Indian Navy Mega Plan: ভারত মহাসাগরে চিনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং পাকিস্তান নৌবাহিনীকে চিনের সহায়তার প্রেক্ষাপটে ভারত তার নিজস্ব নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণের ওপর জোর দিচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। একটি সংসদীয় কমিটি সম্প্রতি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ‘টু-ফ্রন্ট’ বা দুই দিক থেকে হুমকির চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ অত্যন্ত জরুরি।
কমিটির সুপারিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত যাতে ভারতের নৌবহর, সমরাস্ত্র ও প্রযুক্তি বিশ্বমানের সমকক্ষ হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সম্ভাব্য হুমকি ও বাহ্যিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—যা মূলত চিন ও পাকিস্তানের প্রতি একটি পরোক্ষ ইঙ্গিত।
ভারত মহাসাগরে চিন যেমন ধারাবাহিকভাবে তাদের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে, তেমনি পাকিস্তানও চিনের সহায়তায় ক্রমাগত নিজেদের নৌবাহিনীকে আধুনিক করে তুলছে। চিন পাকিস্তানকে ‘টাইপ-০৫৪’ (Type-054) ফ্রিগেট এবং ‘হ্যাংগর’ (Hangor) শ্রেণির সাবমেরিন সরবরাহ করছে। এর ফলে আরব সাগর থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত পুরো অঞ্চলজুড়ে ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
নৌবাহিনীর বাজেট ১ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়াল
ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ এবং সেগুলোর মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে সরকার ধারাবাহিকভাবে নৌবাহিনীর বাজেট বৃদ্ধি করেছে। কমিটি উল্লেখ করেছে যে, ২০২১ সাল থেকেই নৌবাহিনীর বাজেট ক্রমাগত বাড়ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নৌবাহিনীকে মোট ১,০৭,৫৪৯.৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থের মধ্যে ৬৭,৫২৪.৪৫ কোটি টাকা মূলধনী সংগ্রহের জন্য—বিশেষ করে অস্ত্রশস্ত্র ও নতুন প্রযুক্তি কেনার জন্য—নির্ধারণ করা হয়েছে।
পূর্ববর্তী বছরে (২০২৫-২৬) এই খাতে ৬৭,২৩৬.২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ৪৮,০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে। কমিটি উল্লেখ করেছে যে, ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আওতায় বিদেশ থেকে কেনাকাটা বা সংগ্রহ কমছে এবং ২০২০ সাল থেকে দেশীয় সংগ্রহের হার ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
