ইসলামাবাদ: কত নিচে নামবে পাকিস্তান। (Hafiz Saeed)ভারতের শান্তি বিঘ্নিত করার জন্য ঠিক কি পরিমান নিচে তারা নেমেছে। তাই উঠে আসছে সাম্প্রতিক রিপোর্টে। পাকিস্তানের একজন প্রভাবশালী মৌলানা যিনি লস্কর-ই-তৈয়বার সদস্যদের ব্রেন ওয়াশ করেন, সেই নাসির মাদানি সম্প্রতি এক জনসভায় হাফিজ সাঈদ সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, লস্কর-ই-তৈয়বার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সাঈদ কাশ্মীরে জিহাদের নামে দশ হাজার জঙ্গি পাঠিয়েছেন।
বাহাওয়ালপুর বা বাহাওয়ালনগর এলাকায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন। তাঁর এই বক্তব্য পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক এবং তাদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।নাসির মাদানি তাঁর বক্তৃতায় হাফিজ সাঈদের (Hafiz Saeed)প্রশংসা করে বলেন যে, সাঈদ কাশ্মীরের জন্য এবং দেশের জন্য কুরবানি দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, সাঈদ দশ হাজার যুবককে কাশ্মীরে পাঠিয়েছেন জিহাদের পথে।
আরও দেখুনঃ জন্তরমন্তর প্রতিবাদে উপস্থিত ছিল ২৪০০ দাগি আসামি! ফেস রিকগনিশনে ফাঁস বড় তথ্য
বর্তমানে সাঈদ জেলে আছেন এবং মাদানির মতে তাঁকে এই কারণেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এই মন্তব্যগুলো খোলা মঞ্চে করা হওয়ায় তা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ভিডিও ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতীয় গণমাধ্যমেও বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে।হাফিজ সাঈদ (Hafiz Saeed)দীর্ঘদিন ধরে ভারতবিরোধী জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়াও কূটনীতিক মহলের একাংশ মনে করেন যে হাফিজ সাঈদকে জেলে পাঠানো একটা প্রহসন ছাড়া কিছুই নয়।
হাফিজ ২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ জঙ্গি। লস্কর-ই-তৈয়বা ও জামাত-উদ-দাওয়া সংগঠনের মাধ্যমে তিনি কাশ্মীরে জঙ্গি অনুপ্রবেশ ও প্রশিক্ষণের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন বলে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে। নাসির মাদানির এই বক্তব্য সেই অভিযোগকেই আরও জোরালো করেছে।
আরও দেখুনঃ ভারত-মার্কিন বাণিজ্যে ঘুচুক জট! কর ও নীতিতে স্থিরতার বার্তা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের স্বীকারোক্তি পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসবাদী (Hafiz Saeed)সংগঠনগুলোর কার্যকলাপের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। কাশ্মীরে দীর্ঘদিন ধরে চলা সন্ত্রাসবাদ ও অনুপ্রবেশের পেছনে পাকিস্তানভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা নিয়ে ভারত বারবার আন্তর্জাতিক মহলে অভিযোগ তুলেছে। মাদানির এই বক্তব্য সেই প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই ঘটনা পাকিস্তানের ভেতরে সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের প্রভাব এবং তাদের প্রচার কার্যক্রমকেও সামনে নিয়ে এসেছে। হাফিজ সাঈদ জেলে থাকা সত্ত্বেও তাঁর নামে এবং তাঁর আদর্শকে কেন্দ্র করে এখনও প্রচার চলছে। নাসির মাদানির মতো ব্যক্তিরা খোলাখুলিভাবে এসব কথা বলায় দেখা যায় যে, সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থন এখনও কিছু মহলে সক্রিয় রয়েছে।
