ঢাকা: উদ্বোধনী ফিফা আসিয়ান কাপ (FIFA ASEAN Cup) ২০২৬-এ ভারতের পরিবর্তে অংশ নিতে চলেছে বাংলাদেশ। ভারত টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর পর বাংলাদেশের ফুটবল ফেডারেশন আমন্ত্রণ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের জাতীয় দল কমিটি শুক্রবার এই সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছে। ভারতের সরে দাঁড়ানোর মূল কারণ, আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নির্ধারিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ।
কেন টুর্নামেন্ট থেকে সরে গেল ভারত?
ফিফা আসিয়ান কাপের প্রথম আসরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাইরের অতিথি দল হিসেবে ভারতকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। টুর্নামেন্টে ভারতকে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ডিভিশন ১-এর গ্রুপ ‘এ’-তে রাখা হয়েছিল। কিন্তু টুর্নামেন্টের সূচি ভারতের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করে। আসিয়ান কাপের ডিভিশন ১-এর ফাইনালও নির্ধারিত রয়েছে ৩ অক্টোবর, একই দিনে কলকাতায় ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ভারতের ম্যাচ।
অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবে জানিয়েছেন, শুধু ব্রাজিল ম্যাচের সঙ্গে সূচির সংঘাতই নয়, আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে একটি দল সর্বোচ্চ চারটি ম্যাচ খেলতে পারার নিয়মও সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
তিনি জানিয়েছেন, ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে প্রতিশ্রুতির কারণে ভারত আসিয়ান কাপে অংশ নিতে পারছে না এবং বিষয়টি ফিফাকেও জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের সামনে বড় সুযোগ
ভারত সরে দাঁড়ানোর পর ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানায়। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের জাতীয় দল কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। একটি বিকল্প হিসেবে ঢাকায় চার দলের একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথাও বিবেচনা করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ফিফা আসিয়ান কাপের আমন্ত্রণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয় দল কমিটির সদস্য সৈয়দ হাসান কানন জানিয়েছেন, সভাপতি ও জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যান তাবিথ আউয়াল সদস্যদের মতামত নেওয়ার পর আসিয়ান কাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের সামনে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একটি ফিফা-সমর্থিত প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ তৈরি হল।
কবে হবে ফিফা আসিয়ান কাপ?
ফিফা আসিয়ান কাপ ২০২৬-এর মূল পর্বে মোট আটটি দল অংশ নেবে। দলগুলিকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। প্রতিযোগিতাটি ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ভারত প্রথমে ডিভিশন ১-এর গ্রুপ ‘এ’-তে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ছিল। ভারতের জায়গায় বাংলাদেশ কীভাবে গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত হবে, তা নিয়ে আয়োজকদের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।
ভারতের সামনে এখন ব্রাজিল
আসিয়ান কাপ থেকে সরে গেলেও সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোকে কাজে লাগাতে চাইছে ভারত। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচের পাশাপাশি আরও দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা করছে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
রিপোর্ট অনুযায়ী, আলোচনায় থাকা অন্তত একটি দল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। ফলে পরিকল্পনা সফল হলে ওই আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে ভারত তিনটি শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলতে পারে। ভারতীয় ফুটবলের জন্য ব্রাজিল ম্যাচকে বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন কল্যাণ চৌবে। তাঁর মতে, ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে খেলা ভারতীয় ফুটবলারদের জন্য প্রায় জীবনে একবার পাওয়া সুযোগ।
ভারতকে জরিমানা দিতে হবে?
আসিয়ান কাপ থেকে ভারতের প্রত্যাহারের কারণে জরিমানার সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রতিযোগিতার নিয়মের ৫.২ ধারায় বলা হয়েছে, প্রথম ম্যাচের অন্তত ৩০ দিন আগে কোনও অংশগ্রহণকারী দেশ সরে দাঁড়ালে ন্যূনতম ১৫ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা হতে পারে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৭.৬ লক্ষ টাকা। তবে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন আশা করছে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই জরিমানা এড়ানো সম্ভব হবে।
ফিফার মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রমকে বিস্তারিত ই-মেল করে ভারতের প্রত্যাহারের কারণ জানানো হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রাজিলের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত ম্যাচ এবং সূচিগত সমস্যার বিষয়টি ফিফা বিবেচনা করবে বলেই আশা করছে ভারত।
এখন ভারতের নজর ব্রাজিল ম্যাচ এবং সম্ভাব্য আরও দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের দিকে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সামনে তৈরি হয়েছে উদ্বোধনী ফিফা আসিয়ান কাপে নিজেদের শক্তি পরীক্ষার বড় সুযোগ।
