কলকাতা: হুন্ডাই (Hyundai Tucson) নতুন প্রজন্মের ২০২৭ টুসন উন্মোচন করেছে। আপাতত গাড়িটির নতুন ‘আর্ট অব স্টিল’ ডিজাইন ভাষাকেই সামনে আনা হয়েছে। তবে গাড়ির প্রযুক্তিগত বিবরণ এখনও পুরোপুরি প্রকাশ করেনি সংস্থা। নতুন টুসনের অভ্যন্তরীণ নকশাও যথেষ্ট আধুনিক এবং প্রায় উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত বলেই মনে হচ্ছে।
নতুন টুসন আগের মডেলের তুলনায় আকারে বড় হয়েছে। ভারতে আগের প্রজন্মের টুসন ২০২৫ সালের শেষ দিকে বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এবার নতুন প্রজন্মের মডেলটি ফের বাজারে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নতুন ডিজাইনে আরও চওড়া ও বক্সি টুসন
২০২৭ টুসনে হুন্ডাইয়ের নতুন ‘আর্ট অব স্টিল’ ডিজাইন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। সংস্থার মতে, এই ডিজাইনে স্টিলের শক্তি ও দৃঢ়তার ধারণাকে আধুনিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। গাড়িটির ফেন্ডার এখন আরও চওড়া এবং শরীরের সামগ্রিক নকশায় ত্রিমাত্রিক আকৃতি রয়েছে। চারপাশে মোটা বডি ক্ল্যাডিং, ফ্লেয়ার্ড হুইল আর্চ এবং দুই রঙের অ্যালয় হুইল নতুন টুসনকে আরও পেশিবহুল চেহারা দিয়েছে।
সামনের অংশে রয়েছে পুরো প্রস্থ জুড়ে এলইডি লাইটিং এলিমেন্ট। এর দু’পাশে উল্লম্ব এলইডি স্ট্রিপ এবং নিচে বক্সি আকৃতির হেডল্যাম্প রয়েছে। নিচের দিকে অনুভূমিক এয়ার ইনটেক এবং দুই রঙের বাম্পার দেওয়া হয়েছে। আরও রাগড চেহারার এক্সআরটি সংস্করণে বাম্পারের নকশা আলাদা রাখা হয়েছে। পাশের অংশে রয়েছে নকল রুফ রেল, প্রচলিত পুল-টাইপ ডোর হ্যান্ডল এবং সামনে থেকে পিছনের পিলার পর্যন্ত বিস্তৃত সিলভার ট্রিম।
বড় হয়েছে গাড়ির আকার
নতুন টুসনের দৈর্ঘ্য ৪,৭০০ মিমি, প্রস্থ ১,৯০৫ মিমি, উচ্চতা ১,৬৮৫ মিমি এবং হুইলবেস ২,৭৮৫ মিমি। অর্থাৎ আগের মডেলের তুলনায় এটি ৬০ মিমি বেশি লম্বা, ৪০ মিমি বেশি চওড়া এবং হুইলবেস ৩০ মিমি বেড়েছে। হুন্ডাইয়ের দাবি, এর ফলে কেবিনে আরও বেশি জায়গা পাওয়া যাবে। গাড়িটিতে পাঁচটি নতুন রঙের বিকল্পও থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে সেরেনিটি হোয়াইট পার্ল, ড্রিফটউড গ্রে ম্যাট, ড্রিফটউড গ্রে মেটালিক, রেড রক অরেঞ্জ ম্যাট এবং গোয়ো কপার পার্ল।
পিছনের অংশেও সামনের মতো সরু এলইডি লাইট বার এবং উল্লম্ব এলইডি স্ট্রিপ রয়েছে। বড় অক্ষরে ‘টুসন’ লেখা, মোটা বাম্পার এবং স্পোর্টি রুফ স্পয়লার গাড়িটির পিছনের নকশাকে আরও আকর্ষণীয় করেছে। এক্সআরটি সংস্করণে আলাদা অ্যালয় হুইল, হুইল-আর্চ ডিজাইন, রিয়ার বাম্পার, স্কিড প্লেট এবং এক্সআরটি ব্যাজ থাকবে।
আরও আধুনিক কেবিন
