নয়াদিল্লি: ভারতের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ আমেরিকার। (transhipment)চিনা পণ্যের উপর মার্কিন শুল্ক এড়াতে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য ঘুরিয়ে আমেরিকার বাজারে ঢুকিয়ে দিচ্ছে ভারত। এই অভিযোগই উঠে এল হোয়াইট হাউসের এক সাম্প্রতিক রিপোর্টে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা পিটার নাভারোর তৈরি করা ‘দ্য গ্রেট ট্রান্সশিপমেন্ট স্ক্যাম’ শীর্ষক রিপোর্টে ভারতকে এমন একটি ‘শ্যাডো ট্রান্সশিপমেন্ট নেটওয়ার্ক’-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, চিন থেকে সরাসরি আমেরিকায় গেলে যে পণ্যের উপর বেশি শুল্ক দিতে হত, সেগুলিই তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ঘুরিয়ে কম শুল্কের আওতায় মার্কিন (transhipment)বাজারে ঢোকানো হয়েছে।হোয়াইট হাউসের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সমস্যার সূত্রপাত ২০১৮ সালে। সে সময় চিনের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ট্রাম্প প্রশাসন চিনের বেশ কিছু পণ্যের উপর Section 301-এর আওতায় অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিল।
আরও দেখুনঃ টানাপড়েন ভুলে নয়া সমীকরণ! ব্রিকসের আগেই মোদী-তারেক বৈঠক?
এরপর থেকেই চিনা রফতানিকারকদের (transhipment)মধ্যে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর প্রবণতা বাড়তে থাকে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। সীমিত পরিমাণে পণ্যের সংযোজন, প্যাকেজিং, লেবেল পরিবর্তন, ফিনিশিং অথবা নথিপত্রে পরিবর্তনের মাধ্যমে চিনা পণ্যের উৎপত্তিস্থল অন্য দেশের বলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
রিপোর্টে গোটা বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশকে এই ‘শ্যাডো ট্রান্সশিপমেন্ট নেটওয়ার্ক’-এর সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। দেশগুলিকে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে মার্কিন বাজারে চিনা পণ্য কম শুল্কে ঢোকার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকার মাত্রা বিবেচনা করা হয়েছে। এই তালিকার প্রথম স্তর বা Tier 1-এ ভারতের পাশাপাশি কানাডা, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইজরায়েল এবং মেক্সিকোর মতো গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন বাণিজ্য অংশীদারদেরও রাখা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ গাড়িতে ওঠার আগেই টিপ চাওয়া যাবে না! রাইড-হেইলিং অ্যাপদের কড়া নির্দেশ মোদী সরকারের
রিপোর্টে মার্কিন বাণিজ্য দফতরের তথ্যের একটি হিসাব তুলে ধরে দাবি করা হয়েছে, (transhipment)২০২৫ সালে মেক্সিকো, ভারত ও ভিয়েতনামের মতো প্রধান ট্রান্সশিপমেন্ট হাবের মাধ্যমে চিন থেকে প্রায় ৬৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমেরিকায় পৌঁছেছে। এর ফলে মার্কিন সরকারের প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার শুল্ক রাজস্ব হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যান নিয়ে রিপোর্ট নিজেই মডেল-ভিত্তিক হিসাবের কথা জানিয়েছে।
চিনা পণ্যের এই ধরনের ঘুরপথে আমদানির কারণে মার্কিন শিল্পক্ষেত্রে চাপ বাড়ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। রিপোর্টের একটি কেন্দ্রীয় হিসাব অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলারের অবৈধ ট্রান্সশিপমেন্ট হলে আমেরিকায় প্রায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আরও দেখুনঃ ইউরিয়ার দাম কমল ১২%, ইরান যুদ্ধের ধাক্কা কাটতেই বড় স্বস্তি ভারতে
পাশাপাশি মার্কিন মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা GDP-তে বছরে ১১৩ থেকে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি এবং ফেডারেল সরকারের রাজস্বে ১৯ থেকে ২৬ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। তবে এগুলি প্রত্যক্ষভাবে পরিমাপ করা কর্মসংস্থান বা রাজস্ব ক্ষতি নয়, মডেলের ভিত্তিতে তৈরি হিসাব বলেই রিপোর্টে স্পষ্ট করা হয়েছে।
