কলকাতা: খড়গপুর থেকে ভদ্রক পর্যন্ত রেলপথে বড় ধরনের উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে দেশ (Kharagpur)। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই করিডোরে চতুর্থ রেললাইন নির্মাণের জন্য ৩,৩৫২ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছে। পশ্চিমবঙ্গের খড়গপুর এবং ওড়িশার ভদ্রকের মধ্যে বালাসোর ও রূপসা হয়ে যে উপকূলীয় রুট চলে, সেখানেই এই কাজ হবে।এই রুটটি কয়লা ও আকরিক লোহার মতো পণ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে হাওড়া-চেন্নাই রুটের মেইল, এক্সপ্রেস, (Kharagpur)সুপারফাস্ট ও যাত্রীবাহী ট্রেনও এই পথে চলাচল করে। বর্তমানে ট্রাফিকের চাপ বেশি থাকায় ধীরগতি ও বিলম্বের সমস্যা দেখা যায়। চতুর্থ লাইন হলে মালবাহী ও যাত্রীবাহী ট্রেনের গতি বাড়বে এবং ধারণক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।এই প্রকল্পটি পিএম গতি শক্তি ন্যাশনাল মাস্টার প্ল্যানের অধীনে অনুমোদিত চারটি রেললাইন প্রকল্পের অংশ।
আরও দেখুনঃ ব্যারাকপুর সেনানিবাস এলাকার উন্নয়নে ক্যান্টনমেন্ট কর্মকর্তা অনুজ গোয়েলের সঙ্গে বৈঠকে অর্জুন সিং
মোট চারটি প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ ৯,৪৫০ কোটি টাকা (Kharagpur)। এগুলো ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলো আঞ্চলিক বাণিজ্য, শিল্প প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং যাত্রী সুবিধা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।প্রকল্পগুলো একসঙ্গে প্রায় ৬,৪৪৮টি গ্রামের সংযোগ উন্নত করবে, যেখানে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বসবাস। মাল্টিমোডাল সংযোগ এবং লজিস্টিকস দক্ষতা বাড়বে।
খড়গপুর-ভদ্রক প্রকল্পটি পশ্চিম মেদিনীপুর, বালেশ্বর ও ভদ্রক জেলায় বিস্তৃত। এতে প্রায় ১৭৩ কিলোমিটার নতুন লাইন যোগ হবে।এই উন্নয়নের ফলে কয়লা ও আকরিক লোহা উৎপাদনকারী অঞ্চল থেকে পণ্য পরিবহন সহজ হবে। হাওড়া-চেন্নাই করিডোরের যাত্রীরাও উপকৃত হবেন। ট্রেন চলাচল আরও নিয়মিত ও দ্রুত হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
আরও দেখুনঃ নিউমার্কেটে অগ্নিকাণ্ড: তৃণমূলকে দুষলেন অগ্নিমিত্রা, তদন্তভার সিটকে
নির্মাণ পর্যায়ে হাজার হাজার মানুষের কাজের সুযোগ মিলবে। (Kharagpur)পিএম গতি শক্তি পরিকল্পনার আওতায় এই প্রকল্পগুলো দেশের পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে। রেলপথের ধারণক্ষমতা বাড়লে শিল্প ও বাণিজ্যে গতি আসবে। উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও চাঙা হবে। যাত্রীদের জন্য ভ্রমণ আরও আরামদায়ক হবে।মন্ত্রিসভার এই অনুমোদন পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার জন্য সুখবর।
দুই রাজ্যের সংযোগ আরও মজবুত হবে। রেলপথের উন্নয়ন স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। গ্রামীণ এলাকার মানুষও উন্নত সংযোগের সুবিধা পাবেন।প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে প্রতি বছর অতিরিক্ত মালবাহী ধারণক্ষমতা যোগ হবে। লজিস্টিকস খরচ কমবে এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে। সামগ্রিকভাবে এই উদ্যোগ দেশের রেল নেটওয়ার্ককে আরও আধুনিক ও দক্ষ করে তুলবে।
