গতি পাবে ‘আত্মনির্ভর ভারত’, ৬০টি প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়বে ভারতীয় বিমান বাহিনীর শক্তি

IAF: ভারতীয় বিমানবাহিনী তাদের শক্তি ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রায় ৬০টি আধুনিকীকরণ কর্মসূচির ওপর কাজ করছে। এসব প্রকল্পের জন্য বিমানবাহিনী ডিআরডিও (DRDO) এবং দেশীয়…

Indian Air Force

IAF: ভারতীয় বিমানবাহিনী তাদের শক্তি ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রায় ৬০টি আধুনিকীকরণ কর্মসূচির ওপর কাজ করছে। এসব প্রকল্পের জন্য বিমানবাহিনী ডিআরডিও (DRDO) এবং দেশীয় বেসরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর সাথে যৌথভাবে কাজ করছে। এই কর্মসূচিগুলোর আওতায় উন্নত রাডার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম, এভিওনিক্স, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক, আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র এবং মহাকাশ ও বিমান-প্রযুক্তি (অ্যারোস্পেস টেকনোলজি) উন্নয়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

Advertisements

এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে ২১,০০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত ব্যবসা সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য যে, এসব উদ্যোগে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তির নকশা, উন্নয়ন এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের কোম্পানিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর ফলে ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

   

এই উদ্যোগের একটি মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি অস্ত্র ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো। একই সঙ্গে, এটি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প এবং নিজস্ব প্রযুক্তির সামগ্রিক ব্যবস্থাকে (ইকোসিস্টেম) শক্তিশালী করবে। এই প্রকল্পগুলো ভারতীয় বিমান বাহিনীর কর্মক্ষমতা ও প্রস্তুতি বৃদ্ধি করবে। এছাড়া, এই উদ্যোগ ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর লক্ষ্যকে আরও সুদৃঢ় করবে।

দেশীয় প্রযুক্তিতে উন্নত করা হবে Su-30MKI বিমানবহর
এদিকে, ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির একটি প্রকল্পে ভারতের যুক্ত হওয়ার ঘোষণার ফলে ভারতীয় বিমানবাহিনীতে রাশিয়ার Su-57 স্টিলথ যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং স্পষ্ট করেছেন যে, নয়াদিল্লি সুখোই-এর কোনো নতুন সংস্করণ নিয়ে ভাবছে না; বরং ‘সুপার সুখোই’ কর্মসূচির আওতায় Su-30MKI বিমানবহরকে উন্নত করার এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট’ (AMCA)-এর ওপর মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Advertisements

দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘এএমসিএ’ (AMCA)-র উন্নয়নের অপেক্ষায় ভারত। এর অর্থ হলো, ভারত আর বিদেশ থেকে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কিনবে না; বরং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের এএমসিএ-র উন্নয়নের জন্য অপেক্ষা করবে। এএমসিএ পরিষেবাতে যুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত সক্ষমতার ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে ফ্রান্স থেকে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া, ভারত এখন ফ্রান্সের সহযোগিতায় ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সম্ভাবনার বিষয়টিও খতিয়ে দেখবে।

Advertisements