কলকাতা: ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের মতো করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছে। কিন্তু এর মাঝেই রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হল নতুন জল্পনা। দল ভেঙে যাওয়া তৃণমূলের দুই শিবিরের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আচমকাই দেখা গেল এক অভাবনীয় দৃশ্য। শনিবার সকালে মমতাপন্থী তৃণমূলের প্রথম সারির নেতা কুণাল ঘোষকে আচমকাই দেখা গেল বিদ্রোহী ঋতব্রত শিবিরের অনুষ্ঠানে! আর এই ঘটনা ঘিরেই শুরু হয় তাঁর দলবদলের জল্পনা। তবে কি এবার মমতার পাশ থেকে সরছেন তাঁর সবচেয়ে বিশ্বস্ত সৈনিক?
কী ঘটেছিল এদিন?
শনিবার সকালে প্রথমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তপসিয়ায় পুরনো তৃণমূল ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন কুণাল ঘোষ। সেখানে দোলা সেন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ মমতাপন্থী নেতা ও ছাত্র-যুবদের সঙ্গে শহিদবেদিতে শ্রদ্ধাও জানান তিনি। কিন্তু সেই কর্মসূচি সেরে ফেরার পথেই ঘটে বিপত্তি। মেট্রোপলিটনের সামনের রাস্তায় হঠাৎ গাড়ি থেকে নেমে পড়েন কুণাল এবং সোজা ঢুকে যান সেখানে চলা ঋতব্রত শিবিরের স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতে।
ঋতব্রতদের ডেরায় কুণাল
মেট্রোপলিটনের ওই এলাকাটি কুণাল ঘোষের বেলেঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যেই পড়ে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ রায়, বিপ্লব মিত্রদের মতো নেতারা, যাঁরা ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর মমতার সঙ্গ ছেড়েছেন এবং বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করেছেন। শুধু সেখানে যাওয়াই নয়, চন্দ্রিমার অনুরোধে ওই কর্মসূচিতে মাইক হাতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যও রাখেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল। আর এরপরেই তাঁর ‘নৌকা বদল’ বা শিবির বদলের জল্পনা তুঙ্গে ওঠে।
জল্পনা উড়িয়ে কুণালের হুঙ্কার
তবে সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিজের বিধানসভা এলাকার কর্মসূচি বলেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। যাঁরা বিজেপির ঘনিষ্ঠ হয়েছেন, তাঁদের ডেরায় গিয়ে তাঁদেরই কটাক্ষ করে এসেছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমে কুণাল বলেন, “আমাদের অফিসের ভাড়া নেওয়া পার্টি অফিসে আমাদের দলের নাম করে কয়েক জন পতাকা তুলছেন দেখে আমি দাঁড়িয়ে পড়ি। মমতাদির নেতৃত্বে তৃণমূল তৈরি হয়েছে। সেই মমতাদিকে ওঁরা মুছে দিতে চান। ওঁদের ডেরায় দাঁড়িয়ে আমি বাঘের বাচ্চার মতো মমতাদির নামটা বলে এসেছি।”
দলবদলের জল্পনা উড়িয়ে তাঁর কড়া জবাব, “দু’নৌকায় পা দিয়ে কুণাল ঘোষ চলে না। একটা পা ব্যবহার করে দাঁড়িয়ে থাকতে, আর একটা লাথি মারতে।” জানা গিয়েছে, ঋতব্রত শিবিরের ওই অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে বিজেপি ঘনিষ্ঠ অনন্ত মহারাজের গ্রেফতারির দাবিও তুলে এসেছেন তিনি।
বাড়ি সংক্রান্ত নথি তলব! আজই পুরসভার দফতরে যেতে পারেন অভিষেকের বাবা
জোরকদমে দল গঠন! ইমামির বিদায়ের পর ইস্টবেঙ্গলের ভরসা জুপিটার,