নতুন টুসনের কেবিনেও বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। দ্বিতীয় সারির যাত্রীদের ওঠানামা আরও সহজ করতে পিছনের দরজা এখন ৮৩ ডিগ্রি পর্যন্ত খোলা যাবে। আগের মডেলের তুলনায় এটি ১০ ডিগ্রি বেশি। ভিতরে রয়েছে দুই রঙের ডি-কাট স্টিয়ারিং হুইল, যার কেন্দ্রে হুন্ডাইয়ের পিক্সেল লোগো রয়েছে। ট্রান্সমিশন স্টকটি কিছুটা মার্সিডিজ-বেঞ্জের গাড়ির মতো দেখতে।
স্টিয়ারিংয়ের পিছনে রয়েছে সরু ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট প্যানেল। ট্রিম অনুযায়ী কেবিন দুই ধরনের দুই রঙের থিম অথবা এক রঙের থিমে পাওয়া যাবে। উঁচু সেন্টার পেডেস্টলে সফট-টাচ উপকরণ এবং নকল কাঠের ফিনিশ ব্যবহার করা হয়েছে।
বড় টাচস্ক্রিন ও এআই প্রযুক্তি
ড্যাশবোর্ডের কেন্দ্রে রয়েছে বড় ট্যাবলেট-স্টাইলের টাচস্ক্রিন। এতে হুন্ডাইয়ের প্লিওস ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বেশিরভাগ গাড়ির ফিচার এই স্ক্রিনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হলেও নিচে কিছু ফিজিক্যাল সুইচ রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ফিচারের তালিকায় রয়েছে:
- ইলেকট্রিকভাবে নিয়ন্ত্রিত সামনের আসন
- ডুয়াল-জোন অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল
- দুটি ওয়্যারলেস চার্জিং প্যাড
- এলইডি অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং
- একাধিক ড্রাইভিং মোড
- প্যানোরামিক সানরুফ
- প্রিমিয়াম অডিও সিস্টেম
- ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা
- কানেক্টেড-কার প্রযুক্তি
- একাধিক এয়ারব্যাগ
- ইলেকট্রনিক সেফটি ফিচার
- অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম বা এডিএএস
ইঞ্জিন ও পাওয়ারট্রেন এখনও প্রকাশ করেনি হুন্ডাই
নতুন টুসনের ইঞ্জিন এবং গিয়ারবক্সের সম্পূর্ণ তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি হুন্ডাই। ভারতে বিক্রি হওয়া আগের টুসনে দুটি ইঞ্জিন বিকল্প ছিল। একটি ছিল ১৫৬ এইচপি ক্ষমতার ২.০ লিটারের ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোল ইঞ্জিন, অন্যটি ১৮৬ এইচপি ক্ষমতার ২.০ লিটারের টার্বো-ডিজেল ইঞ্জিন।
পেট্রোল ইঞ্জিনের সঙ্গে ৬-স্পিড টর্ক-কনভার্টার অটোমেটিক এবং ডিজেল ইঞ্জিনের সঙ্গে ৮-স্পিড টর্ক-কনভার্টার অটোমেটিক গিয়ারবক্স দেওয়া হয়েছিল। ভারতে পেট্রোল সংস্করণটি ছিল ফ্রন্ট-হুইল ড্রাইভ, আর টপ-স্পেক ডিজেল সংস্করণে অল-হুইল ড্রাইভ প্রযুক্তি ছিল।
আন্তর্জাতিক বাজারে টুসন প্লাগ-ইন হাইব্রিড এবং স্ট্রং-হাইব্রিড সংস্করণেও পাওয়া যায়। নতুন ২০২৭ টুসনেও একই ধরনের পাওয়ারট্রেন বিকল্প রাখা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে হুন্ডাই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
