কলকাতা, ১৫ আগস্ট: পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের জন্য জমি সংগ্রহের নতুন মডেল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে (industrial land)। রাজ্য সরকার সরাসরি জমি অধিগ্রহণের পথ থেকে সরে আসার কথা ভাবছে। এর পরিবর্তে ইচ্ছুক জমির মালিকদের কাছ থেকে বাজার দরে জমি কেনার ব্যবস্থা করা হতে পারে। জমি বিক্রেতারা প্রকল্পের ইকুইটিতেও অংশীদার হতে পারেন।
রাজ্য সরকার এখানে সুবিধা প্রদানকারী বা ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে কাজ করবে এবং বিনিয়োগকারীদের জমি একত্রিত করতে সাহায্য করবে। (industrial land)এই মডেলের মূল লক্ষ্য শিল্প স্থাপনে জমির সমস্যা কমানো এবং অতীতের দ্বন্দ্ব এড়ানো। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের মতো ঘটনা রাজ্যের শিল্পনীতির ওপর দীর্ঘদিন প্রভাব ফেলেছিল। নতুন সরকার সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে স্বেচ্ছায় জমি বিক্রির পথে এগোতে চাইছে।
আরও দেখুনঃ আফগানিস্তানে তালিবান শাসনের ৫ বছর! গভীর উদ্বেগে রাষ্ট্রসঙ্ঘ
গুজরাত মডেলের মতো জমি বিক্রেতাদের প্রকল্পে শেয়ার দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে জমির মালিকরা শুধু এককালীন টাকা পাবেন না, প্রকল্প সফল হলে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধাও পাবেন। (industrial land)তবে বাংলার জমির চরিত্র এই মডেলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। রাজ্যে জমি অত্যন্ত খণ্ডিত। ছোট ছোট প্লটে অনেক মালিকের অধিকার রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে টাটা মোটরসের সিঙ্গুর প্রকল্পের কথা বলা যায়।
মাত্র ৯৯৭ একর জমির জন্য প্রায় ১৪ হাজার জমির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়েছিল। অন্ধ্রপ্রদেশের অমরাবতীতে ৩৩ হাজার একর জমি প্রায় ২৫ হাজার কৃষকের কাছ থেকে পুল করা হয়েছিল। এত বড় সংখ্যক মালিকের সম্মতি নিয়ে একসঙ্গে জমি একত্রিত করা সহজ কাজ নয়।আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বর্গাদারদের স্বার্থ। (industrial land)বাংলায় অনেক জমিতে বর্গাদার বা ভাগচাষি রয়েছেন। তাঁদের অধিকার সুরক্ষিত না রাখলে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে।
আরও দেখুনঃ ঋতব্রতদের স্বাধীনতা দিবস অনুষ্ঠানে কুণাল ঘোষ! মমতার সঙ্গ ছাড়ছেন?
নগদ অর্থ ও ইকুইটির সমন্বয়ে কি পর্যাপ্ত পরিমাণে একসঙ্গে জমি জোগাড় করা সম্ভব হবে, তা এখনও পরীক্ষার বিষয়। রাজ্য সরকার যদি সফলভাবে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে, তাহলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়তে পারে।শিল্পনীতির এই পরিবর্তন বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে। রাজ্যে বড় শিল্প প্রকল্প আনতে জমির সহজলভ্যতা জরুরি।
একক জানালা ব্যবস্থা ও দ্রুত অনুমোদনের কথাও বলা হচ্ছে। (industrial land)তবে সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর। জমির মালিকরা যদি ন্যায্য মূল্য ও অংশীদারিত্ব পান, তাহলে তাঁরা সহজে সম্মতি দিতে পারেন। একই সঙ্গে বর্গাদারদের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
