Attack Drone Task Force: মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন যুদ্ধের বিষয়ে আমেরিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আমেরিকারর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) প্রথমবারের মতো একটি বহুজাতিক ও মাল্টি-ডোমেইন (বহু-ক্ষেত্রভিত্তিক) অ্যাটাক ড্রোন টাস্ক ফোর্স গঠনের ঘোষণা করেছে। ‘টাস্ক ফোর্স ফ্যালকন স্ট্রাইক’ (Task Force Falcon Strike) নামের এই নতুন টাস্ক ফোর্সে আমেরিকার পাশাপাশি আঞ্চলিক মিত্ররাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এতে কেবল আকাশপথে চলাচলকারী ড্রোনই নয়, বরং সমুদ্রপৃষ্ঠ ও পানির নিচেও কার্যক্রম পরিচালনায় সক্ষম চালকবিহীন ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
অন্য কথায়, ‘ফ্যালকন স্ট্রাইক’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি যৌথ ড্রোন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে চায়, যা আকাশ, সমুদ্র ও সমুদ্রতল—এই তিনটি ক্ষেত্রেই হামলা চালাতে সক্ষম।
নতুন সামরিক সক্ষমতা গড়ে তোলা
সেন্টকম (CENTCOM) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের মতে, আঞ্চলিক মিত্রদের সাথে নতুন সক্ষমতার যৌথ ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীরা দ্রুত নতুন সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে এবং তা মোতায়েন করতে সক্ষম হবে। এখন প্রশ্ন জাগে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন এমন একটি টাস্ক ফোর্স গঠনের প্রয়োজন হলো?
‘টাস্ক ফোর্স স্করপিয়ন স্ট্রাইক’-এর সাফল্য
বস্তুত, এই পদক্ষেপটি ‘টাস্ক ফোর্স স্করপিয়ন স্ট্রাইক’-এর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় নেওয়া হয়েছে, যা প্রায় নয় মাস আগে গঠন করা হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বিশেষায়িত ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ (একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন) স্কোয়াড্রন ছিল এই ‘স্করপিয়ন স্ট্রাইক’। এটিই প্রথমবারের মতো—২০২৫ সালের ডিসেম্বরে—যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে আক্রমণকারী ড্রোন উৎক্ষেপণ করেছিল। এছাড়া, জুলাই মাসে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন এবং ইরানের বন্দর স্থাপনাগুলোর ওপর চালানো হামলার সময় সমুদ্রে এই ধরনের চালকবিহীন আক্রমণ ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি
যুক্তরাষ্ট্র এখন তার মিত্রদের সাথে নিয়ে ‘ফ্যালকন স্ট্রাইক’-এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এই সক্ষমতা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেন্টকম (CENTCOM) এই অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে আলোচনা শুরু করেছে এবং এই টাস্ক ফোর্সে যোগ দেওয়ার জন্য তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। পুরো উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড সেন্ট্রাল’ (SOCCENT)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।
সহজ কথায়, বিচ্ছিন্নভাবে ড্রোন কার্যক্রম পরিচালনার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র এখন আঞ্চলিক মিত্রদের সাথে মিলে একটি যৌথ ও বহুমুখী (মাল্টি-ডোমেইন) অ্যাটাক ড্রোন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যে ভবিষ্যৎ ড্রোন যুদ্ধের ধারায় এই পদক্ষেপটিকে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা যেতে পারে।
