লন্ডন: নতুন রাইডার এবং ইউরোপের এ১ লাইসেন্সধারীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে কাওয়াসাকি নিনজা ১২৫। ছোট ইঞ্জিনের এই এন্ট্রি-লেভেল স্পোর্টস বাইকটি কাওয়াসাকির বড় ফেয়ার্ড মোটরসাইকেলগুলির স্পোর্টি ডিজাইন ও রেসিং-অনুপ্রেরণা ধরে রেখেছে। ইউরোপের বাজারে বাইকটির দাম শুরু হচ্ছে ৪,৬৯৯ পাউন্ড, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬.০৮ লক্ষ টাকা। বাইকটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পাঁচটি দিক এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।
১. বেশি আরপিএমে পারফরম্যান্স দিতে তৈরি ইঞ্জিন
কাওয়াসাকি নিনজা ১২৫-এ রয়েছে লিকুইড-কুলড সিঙ্গল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন। এটি ১০,০০০ আরপিএমে ১৪.১৪ পিএস শক্তি এবং ৭,৭০০ আরপিএমে ১১.৭ এনএম টর্ক তৈরি করে। লিকুইড-কুলিং প্রযুক্তি এবং স্ট্রোকের তুলনায় বড় বোরের কারণে একই ক্ষমতার এয়ার-কুলড ইঞ্জিনের তুলনায় ইঞ্জিনটি বেশি আরপিএমে কাজ করার সুবিধা পায়। ইঞ্জিনের সঙ্গে রয়েছে ৬-স্পিড গিয়ারবক্স, যা ইঞ্জিনের পারফরম্যান্সকে আরও ভালোভাবে কাজে লাগাতে সাহায্য করতে পারে।
২. স্পোর্টি রাইডিং পজিশন
নিনজা ১২৫-এ সামান্য পিছনের দিকে সেট করা ফুটপেগ এবং ক্লিপ-অন হ্যান্ডেলবার দেওয়া হয়েছে। ফলে বাইকটিতে স্পোর্টি রাইডিং পজিশন পাওয়া যায়। তবে রাইডিং পজিশন অত্যন্ত আক্রমণাত্মক নয়। ক্লিপ-অন হ্যান্ডেলবার কিছুটা উঁচুতে রাখা হয়েছে, ফলে দৈনন্দিন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এটি তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক হতে পারে।
বাইকটির সিটের উচ্চতা ৭৮৫ মিলিমিটার, ফলে অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার রাইডারদের কাছেও এটি সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। আবার লম্বা রাইডারদের জন্য ২০ মিলিমিটার বেশি উঁচু সিট বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পিছনের পিলিয়ন সিট অবশ্য ছোট দূরত্বের যাত্রার জন্য বেশি উপযোগী। ফেয়ার্ড স্পোর্টস বাইকের ক্ষেত্রে এই ধরনের পিলিয়ন সিট খুব একটা অস্বাভাবিক নয়।

৩. সহজ-সরল চেসিস ও সাসপেনশন
কাওয়াসাকি নিনজা ১২৫-এর চেসিস তৈরি হয়েছে টিউবুলার স্টিল ট্রেলিস ফ্রেম দিয়ে। কাওয়াসাকির পরিচিত সবুজ রঙে ফ্রেমটি ফিনিশ করা হয়েছে। সাসপেনশনের ক্ষেত্রে সামনে রয়েছে টেলিস্কোপিক ফর্ক, আর পিছনে রয়েছে লিঙ্কড মনোশক। ইনভার্টেড ফর্ক থাকলে বাইকটিকে আরও প্রিমিয়াম মনে হতে পারত, তবে সঠিকভাবে টিউন করা টেলিস্কোপিক ফর্ক দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট হতে পারে। ব্রেকিংয়ের ক্ষেত্রে সামনে ও পিছনে ডিস্ক ব্রেক রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য দেওয়া হয়েছে ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস।
৪. পুরনো ধাঁচের ডিজাইনই আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে
কাওয়াসাকির বর্তমান নিনজা পরিবারে বেশিরভাগ মডেলেই আধুনিক ও একই ধরনের ডিজাইনের প্রভাব দেখা যায়। কিন্তু নিনজা ১২৫-এর ক্ষেত্রে সংস্থাটি পুরনো ডিজাইনটি এখনও ধরে রেখেছে।
বাইকটিতে রয়েছে সিঙ্গল-পড হ্যালোজেন হেডলাইট, যা ধারালো ফেয়ারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। আধুনিক বাইকের তুলনায় এটি কিছুটা পুরনো মনে হতে পারে। তবে এর ফলে ছোট নিনজাটি পরিবারের অন্য বাইকগুলির তুলনায় আলাদা পরিচয় পেয়েছে। ইন্সট্রুমেন্ট কনসোলেও রয়েছে রেট্রো ধাঁচ। এখানে কমলা আলোযুক্ত এলসিডি ডিসপ্লে রয়েছে, তবে বিল্ট-ইন কানেক্টিভিটি দেওয়া হয়নি। চাইলে অতিরিক্ত খরচ করে স্মার্টফোন হোল্ডার নেওয়া যায়।
৫. দুটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যায় বাইকটি
কাওয়াসাকি নিনজা ১২৫ দুটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যায়, স্ট্যান্ডার্ড এবং পারফরম্যান্স। পারফরম্যান্স ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে কার্বন-ফাইবার টিপযুক্ত অ্যারো এক্সহস্ট। এই এক্সহস্ট ইউরো ৫+ নির্গমন মান মেনে চলে। স্ট্যান্ডার্ড এক্সহস্টের তুলনায় এটি হালকা এবং দেখতে আরও স্পোর্টি।
এছাড়াও পারফরম্যান্স ভ্যারিয়েন্টে কারখানা থেকেই দেওয়া হয় পিলিয়ন সিট কাউল, ফ্রেম স্লাইডার, স্মোকড উইন্ডস্ক্রিন এবং ট্যাঙ্ক প্যাড। তবে এই সবকটি ফিচার একসঙ্গে না চাইলে কাওয়াসাকির অ্যাকসেসরি ক্যাটালগ থেকেও নির্দিষ্ট উপকরণ আলাদাভাবে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
দাম কত?
কাওয়াসাকি নিনজা ১২৫-এর স্ট্যান্ডার্ড ভ্যারিয়েন্টের দাম ৪,৬৯৯ পাউন্ড, আর পারফরম্যান্স ভ্যারিয়েন্টের দাম ৫,৪৯৯ পাউন্ড। নিনজা ১২৫ মূলত এমন রাইডারদের জন্য তৈরি, যারা ছোট ক্ষমতার বাইক দিয়ে স্পোর্টস বাইকের জগতে প্রবেশ করতে চান। শক্তিশালী ফেয়ারিং ডিজাইন, ৬-স্পিড গিয়ারবক্স, ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস এবং তুলনামূলকভাবে অ্যাক্সেসিবল সিট উচ্চতা এটিকে নতুন রাইডারদের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
