পশ্চিম এশিয়া সংঘাতের জের, দেশে LPG উৎপাদনে বড় লক্ষ্যমাত্রা কেন্দ্রের

নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায়র সংঘাতের (West Asia Conflict) জেরে আমদানি করা রান্নার গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি সামনে আসতেই দেশে এলপিজি সরবরাহ আরও শক্তিশালী করতে বড়…

india-lpg-production-target-west-asia-conflict-supply-security

নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায়র সংঘাতের (West Asia Conflict) জেরে আমদানি করা রান্নার গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি সামনে আসতেই দেশে এলপিজি সরবরাহ আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। প্রথমবারের মতো সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রের পৃথক তেল শোধনাগার এবং আপস্ট্রিম সংস্থাগুলির জন্য সর্বোচ্চ এলপিজি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

Advertisements

১৩ অগাস্ট জারি করা এক নির্দেশে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক মোট ২১টি শোধনাগার ও আপস্ট্রিম সংস্থার জন্য এলপিজি উৎপাদনের নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দিয়েছে। সব সংস্থার সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা প্রতিদিন ৬৩,৮১০ টন নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সীমা কার্যকর হবে যখন দেশে এলপিজি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেবে।

   

রিলায়েন্সের জন্য সবচেয়ে বড় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা

সরকারি তেল সংস্থাগুলির পরিচালিত ১৮টি শোধনাগারের জন্য সম্মিলিতভাবে প্রতিদিন ৩১,৪৭০ টন এলপিজি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বেসরকারি ক্ষেত্রের মধ্যে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের জামনগর শোধনাগারের জন্য সবচেয়ে বেশি উৎপাদন সম্ভাবনা নির্ধারণ করা হয়েছে। গুজরাটের জামনগরে থাকা এই দেশীয় বাজারের জন্য নির্ধারিত শোধনাগার থেকে প্রতিদিন ১৮,০০০ টন এলপিজি উৎপাদনের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

এরপর রয়েছে ভারত পেট্রোলিয়ামের কোচি শোধনাগার। তাদের জন্য প্রতিদিন ৪,৮০০ টন উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রাশিয়ার রসনেফট সমর্থিত নায়ারা এনার্জির জন্য নির্ধারিত হয়েছে প্রতিদিন ৪,৪৮০ টন। এই তিন সংস্থার সম্ভাব্য উৎপাদন ক্ষমতা মিলিয়ে দাঁড়ায় প্রতিদিন ২৭,২৮০ টন।

Advertisements

রিলায়েন্সের একই জামনগর কমপ্লেক্সে থাকা রপ্তানিমুখী ৩৫.২ মিলিয়ন টন-বার্ষিক শোধনাগারের জন্য অবশ্য কোনও উৎপাদন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়নি। দেশীয় বাজারে পণ্য বিক্রি করা ৩৩ মিলিয়ন টন-বার্ষিক শোধনাগারটির জন্যই এই লক্ষ্য প্রযোজ্য।

ওএনজিসি ও গেইলকেও উৎপাদনের লক্ষ্য

শুধু শোধনাগার নয়, প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে এলপিজি উৎপাদন করা আপস্ট্রিম গ্যাস উৎপাদক ও প্রক্রিয়াকরণ সংস্থাগুলিকেও এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। ওএনজিসি এবং গেইলের মতো সংস্থাগুলিকে মিলিয়ে প্রতিদিন ৬,৪৬০ টন এলপিজি উৎপাদনের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে।

সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, সরকারি, যৌথ উদ্যোগ এবং বেসরকারি তেল শোধনাগার সংস্থাগুলির পাশাপাশি আপস্ট্রিম তেল সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট পরিমাণ এলপিজি সংরক্ষণ, সরিয়ে নেওয়া এবং পরিবহণের জন্য পর্যাপ্ত পরিকাঠামো তৈরি ও বজায় রাখতে হবে। এর জন্য সংস্থাগুলি নিজেদের পরিকাঠামো ব্যবহার করতে পারে। প্রয়োজন হলে রেলপথ বা সড়কপথে ট্যাঙ্কারের মাধ্যমেও এলপিজি পরিবহণের ব্যবস্থা করতে হবে।

দেশের এলপিজি চাহিদার বড় অংশই আমদানি নির্ভর

সরকারের এই পদক্ষেপের অন্যতম প্রধান কারণ ভারতের এলপিজি আমদানির উপর উচ্চ নির্ভরতা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত মোট ৩৩.২ মিলিয়ন টন এলপিজি ব্যবহার করেছে, অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ৯১,০০০ টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত হয়েছে ১৩.১ মিলিয়ন টন, যা প্রতিদিন প্রায় ৩৫,৯০০ টনের সমান। অন্যদিকে প্রায় ২১.৩ মিলিয়ন টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে, অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ৫৮,৪০০ টন।

ফলে দেশের মোট এলপিজি ব্যবহারের ৬৪ শতাংশেরও বেশি আমদানির উপর নির্ভরশীল ছিল। পশ্চিম এশিয়ায়র সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহের সমস্যা তৈরি হওয়ায় এই আমদানি নির্ভরতার ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সৌদি আরবের মতো দেশ থেকে ভারতের আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের মাধ্যমে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উৎপাদন বাড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহার

সরকার শুধু বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতার ভিত্তিতে লক্ষ্য নির্ধারণ করেনি। সংস্থাগুলিকে প্রযুক্তিগত এবং অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর উপায়ে বর্তমান ন্যূনতম উৎপাদনের তুলনায় আরও বেশি এলপিজি উৎপাদনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ন্যাফথা থেকে এলপিজি তৈরির প্রযুক্তি এবং গ্যাসোলিন-ভিত্তিক ফ্লুইড ক্যাটালিটিক ক্র্যাকিং ইউনিটকে পেট্রো-ফ্লুইড ক্যাটালিটিক ক্র্যাকিং ইউনিটে উন্নীত করার মতো প্রযুক্তিও রয়েছে। এর লক্ষ্য হল বিদেশ থেকে আমদানি কমিয়ে সরবরাহের প্রয়োজনের সময় দেশীয় উৎপাদন দ্রুত বাড়াতে সক্ষম হওয়া।

প্রতি ছয় মাসে উৎপাদনের লক্ষ্য পর্যালোচনা করবে সরকার

কেন্দ্র জানিয়েছে, এলপিজি উৎপাদনের এই লক্ষ্য প্রতি ছয় মাসে পর্যালোচনা করা হবে। নতুন শোধনাগার, নতুন তেল ও গ্যাসক্ষেত্র এবং প্রযুক্তিগত উন্নতির ফলে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়লে তা নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সময় বিবেচনা করা হবে।

অর্থাৎ পশ্চিম এশিয়ায়র সাম্প্রতিক সংকটের সময় নেওয়া সাময়িক পদক্ষেপকে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ সুরক্ষা ব্যবস্থায় পরিণত করতে চাইছে সরকার। ভবিষ্যতে বিদেশ থেকে এলপিজি সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হলে যাতে দেশের সাধারণ গ্রাহকদের রান্নার গ্যাসের ঘাটতি, রেশনিং বা রিফিল সংক্রান্ত বিধিনিষেধের মুখে পড়তে না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই নতুন কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা

Also Read |  পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা

Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন

Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের

Advertisements