ডিআরডিও-র নতুন পদক্ষেপ! সেনাবাহিনীর জন্য অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে এবার অংশীদার হবে প্রাইভেট কোম্পানি

DRDO: ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন ঘটতে চলেছে। এখন থেকে দেশের বেসরকারি কোম্পানিগুলো প্রাণঘাতী কৌশলগত অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করবে—যেসব সামগ্রী আগে…

DRDO

DRDO: ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন ঘটতে চলেছে। এখন থেকে দেশের বেসরকারি কোম্পানিগুলো প্রাণঘাতী কৌশলগত অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করবে—যেসব সামগ্রী আগে শুধুমাত্র সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোই উৎপাদন করত। এই প্রথমবার, ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা-ভিত্তিক অস্ত্র ব্যবস্থা উৎপাদনের জন্য বেসরকারি খাতের কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছে। এই পদক্ষেপটি প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রে নতুন গতি সঞ্চার করবে। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের ফলে সশস্ত্র বাহিনী আরও দ্রুত ও অধিক পরিমাণে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে।

Advertisements

বেসরকারি সংস্থাগুলোর কাছে আবেদন আহ্বান করেছে ডিআরডিও (DRDO)
ডিআরডিও-র ‘মিসাইলস অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক সিস্টেমস’ বিভাগ ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলোর জন্য ‘এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট’ (EOI) বা আগ্রহপত্র আহ্বান করেছে। এই উদ্যোগের আওতায় অগ্নি সিরিজের মতো আক্রমণকারী ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য পারমাণবিক অস্ত্র পর্যন্ত বিভিন্ন নতুন সংস্করণ তৈরি করা হবে। বর্তমানে, এই সংবেদনশীল অস্ত্রশস্ত্র উৎপাদনের মূল দায়িত্ব মূলত ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড (বিডিএল)-এর মতো সরকারি খাতের সংস্থাগুলোর ওপর ন্যস্ত। নতুন পরিকল্পনার আওতায় এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেসরকারি খাতকেও অংশীদার হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে। টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড (টিএএসএল) এবং সোলার অ্যারোস্পেস অ্যান্ড ডিফেন্স-এর মতো প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো এই বড় প্রকল্পগুলোতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে বলে ব্যাপকভাবে আশা করা হচ্ছে।

   

প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে এগুলিই হলো প্রধান শর্ত
যেকোনো কোম্পানির পক্ষেই এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পের অংশ হওয়া সহজ হবে না। ডিআরডিও (DRDO) এর জন্য অত্যন্ত কঠোর কারিগরি ও আর্থিক মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পাওয়ার জন্য কোম্পানিগুলোর কাছে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের শিল্প লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়াও, বিস্ফোরক দ্রব্য নিরাপদে নাড়াচাড়া বা ব্যবহারের জন্য PESO লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। আর্থিক যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে ন্যূনতম টার্নওভারের শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, কোম্পানির নিট সম্পদের পরিমাণ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৫%-এর বেশি হতে হবে। শুধুমাত্র সেই কোম্পানিগুলোকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে যাদের বড় আকারের প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করার প্রমাণিত অভিজ্ঞতা রয়েছে।

ব্যাপক পরিসরে অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা যাচাই করা হবে
এই নতুন ব্যবস্থাটি ‘ডেভেলপমেন্ট-কাম-প্রোডাকশন পার্টনার’ (উন্নয়ন ও উৎপাদন সহযোগী) মডেলের আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে। এই কাঠামোর অধীনে প্রতিটি প্রকল্পের জন্য অন্তত দুটি কোম্পানিকে নির্বাচন করা হবে। প্রাথমিকভাবে, নির্বাচিত কোম্পানিগুলো পরীক্ষার জন্য অস্ত্রের প্রোটোটাইপ বা নমুনা তৈরির লক্ষ্যে ডিআরডিও (DRDO)-র সাথে যৌথভাবে কাজ করবে। অস্ত্রগুলো সফলভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা ট্রায়াল সম্পন্ন করার পর, কৌশলগত বাহিনীর চাহিদার ভিত্তিতে ব্যাপক উৎপাদনের জন্য ওই কোম্পানিগুলোকেই কার্যাদেশ প্রদান করা হবে।

Advertisements

কঠোর তদারকিই দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে
অস্ত্রের গুণমানে যাতে কোনো ঘাটতি না থাকে, তা নিশ্চিত করতে ডিআরডিও (DRDO) ৫০ থেকে ১০০টিরও বেশি অস্ত্রের ব্যাচ তৈরির সক্ষমতা কঠোরভাবে যাচাই করবে। এই কাজের জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোনো কোম্পানিকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আগে এই কমিটি তাদের কারখানা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিদর্শন করবে। বিশেষজ্ঞদের একটি দল সরেজমিনে যাচাই করে দেখবে যে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রয়োজনীয় কারিগরি সক্ষমতা, যন্ত্রপাতি ও পরিকাঠামো রয়েছে কি না। এই পুরো প্রক্রিয়ার প্রত্যক্ষ ফলাফল হিসেবে ভবিষ্যতে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

Advertisements