ভোরের আলো ফোটার আগেই ইন্দোনেশিয়ায় ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প-সুনামি! নিহত ৫

জাকার্তা: ইন্দোনেশিয়ার (Indonesia)পূর্বাঞ্চলে শনিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই ভয়াবহ এক ভূমকম্পনে কেঁপে উঠেছে পুরো অঞ্চল। প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগুনের বলয়ের অংশ এই দেশে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী…

indonesia-earthquake-tsunami

জাকার্তা: ইন্দোনেশিয়ার (Indonesia)পূর্বাঞ্চলে শনিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই ভয়াবহ এক ভূমকম্পনে কেঁপে উঠেছে পুরো অঞ্চল। প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগুনের বলয়ের অংশ এই দেশে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে ফ্লোরেস দ্বীপের কাছাকাছি সমুদ্রতটে। এতে একাধিক আফটারশক অনুভূত হয়েছে এবং কয়েকটি এলাকায় ছোটখাটো সুনামি ঢেউও দেখা গেছে।

Advertisements

ফ্লোরেস দ্বীপ থেকে আসা নাটকীয় ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে এক ভবন ধ্বসে পড়ছে আর আতঙ্কিত বাসিন্দারা প্রাণভয়ে দৌড়ে পালাচ্ছেন।স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ছটায় এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, কেন্দ্রস্থল ছিল পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের এন্দে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপশ্চিমে।

   

আরও দেখুনঃ রাঁচিতে ছাত্র আন্দোলনের নেতা দেবেন্দ্রকে তিরঙ্গা যাত্রায় অংশগ্রহণ করতে বাধা পুলিশের

গভীরতা ছিল মাত্র ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার, যা এটিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে। (Indonesia )ভূমিকম্পের ধাক্কা এত তীব্র ছিল যে ফ্লোরেস দ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকায় বাড়িঘর কেঁপে উঠেছে, দেয়াল ফেটেছে আর অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।মাউমেরে বন্দর এলাকার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে টার্মিনাল ভবনের অংশবিশেষ ধসে ধুলো ও ধ্বংসস্তূপের স্তূপ তৈরি হচ্ছে।

Advertisements

চারপাশে মানুষের চিৎকার আর দৌড়ানোর শব্দ। অনেকেই ঘুম থেকে উঠেই বাইরে বেরিয়ে উঁচু জায়গার দিকে ছুটেছেন। ন্যাগেকেওসহ উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দা সুনামির আশঙ্কায় উঁচু ভূমিতে আশ্রয় নিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করেছিল। কয়েকটি স্থানে এক মিটারের কম উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে।

প্রায় তিন ঘণ্টা পর সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়, (Indonesia)তবে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের গভর্নর জানিয়েছেন, অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তারা ঘুমন্ত অবস্থায় ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মারা যান। স্থানীয় উদ্ধার সংস্থা মাউমেরে এলাকায় আরও বেশি হতাহতের কথা জানিয়েছে।

আরও দেখুনঃ সশস্ত্র নকশাল শেষ, বড় বিপদ ‘দিমাগি নকশালবাদ’! সতর্কবার্তা মোদীর

কয়েকজন আহত এবং কেউ কেউ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন বলে জানা গেছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।এই অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ। ১৯৯২ সালে একই এলাকায় ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামিতে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি এখনও তাজা। তাই এবারের কম্পন শুরু হতেই মানুষজন দ্রুত সাড়া দিয়েছেন।

হাসপাতাল থেকে রোগীদের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। (Indonesia)অনেক বাড়িঘর ও সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে কয়েকটি এলাকায়।ভূমিকম্পের পরপরই একাধিক আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে একটি ছিল ৬.১ মাত্রার।

আরও দেখুনঃ ইতিহাসে প্রথমবার! ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় গাওয়া হল ‘বন্দে মাতরম’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক দিনে আরও কম্পন হতে পারে। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা বিএমকেজি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংগ্রহের কাজ চালাচ্ছে। হেলিকপ্টারসহ উদ্ধার দল মোতায়েন করা হয়েছে।

Advertisements