কলকাতা: এলপিজি (LPG) গ্রাহকদের জন্য আজ, ১৬ আগস্ট, ই-কেওয়াইসি করার শেষ দিন। সব গ্রাহকের জন্য কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা বা PMUY-এর আওতায় ভর্তুকিযুক্ত গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া গ্রাহকদের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব আরও বেশি।
PMUY-এর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের বায়োমেট্রিক আধার যাচাই করতে হবে। স্থানীয় এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরের কাছেও এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। তবে ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে দীর্ঘ লাইন থাকলে স্মার্টফোনের সাহায্যে অ্যাপ থেকেও বাড়িতে বসে বা অন্য কোথাও থেকে ই-কেওয়াইসি করা সম্ভব। যাঁরা ইতিমধ্যেই ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করেছেন, তাঁদের আবার এই প্রক্রিয়া করার প্রয়োজন নেই।
১৬ আগস্টের মধ্যে কেওয়াইসি না করলে কী হবে?
শেষ তারিখ পেরিয়ে গেলে গ্রাহকের এলপিজি সংযোগ সরাসরি বাতিল হয়ে যাবে, এমনটা নয়। তবে এর ফলে বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার সুবিধাভোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা তৈরি হতে পারে। ইন্ডিয়ান অয়েলের গ্রাহক বার্তা অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ না করলে ই-কেওয়াইসি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহক অযোগ্য হয়ে যেতে পারেন।
অর্থাৎ, কেওয়াইসি সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। পাশাপাশি PMUY-এর আওতায় পাওয়া ভর্তুকির সুবিধাও প্রভাবিত হতে পারে।
PMUY গ্রাহকদের জন্য কত ভর্তুকি?
বর্তমান আর্থিক বছর FY27-এর জন্য কেন্দ্র সরকার PMUY সুবিধাভোগীদের ১৪.২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারে ৩০০ টাকা ভর্তুকি অনুমোদন করেছে। তবে এই ভর্তুকি বছরে সর্বোচ্চ চারটি রিফিলের জন্য প্রযোজ্য। তাই PMUY গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ না থাকলে ভর্তুকিযুক্ত গ্যাস পাওয়ার সুবিধা নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
Also Read | চার-দরজার Ford Mustang আসছে? ৪ সেকেন্ডের কমে ১০০ কিমি গতি!
ই-কেওয়াইসি না করলে সিলিন্ডারের দাম কত হতে পারে?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ না থাকলে গ্রাহককে ঘরোয়া দামের পরিবর্তে বাণিজ্যিক দরে সিলিন্ডার কিনতে হতে পারে। দিল্লিতে বর্তমানে ১৪.২ কেজি ঘরোয়া গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৯৪২ টাকা, যেখানে ১৯ কেজি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ২,৭৩৮ টাকা। তবে এই দুই সিলিন্ডারের আকার এবং ব্যবহার আলাদা। তাই বাণিজ্যিক ও ঘরোয়া সিলিন্ডারের দাম সরাসরি তুলনা করার আগে বিষয়টি মাথায় রাখা প্রয়োজন।
কেন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ই-কেওয়াইসি?
বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের মূল উদ্দেশ্য হল ভর্তুকিযুক্ত এলপিজি সংযোগের সুবিধা যাতে শুধুমাত্র প্রকৃত ও বৈধ গ্রাহকরাই পান, তা নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে গ্রাহকের পরিচয় যাচাই করার পাশাপাশি এলপিজি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার। কালোবাজারি এবং ভর্তুকির অপব্যবহার রোধ করাও এই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।
মার্চ ২০২৬ থেকে এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে এখনও অনেক গ্রাহকের যাচাই সম্পূর্ণ হয়নি। তাই এলপিজি সংস্থাগুলি ১৬ আগস্টের সময়সীমার কথা জানিয়ে গ্রাহকদের নিয়মিত বার্তা পাঠাচ্ছে।
Also Read | রফতানি খাতে অব্যাহত সাফল্য! ডেড ইকোনোমি সমালোচনাকে ধূলিস্যাৎ করে রফতানি বাড়ল ১৫%
কীভাবে বাড়িতে বসেই ই-কেওয়াইসি করবেন?
নিজের এলপিজি সংযোগ যে তেল বিপণন সংস্থার অধীনে রয়েছে, সেই সংস্থার অফিসিয়াল অ্যাপ স্মার্টফোনে ডাউনলোড করতে হবে। এরপর অ্যাপে ই-কেওয়াইসি করার বিকল্পটি নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহককে মুখ স্ক্যান করে পরিচয় যাচাই করতে হতে পারে।
তবে শুধু মুখ স্ক্যান করলেই প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। ই-কেওয়াইসি সফল হয়েছে কি না, অ্যাপে ‘সাকসেস’ বা সফলতার বার্তা দেখাচ্ছে কি না, তা অবশ্যই যাচাই করতে হবে। যাঁরা এখনও ই-কেওয়াইসি করেননি এবং PMUY-এর সুবিধা পান, তাঁদের ক্ষেত্রে আজকের সময়সীমাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
