কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) এবিভিপি (ABVP) এবং বাম ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘাত ঘিরে বঙ্গ বিজেপির অন্দরের ভিন্ন সুর। একদিকে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বিজেপি এই ছাত্র-বচসায় কোনওভাবেই নাক গলাবে না, অন্যদিকে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সরাসরি ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর চরম হুঁশিয়ারি দিলেন।
দিলীপ ঘোষের কড়া হুঁশিয়ারি
শুক্রবার প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে যাদবপুর ইস্যু নিয়ে মুখ খোলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিয়ন রুমে দেশবিরোধী স্লোগান ও গ্রাফিটি রয়েছে বলে এবিভিপি-র তোলা অভিযোগকে সমর্থন করে তিনি বলেন, “কোনও দাদাগিরি বা দেশবিরোধী কার্যকলাপ চলতে দেওয়া যাবে না।” পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “টিএমসি এই দেশবিরোধীদের পুষে রেখেছিল। আমাদের লোকেরা ওখানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছিল, এসএফআই-এর অফিস ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। আবার যদি দেশবিরোধী স্লোগান ওঠে, তবে একই ঘটনা ঘটবে, আবার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে।” এর পাশাপাশি তিনি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “পরিবর্তন হয়েছে, সবকিছুই হবে। একটু অপেক্ষা করুন, ছ’মাস।”
শমীকের অবস্থান ও দলের অন্দরে দ্বন্দ্ব
দিলীপ ঘোষ যখন চরম আক্রমণাত্মক, তখন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই ঘটনা থেকে দলের দূরত্ব বজায় রাখছেন। তিনি স্পষ্ট বলেন, “এবিভিপি বিজেপির ছাত্র সংগঠন নয়। ক্যাম্পাসে তারা কীভাবে রাজনীতি করবে, সেটা তাদের বিষয়। যাদবপুরের এই অশান্তিতে বিজেপি ঢুকবে না।”
তবে তিনি এও জানান যে, স্থানীয় বিধায়ক হিসেবে শর্বরী এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতেই পারেন। প্রসঙ্গত, যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী ইতিমধ্যেই ‘তাণ্ডব চলবে’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। নেতাদের এই পরস্পরবিরোধী মন্তব্যের জেরে বাম ছাত্র সংগঠনগুলি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছে, দলের রাজ্য সভাপতি এবং অন্যান্য নেতাদের কথায় এত অমিল কেন?
ঐতিহাসিক ফলক ভাঙা নিয়ে বিতর্ক
এদিকে, গত বুধবার রাতের অশান্তির পর বৃহস্পতিবারও ধুন্ধুমার কাণ্ড বাঁধে যাদবপুর ক্যাম্পাস চত্বরে। বাম ছাত্র সংগঠন পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে দেয়। অন্যদিকে, গোলপার্কের দিক থেকে আসা এবিভিপি-ও ৪ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করে। গেটের ওপর উঠে গেরুয়া পতাকা লাগাতে গিয়ে ঘটে বিপত্তি। অভিযোগ, যাদবপুরের ঐতিহ্যের প্রতীক, বিকশিত শতদলে ঘেরা ৩টি প্রদীপশিখা সম্বলিত এমব্লেমের ওপর পা দিয়ে ওঠেন একাধিক এবিভিপি সমর্থক। ফলস্বরূপ নন্দলাল বসুর হাতে তৈরি আড়াই দশক পুরনো ওই ঐতিহাসিক চিহ্নটি ভেঙে যায়।
এবিভিপি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কারা এই এমব্লেম ভেঙেছে, তা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে আরএসএস-এর এই ছাত্র সংগঠনটি।
যাদবপুরে তাণ্ডব! ভাঙল নন্দলাল বসুর তৈরি ঐতিহাসিক ফলক, তদন্ত কমিটি গঠন
খড়গপুর থেকে ভদ্রক রেলপথ উন্নয়নে ৩,৩৫২ কোটি অনুমোদন মোদী সরকারের
