Bitcoin ইটিএফে ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চ অর্থপ্রত্যাহার, ৬৩ হাজার ডলারে স্থবির বাজার

মুম্বই: বিটকয়েনের (Bitcoin) দামে বড় কোনও পরিবর্তন না আসায় এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বাড়তে থাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তালিকাভুক্ত স্পট বিটকয়েন এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড বা ইটিএফ থেকে…

bitcoin-etf-outflows-six-week-high-crypto-market

মুম্বই: বিটকয়েনের (Bitcoin) দামে বড় কোনও পরিবর্তন না আসায় এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বাড়তে থাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তালিকাভুক্ত স্পট বিটকয়েন এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড বা ইটিএফ থেকে গত সপ্তাহে বড় অঙ্কের অর্থ বেরিয়ে গিয়েছে। অগস্টের শুরুতে শক্তিশালী প্রবাহ দেখা গেলেও সপ্তাহ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রবণতা পুরোপুরি বদলে যায়।

Advertisements

ব্লুমবার্গের সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, অগস্টের ১০ তারিখ থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তালিকাভুক্ত ১৩টি স্পট বিটকয়েন ইটিএফ থেকে মোট ৩৮৯.৭ মিলিয়ন ডলার বেরিয়ে গিয়েছে। জুনের শেষ সপ্তাহের পর এটিই এই তহবিলগুলির সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক অর্থপ্রত্যাহার। এর ঠিক আগের সপ্তাহে অবশ্য এই ১৩টি তহবিলে ৮৫৩.৫ মিলিয়ন ডলার নতুন করে ঢুকেছিল। অর্থাৎ, অল্প সময়ের মধ্যেই বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের বড় পরিবর্তন দেখা গিয়েছে।

   

অগস্টের শুরুতে ছিল বিপরীত ছবি

অগস্টের প্রথম সপ্তাহে বিটকয়েন ইটিএফগুলিতে বিনিয়োগের প্রবাহ ছিল যথেষ্ট শক্তিশালী। এপ্রিলের পর সেটিই ছিল এই তহবিলগুলিতে এক সপ্তাহে সবচেয়ে বড় অর্থপ্রবাহ।

কোল্ডকার্ড ব্র্যান্ডের অফলাইন বিটকয়েন ওয়ালেট নিয়ে সাম্প্রতিক হ্যাকের পর ওই সময়ে প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বিটকয়েনে বিনিয়োগের আগ্রহও কিছুটা বেড়েছিল। বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ সরাসরি ডিজিটাল মুদ্রা সংরক্ষণের পরিবর্তে ইটিএফের মাধ্যমে বিটকয়েনের দামের ওঠানামায় অংশ নেওয়াকে তুলনামূলক সুবিধাজনক মনে করেছিলেন। তবে সেই আগ্রহ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

Advertisements

ব্লকচেন নিরাপত্তা সংস্থা সার্টিকের পুঁজিবাজার ও নীতি বিভাগের প্রধান এস্মে পাও-এর মতে, গত সপ্তাহে ইটিএফ থেকে অর্থপ্রত্যাহার বিটকয়েন বাজারের দুর্বল মনোভাবকেই প্রতিফলিত করছে। কোল্ডকার্ড হ্যাকের পর যে অর্থপ্রবাহ দেখা গিয়েছিল, সেটি সম্ভবত ব্যতিক্রমী ঘটনা ছিল এবং বৃহত্তর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মনোভাব এখনও সতর্ক, এমনকি কিছুটা হতাশাবাদীও।

৬৩ হাজার ডলারের কাছে আটকে বিটকয়েন

ইটিএফ থেকে অর্থ বেরিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিটকয়েনের দামও গত সপ্তাহে কার্যত একটি সংকীর্ণ পরিসরের মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে। প্রায় ৬৩ হাজার ডলারের আশপাশে এর দাম আটকে রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিটকয়েন বর্তমানে গত বছরের অক্টোবর মাসে তৈরি সর্বকালীন সর্বোচ্চ দামের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ নিচে রয়েছে। উচ্চ সুদের হারের সম্ভাবনা বাজারের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতাকে কমিয়ে দিচ্ছে। এর পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রস্তাবিত ক্ল্যারিটি আইন নিয়েও এখনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়া ক্রিপ্টো বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা আপাতত অপেক্ষার কৌশল নিয়েছেন।

কোল্ডকার্ড হ্যাকের প্রভাব

সম্প্রতি টরন্টোভিত্তিক সংস্থা কয়েনকাইটের তৈরি কোল্ডকার্ড ব্র্যান্ডের অফলাইন বিটকয়েট ওয়ালেট নিয়ে একটি নিরাপত্তা সমস্যা সামনে আসে। কোল্ড ওয়ালেট সাধারণত ক্রিপ্টো সম্পদ সুরক্ষিত রাখার অন্যতম নিরাপদ পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু ওই ওয়ালেটের মাধ্যমে বিটকয়েনের গোপন চাবি তৈরির প্রক্রিয়ায় একটি দুর্বলতা দেখা দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর ফলে কিছু বিনিয়োগকারীর কাছে সরাসরি বিটকয়েন রাখার পরিবর্তে ইটিএফের মাধ্যমে এই সম্পদে বিনিয়োগ করার যুক্তি আরও জোরালো হয়েছিল। তবে সেই ঘটনা থেকে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত চাহিদা এখন অনেকটাই কমে এসেছে।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সূচক ইটিএফ

স্পট বিটকয়েন ইটিএফের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, কারণ এগুলির মাধ্যমে প্রচলিত আর্থিক বাজারের বিনিয়োগকারীরা সরাসরি বিটকয়েন কিনে সংরক্ষণ করার ঝুঁকি ছাড়াই এর দামের সঙ্গে নিজেদের বিনিয়োগকে যুক্ত করতে পারেন। এই কারণেই ইটিএফে অর্থের প্রবাহকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিটকয়েনের প্রতি আগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে অর্থপ্রত্যাহার চলতে থাকলে তা বিটকয়েনের দাম এবং বাজারের তারল্যের উপর চাপ তৈরি করতে পারে।

গত সপ্তাহে বিটকয়েনের দাম প্রায় ২ শতাংশের একটি সংকীর্ণ পরিসরের মধ্যে ছিল। সিঙ্গাপুরে সোমবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ বিটকয়েনের দাম ছিল প্রায় ৬৩,৪০০ ডলার। এদিকে, বিটকয়েনের সম্ভাব্য দামের ওঠানামা পরিমাপ করা ইমপ্লাইড ভোলাটিলিটি সূচক সোমবার প্রায় ৩৭-এর কাছাকাছি ছিল। এটি চলতি বছরের গড়ের নিচে এবং ফেব্রুয়ারির শুরুতে দেখা ৮২.২-এর সর্বোচ্চ স্তরের তুলনায় অনেক কম।

সামগ্রিকভাবে বিটকয়েনের দাম স্থবির থাকা, উচ্চ সুদের হারের আশঙ্কা, মার্কিন ক্রিপ্টো নীতিতে অনিশ্চয়তা এবং ইটিএফ থেকে বড় অর্থপ্রত্যাহার বাজারে সতর্ক মনোভাবেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনে ইটিএফে নতুন অর্থপ্রবাহ ফিরে আসে কি না, সেটিই বিটকয়েনের প্রাতিষ্ঠানিক চাহিদার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হয়ে উঠতে পারে।

Advertisements