উন্নয়নের ‘সপ্তধারা’! ২০৪৭-এর ভারতকে চালিকাশক্তি করতে ৭ শক্তির মন্ত্র প্রধানমন্ত্রী মোদীর

নয়াদিল্লি: আগামী ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে বিশ্বের চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে নয়া রূপরেখা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যুবশক্তির ওপর…

নয়াদিল্লি: আগামী ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে বিশ্বের চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে নয়া রূপরেখা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যুবশক্তির ওপর ভর করে এক নতুন ভারত গড়ার লক্ষ্যে তিনি ‘সপ্তধারা’ বা সাতটি শক্তির উৎসের কথা ঘোষণা করেছেন। এই সাতটি ধারা হলো, উৎপাদন ক্ষমতা, কৃষি ও খাদ্যপণ্য, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, পরিকাঠামো বা গতি শক্তি, প্রতিরক্ষা ক্ষমতা, সবুজ ও নীল অর্থনীতি এবং সফট পাওয়ার। এই ক্ষেত্রগুলিকে কেন্দ্র করেই ভারত আগামী দিনে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

Advertisements

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন প্রথম ধারা অর্থাৎ উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং-এর ওপর। শিল্পপতি ও এমএসএমই-দের তিনি এই ‘সময়ের সেরা সুযোগ’ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ পণ্য, সবকিছুর ক্ষেত্রেই ভারতকে গ্লোবাল সাপ্লাই-চেন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য উৎপাদন ক্ষেত্রে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে- খরচ, গুণমান ও স্কেলে বিশ্বমানের হওয়া; ব্যবহারকারীবান্ধব ও প্রতিযোগিতামূলক দাম এবং বিশ্বের মানুষের কাছে আকর্ষণীয় প্যাকেজিং। মোদী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘জিরো-ডিফেক্ট’ এবং নিখুঁত উৎপাদনই হওয়া উচিত ভারতের আসল পরিচয়। পাশাপাশি, এআই, কোয়ান্টাম টেকনোলজি, মহাকাশ, রোবোটিক্স এবং ডেটা সেন্টারের গ্লোবাল হাব তৈরি করার কথাও বলেন তিনি।

   

ভারতের ‘সফট পাওয়ার’ প্রসঙ্গে মোদী যোগ, আয়ুর্বেদ এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার কথা তুলে ধরেন। হস্তশিল্প, চলচ্চিত্র, ভিএফএক্স, অ্যানিমেশন, গেমিং এবং ডিজিটাল কন্টেন্টকে কাজে লাগিয়ে ভারতের সৃজনশীল অর্থনীতিকে গ্লোবাল ব্র্যান্ড করার কথা বলেছেন তিনি। পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, কেন ভারত বিশ্বের বড় বড় স্পোর্টিং ইভেন্ট আয়োজন করবে না? বিদেশি শিল্পীদের ভারতে পারফর্ম করার ইচ্ছার কথা উল্লেখ করে দেশের ক্রমবর্ধমান ‘কনসার্ট ইকোনমি’-র কথাও তুলে ধরেন তিনি।

মোদী কেবল পরিকল্পনার কথা বলেই থেমে থাকেননি, ভারতীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রাও বেঁধে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী এক দশকের মধ্যে বিশ্বের ‘ফর্চুন ৫০০’ তালিকায় ভারতের ৫০টি কোম্পানিকে দেখতে চান তিনি। পাশাপাশি বিশ্বের শীর্ষ ৫টি ব্যাঙ্কের মধ্যে অন্তত একটি ভারতীয় ব্যাঙ্ক এবং বিশ্বের ৫টি বৃহত্তম ফার্মা কোম্পানির মধ্যে একটি ভারতীয় ফার্মা কোম্পানি থাকার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছেন। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসন এবং সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে জানান, পুরনো নিয়ম ও নীতি দিয়ে ভারত আর চলতে পারে না, ২০৪৭-এর উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা মাথায় রেখে নতুন নিয়ম তৈরি করতে হবে।

Advertisements

সেনাবাহিনীর সাইবার সিস্টেমের শক্তি বাড়াতে নয়া প্রযুক্তি ‘আশ্বস্ত’

স্বাধীনতা দিবসের আগের রাতেই যোগী রাজ্যে আটক পাক চর বাকার-ফাতিমা

Advertisements