চেন্নাই: গত প্রায় ৭০ বছর ধরে আইআইটি মাদ্রাজ (IIT Madras) মানেই ছিল কেবল ইঞ্জিনিয়ারিং। যন্ত্র তৈরি, কোডিং বা দেশের বড় বড় সিস্টেম ডিজাইনের পীঠস্থান। কিন্তু এবার সেই চেনা পরিচিতি বদলাতে চলেছে। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এই শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে এবার তৈরি হবেন চিকিৎসকরাও! ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে আইআইটি মাদ্রাজের ডিরেক্টর অধ্যাপক ভি. কামাকোটি জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি খুব শিগগিরই একটি ‘স্কুল অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস’ খুলতে চলেছে এবং নিজেদের মেডিক্যাল ডিগ্রি প্রদান করতে চলেছে।
অধ্যাপক কামাকোটি বলেন, “আইআইটি মাদ্রাজ নিশ্চিতভাবেই একটি মেডিক্যাল স্কুল চালু করবে। আমরা মেডিক্যাল ডিগ্রি দিতে চাই, এবং আমি মনে করি এটি আমাদের প্রতিষ্ঠানটিকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।” তিনি জানান, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট এমবিবিএস (MBBS) থেকে শুরু করে পোস্টগ্র্যাজুয়েট এমডি (MD) এবং ডক্টরাল পিএইচডি (PhD), সমস্ত রকম ডিগ্রিই দেওয়া হবে এখান থেকে।
আইআইটি মাদ্রাজের চিকিৎসা ক্ষেত্রে পরিকল্পনা কী?
প্রতিষ্ঠানটি অবশ্য একেবারেই শূন্য থেকে শুরু করছে না। ২০২৩ সালের মে মাসে তারা ভারতের প্রথম ‘ডিপার্টমেন্ট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি’ চালু করে। সেখানে চার বছরের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রিতে এমন এক ‘হাইব্রিড’ পড়ুয়া তৈরি করা হয়, যাঁরা অর্ধেক ইঞ্জিনিয়ার এবং অর্ধেক জীববিজ্ঞানী। তবে তাঁরা সরাসরি রোগীর চিকিৎসা করেন না, বরং স্ক্যানার, ইমপ্লান্ট বা মেডিক্যাল সফটওয়্যার ডিজাইনের কাজ করেন।
কিন্তু নতুন মেডিক্যাল স্কুলটি এর থেকে একধাপ এগিয়ে সরাসরি চিকিৎসক বা প্র্যাকটিসিং ডাক্তার তৈরি করবে।
একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কেন ডাক্তার তৈরি করতে চায়?
অধ্যাপক কামাকোটির কথায়, “যেকোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানেরই একটি মেডিক্যাল স্কুল শুরু করা উচিত। তা না হলে দেশ হিসেবে আমরা আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল মার্কেটে টিকে থাকতে পারব না।”
তাঁর এই ভাবনার নেপথ্যে রয়েছে করোনা মহামারির অভিজ্ঞতা। মহামারি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছিল যে, আধুনিক চিকিৎসা কতটা প্রযুক্তিনির্ভর এবং সেই প্রযুক্তির জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীল থাকা দেশের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। ভারত এখনও উচ্চমানের চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রচুর পরিমাণে আমদানি করে। কামাকোটির মতে, দেশ যদি নিজস্ব মেডিক্যাল মেশিন ডিজাইন করতে চায়, তবে দেশের ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ারদের একই ছাদের তলায় প্রশিক্ষণ নিতে হবে, যাতে তাঁরা একই ভাষায় একে অপরের সঙ্গে কাজ করতে পারেন।
একটি আইআইটি কি সত্যিই মেডিক্যাল ডিগ্রি দিতে পারে?
এইখানেই উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে নিয়মনীতির সংঘাত। ভারতে চিকিৎসা শিক্ষার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (NMC)। তারাই সিদ্ধান্ত নেয় কে মেডিক্যাল কলেজ চালাবে এবং এমবিবিএস ডিগ্রি দেবে। একটি আইআইটি চাইলেই এমবিবিএস পড়ানো শুরু করতে পারে না। এর জন্য কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রয়োজন একটি ‘টিচিং হাসপাতাল’-এর, যেখানে পড়ুয়ারা সত্যিকারের রোগীদের চিকিৎসা করে হাতেকলমে শিখবেন।
তবে আইআইটি মাদ্রাজের সামনে একটি পথরেখা খোলাই রয়েছে। আইআইটি খড়গপুর ইতিমধ্যেই নিজস্ব হাসপাতাল তৈরি করেছে এবং স্নাতকোত্তর এমডি (MD) কোর্স চালু করার অনুমোদন পেয়েছে (যদিও তাদের এমবিবিএস-এর পরিকল্পনা এখনও পরিকাঠামোগত স্তরে রয়েছে)। আইআইটি মাদ্রাজকেও সেই একই দীর্ঘ পথ পার হতে হবে, প্রথমে হাসপাতাল তৈরি, তারপর নিয়ন্ত্রকের অনুমোদন।
সুবিধার বিষয় হলো, আইআইটি মাদ্রাজের ক্যাম্পাসে ইতিমধ্যেই হেলথকেয়ার টেকনোলজি সেন্টার থেকে শুরু করে ব্রেন-ম্যাপিং ইনস্টিটিউট রয়েছে। ২০২৩ সালের বিভাগটি শহরের শীর্ষ হাসপাতালগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করছে। ইঞ্জিনিয়াররা ইতিমধ্যেই চিকিৎসকদের পাশাপাশি কাজ করছেন। অধ্যাপক কামাকোটি শুধু চাইছেন, আগামী প্রজন্ম ইঞ্জিনিয়ার এবং চিকিৎসক, এই দুইয়েরই নিখুঁত সংমিশ্রণ হয়ে উঠুক।
‘কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ’, শ্রীনগর সফরে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য মার্কিন দূতের
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর তথ্যচিত্রে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান! ‘বলিউডি প্রোপাগান্ডা’ বলে তোপ সেনার
