নয়াদিল্লি: ভারতের রফতানি খাতে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। (India exports)চলতি অর্থবছরের এপ্রিল-জুলাই সময়ে দেশের রফতানি প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। এই প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থানেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। যারা এখনো ভারতীয় অর্থনীতিকে ‘মৃত’ বলে সমালোচনা করেন, তাদের জন্য এটি একটি স্পষ্ট জবাব।বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পণ্য ও পরিষেবা মিলিয়ে রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স, প্রকৌশল পণ্য, পেট্রোলিয়াম পণ্য ও অন্যান্য খাতে ভালো প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ভারতীয় রফতানিকারকরা (India exports)নতুন বাজার ধরতে সক্ষম হয়েছেন। এটি সরকারের ধারাবাহিক নীতি ও বাজার সম্প্রসারণের ফল।মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ ক্ষেত্রেও ভারত বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০১৪ সালের আগে স্বাক্ষরিত এফটিএগুলো মোট প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ডলার জিডিপির অর্থনীতিগুলোকে কভার করত।
আরও দেখুনঃ মেক ইন ইন্ডিয়ায় ফের বড় ঘোষণা! দেশীয় যুদ্ধ বিমান তৈরিতে রিলায়েন্সের সঙ্গে হাত মেলাল রোলস রয়েস
কিন্তু গত চার বছরে সম্পন্ন হওয়া চুক্তিগুলো প্রায় ৬০ ট্রিলিয়ন ডলার জিডিপির অর্থনীতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। এর ফলে ভারতীয় পণ্য ও পরিষেবার জন্য বিশাল বাজার উন্মুক্ত হয়েছে।এই চুক্তিগুলো শুধু বাজার প্রবেশাধিকার বাড়ায়নি, বরং বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও সহায়ক হয়েছে। ইউএই, অস্ট্রেলিয়া, ইএফটিএ, ব্রিটেন সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতির সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এগুলো পরিপূরক অর্থনীতির সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াচ্ছে, যেখানে প্রতিযোগিতার চেয়ে সহযোগিতার সুযোগ বেশি।
এখন দক্ষিণ আফ্রিকান কাস্টমস ইউনিয়ন বা স্যাকুর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে এবং এক বছরের মধ্যে তা শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। স্যাকুতে দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া, বতসোয়ানা, লেসোথো ও এসওয়াতিনি অন্তর্ভুক্ত। এই চুক্তি আফ্রিকা মহাদেশে ভারতের বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অর্থনীতির ভিত্তি আরও মজবুত করছে।
আরও দেখুনঃ BRICS সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী মাসেই ভারতে ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান
নীরবে কিন্তু নিয়মিতভাবে বাজার প্রবেশাধিকার বাড়ানো হচ্ছে। (India exports)রফতানি বৃদ্ধি, নতুন চুক্তি এবং বৈচিত্র্যময় বাজার এসব মিলে ভারত বৈশ্বিক বাণিজ্যে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছে। কৃষি, বস্ত্র, ওষুধ, প্রকৌশলসহ বিভিন্ন খাতের রফতানিকারকরা এতে উপকৃত হচ্ছেন।
সরকারের লক্ষ্য শুধু রফতানি বাড়ানো নয়, বরং টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তোলা। সংবেদনশীল খাতগুলোকে সুরক্ষা দিয়েই নতুন বাজার খোলা হচ্ছে। এর ফলে কৃষক ও ছোট ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হচ্ছেন। একই সঙ্গে বড় শিল্পগুলো বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে আরও গভীরভাবে যুক্ত হচ্ছে।
