাতে’ নারাজ শমীক, ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর হুঁশিয়ারি দিলীপের
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহারের দিনহাটা ও সাহেবগঞ্জ সীমান্তবর্তী (SIM smuggling )এলাকা থেকে প্রথমে রশিদুল হক, নূর নাসিরুদ্দিন আলি এবং শফিকুল ইসলাম নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই ব্যক্তিরা ভারতীয় সিম কার্ড অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরে সেই সিম কার্ড কোনওভাবে পাকিস্তানের আইএসআই-ঘনিষ্ঠ হ্যান্ডলারদের হাতে পৌঁছত বলে তদন্তকারীদের অনুমান।
এই চক্রের কাজের ধরন নিয়েই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। (SIM smuggling)তদন্তকারীদের দাবি, ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করে পাকিস্তান থেকে পরিচালিত ব্যক্তিরা WhatsApp অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করার চেষ্টা করত। সেই নম্বরের মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন জায়গায়, এমনকি সেনা ছাউনির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টাও করা হয়েছে বলে পুলিশের সন্দেহ। ফলে বিষয়টি শুধু বেআইনি সিম পাচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর পিছনে কোনও বৃহত্তর গুপ্তচরবৃত্তির নেটওয়ার্ক কাজ করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ যাদবপুরে তাণ্ডব! ভাঙল নন্দলাল বসুর তৈরি ঐতিহাসিক ফলক, তদন্ত কমিটি গঠন
তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। পুলিশের নজরে এসেছে জাল নোটের কারবারের সম্ভাব্য যোগসূত্র। সিম পাচার, সীমান্তপথে বেআইনি লেনদেন এবং জাল নোটের নেটওয়ার্ক এই তিনটি বিষয় একই চক্রের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে এই ধরনের নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের পরিধি কোচবিহারে আটকে থাকেনি। (SIM smuggling)STF দিল্লি থেকে প্রদীপ্ত বসু নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে ট্রানজিট রিমান্ডে কোচবিহারে নিয়ে আসে। পুলিশ সূত্রের দাবি, প্রদীপ্তর সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলে বন্দি কয়েকজন অপরাধীর যোগাযোগ ছিল।
কোচবিহারে ধৃত ব্যক্তিদের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগের সূত্র পাওয়া গিয়েছে বলে তদন্তকারীরা দাবি করছেন। সেই যোগাযোগের প্রকৃতি কী ছিল এবং সিম পাচার বা কথিত গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনায় তাঁর ভূমিকা কতটা, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
