নয়াদিল্লি: অরুণাচল প্রদেশে নতুন করে কোনও চিনা অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি এবং ভারতের কোনও ভূখণ্ডও বেহাত হয়নি। বুধবার জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে এমনই স্পষ্ট বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। পাশাপাশি তিনি আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (LAC) ভারতীয় সেনা এবং ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশের (ITBP) টহলদারি আগের চেয়ে অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে।
‘গ্রাম’ তৈরি হয়েছে ১৯৫৯ সালের দখল করা জমিতেই
সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের লংজু (Longju) এলাকার কাছে চিনের তৎপরতা বৃদ্ধি এবং একটি ‘গ্রাম’ নির্মাণের খবর নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে রিজিজু স্পষ্ট জানান, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) যে গ্রামের মতো কাঠামো তৈরি করেছে, তা ১৯৫৯ সালে চিনের দখল করা জমিতেই অবস্থিত। ওই বছর সংঘর্ষে অসম রাইফেলসের জওয়ানরা শহিদ হয়েছিলেন এবং পরে ১৯৬২ সালে চিন ওই এলাকায় তাদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “চিনা বাহিনী এসে আমাদের কোনও গ্রাম দখল করেনি। বিষয়টা একেবারেই তেমন নয়।” তিনি আরও জানান, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার কোনও সুস্পষ্ট সীমানা নির্ধারণ না থাকায় দীর্ঘকাল ধরে এই এলাকাটি বিতর্কিত। এই সীমান্ত নিয়ে ভারত ও চিনের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। তবে রিজিজু আশ্বস্ত করেছেন যে, বর্তমানে ওই সীমান্ত পয়েন্টে ভারতীয় সেনার পোস্টও উপস্থিত রয়েছে। যদিও ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর থেকে ওই এলাকায় যাতায়াত বন্ধ, তবে মন্ত্রী স্বীকার করে নিয়েছেন যে উচ্চতর পাহাড়ি রিজগুলিতে চিনা সেনার কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গুজব ছড়ালে সেনার মনোবল কমে
অরুণাচলের ৬০ কিলোমিটার ভেতরে চিনা সেনা ঢুকে পড়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছিল, তা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন কিরেণ রিজিজু। তিনি জানান, বাংলাদেশ বা অন্যান্য জায়গার সম্পর্কহীন ছবি শেয়ার করে এই ভুয়ো দাবি করা হচ্ছে। এই ধরনের অপপ্রচারের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এই ধরনের ভুল তথ্য ছড়ালে সীমান্তে মোতায়েন আমাদের সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের মনোবল কমে যায় এবং দেশে বিভ্রান্তি ছড়ায়। এটা একেবারেই ঠিক নয়।” তবে স্থানীয় গ্রামবাসীদের উদ্বেগ প্রশমনে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
কংগ্রেসের অভিযোগ এবং ভারতের অবস্থান
কয়েকদিন আগেই কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছিল যে, অরুণাচল প্রদেশের তাকসিং (Taksing) এলাকায় এলএসি পেরিয়ে ভারতীয় সেনার ঐতিহাসিক টহলদারি পয়েন্টগুলিতে যেতে বাধা দিচ্ছে চিন। সেই আবহেই রিজিজুর এই বিবৃতি তাৎপর্যপূর্ণ। উল্লেখ্য, অরুণাচল প্রদেশকে ভারতের রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না বেজিং। তারা এটিকে দক্ষিণ তিব্বতের অংশ বলে দাবি করে। তবে ভারত সবসময় চিনের এই অযৌক্তিক দাবি প্রত্যাখ্যান করে স্পষ্টভাবে জানিয়ে এসেছে যে, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ।
বাড়ি সংক্রান্ত নথি তলব! আজই পুরসভার দফতরে যেতে পারেন অভিষেকের বাবা
জোরকদমে দল গঠন! ইমামির বিদায়ের পর ইস্টবেঙ্গলের ভরসা জুপিটার,
