রাঁচি: ঝাড়খণ্ডে JPSC -JSSC নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে পড়ুয়াদের আন্দোলন ১৭তম দিনে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠল। সোমবার বিধানসভা অভিযানে সামিল হন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী। একের পর এক পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান, কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠিচার্জের মতো পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের উপর বলপ্রয়োগের সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন পড়ুয়াদের অধিকার এবং আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করা উচিত।
পড়ুয়াদের উপর বলপ্রয়োগ নিয়ে রাহুল গান্ধীর প্রতিক্রিয়া
সোমবার সন্ধ্যায় রাহুল গান্ধী বলেন, ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করা ঠিক হয়নি। তাঁর মতে, পড়ুয়াদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। রাহুল বলেন, “ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করা ভুল। পড়ুয়াদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে এবং একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব।” তিনি ঝাড়খণ্ড সরকারকে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বক্তব্য শুনে তাঁদের সমস্যার দ্রুত সমাধান করার আহ্বান জানান।
বিধানসভা অভিযানে জলকামান, কাঁদানে গ্যাস
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ পুরনো বিধানসভা ভবনের সামনে থেকে পড়ুয়াদের মিছিল শুরু হয়। হাতে জাতীয় পতাকা এবং বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে তাঁরা বিধানসভার দিকে এগিয়ে যান। আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি ছিল জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষা বাতিল এবং নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের তদন্তে সিবিআই তদন্ত।
জগন্নাথপুর মন্দিরের কাছে শেষ দফার ব্যারিকেডের সামনে পৌঁছনোর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। পরে কয়েক দফায় আকাশে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। আন্দোলনকারীদের একটি অংশ প্রতীকীভাবে নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করে এগিয়ে গেলে মৃদু লাঠিচার্জও করা হয়। তবে প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্যই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
১,৫০০-র বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন
বিধানসভা অভিযানকে কেন্দ্র করে প্রায় চার কিলোমিটার পথজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১,৫০০-র বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন ছিলেন। এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন হলে পড়ুয়াদের কোনও অসুবিধায় ফেলা হবে না। তবে কেউ হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অ্যাম্বুল্যান্সে মিছিলে দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো
আন্দোলনে যোগ দেন জেএলকেএম নেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোও। তিনি গত নয় দিন ধরে অনশন করছেন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘ অনশনের জেরে তাঁর ১০.৫ কেজি ওজন কমেছে। শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি অ্যাম্বুল্যান্সে করে মিছিলে যোগ দেন। আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য সকলের কাছে আবেদন জানান তিনি।
সরকারের সঙ্গে এখনও কাটেনি অচলাবস্থা
জেএসসি-জেএসএসসি পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং পরীক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার আনতে হবে। ঝাড়খণ্ড সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, পড়ুয়াদের ৯৮ শতাংশ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, মোট ১৩টি পরীক্ষার মধ্যে মাত্র তিনটি পরীক্ষা বাতিলের বিষয়ে সরকার সম্মতি জানিয়েছে। ফলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের মধ্যে মূল মতবিরোধ এখনও রয়েছে। বিশেষ করে জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষা বাতিল এবং কথিত অনিয়মের তদন্তে সিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি নিয়ে এখনও সমাধান হয়নি।
রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে
পড়ুয়াদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি বিজেপির নেতারাও ঝাড়খণ্ড সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। তেলেঙ্গানার বিজেপি সভাপতি আন্দোলনরত পড়ুয়াদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে ঝাড়খণ্ড সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, পড়ুয়াদের দাবি নিয়ে সরকার যথেষ্ট সংবেদনশীলতার সঙ্গে পদক্ষেপ করছে না।
অন্যদিকে, আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাঁদের প্রধান লক্ষ্য নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার। ১৭ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনের মধ্যে সোমবারের বিধানসভা অভিযান পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বলপ্রয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। এখন নজর রয়েছে সরকার ও আন্দোলনরত পড়ুয়াদের মধ্যে ফের কোনও আলোচনার মাধ্যমে অচলাবস্থা কাটে কি না।
