রাঁচি: জেপিএসসি-জেএসএসসি পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলনরত (JPSC protest) চাকরিপ্রার্থীদের সোমবার বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। রাঁচি সিটি এসপি পরশ রানা জানিয়েছেন, বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকলে বিক্ষোভকারীদের কোনও সমস্যায় পড়তে হবে না। তবে কেউ হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের আপত্তি নেই
রাঁচি সিটি এসপি পরস রানা জানিয়েছেন, সোমবারের ‘বিধানসভা ঘেরাও’ কর্মসূচির জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক পড়ুয়ার জমায়েতের কথা মাথায় রেখে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করলে তাঁদের কোনও ধরনের অসুবিধার মুখে পড়তে হবে না। তবে আন্দোলনের সময় কেউ হিংসার আশ্রয় নিলে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই অবস্থায় সোমবার রাঁচিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

ভাইরাল ভিডিও নিয়ে পুলিশের ব্যাখ্যা
এদিকে আন্দোলনের আগে একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ। ভিডিওতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের হাতে প্যালেট গান রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল।
রাঁচি সিটি এসপি পরস রানা জানিয়েছেন, ভিডিওতে যে অস্ত্রটিকে প্যালেট গান বলে মনে করা হচ্ছে, সেটি আসলে একটি পেন্টবল গান। তাঁর দাবি, এই বন্দুক থেকে নরম রঙিন বল ছোড়া হয়। সেই বলের মাধ্যমে গোলমাল সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করা যায়। তিনি আরও বলেন, কোনও পরিস্থিতিতে প্যালেট গান ব্যবহার করার প্রয়োজন হলে সেটি শুধুমাত্র জরুরি অবস্থার জন্য রাখা হবে।
তিনটি পরীক্ষা বাতিলের দাবি বিবেচনায়
এরই মধ্যে ছাত্র প্রতিনিধি ও ঝাড়খণ্ড সরকারের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবির বিষয়ে সরকার ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন ছাত্রনেতারা।
ছাত্রনেতা রবীন্দ্র পাসওয়ানের দাবি, সরকার ১৪তম জেপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা, জেপিএসসি ব্যাকলগ ২০২৩ এবং জেপিএসসি ব্যাকলগ ২০২৫ পরীক্ষা বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করতে রাজি হয়েছে।

তবে জেএসএসসি কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল বা সিজিএল পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে। সরকারের বক্তব্য, ওই পরীক্ষা আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী হয়েছিল এবং এর মাধ্যমে নির্বাচিত প্রার্থীদের অনেকে ইতিমধ্যেই চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। ফলে এই পর্যায়ে পরীক্ষা বাতিল করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে।
সিজিএল নিয়ে সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড় পড়ুয়ারা
আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি হল সিজিএল পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের বিষয়ে সিবিআই তদন্ত। তবে সরকার সেই দাবিতে সম্মতি দেয়নি। তার পরিবর্তে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে বিচারবিভাগীয় তদন্তের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রনেতা কুণাল জানিয়েছেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবেই বিধানসভা ঘেরাও করবেন। তবে সিবিআই তদন্তের দাবি থেকে তাঁরা সরে আসবেন না। তিনি বলেন, বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকবে, কিন্তু সিজিএল পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের সিবিআই তদন্তের দাবি তাঁদের কাছে আপসের বিষয় নয়।
সোমবার বড় জমায়েতের সম্ভাবনা
জেপিএসসি এবং জেএসএসসি নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের অভিযোগ তুলে বেশ কিছুদিন ধরেই ঝাড়খণ্ডে আন্দোলন করছেন চাকরিপ্রার্থীরা। পরীক্ষার স্বচ্ছতা, অনিয়মের তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা।
দ্বিতীয় দফার বৈঠকে কয়েকটি দাবির বিষয়ে সরকারের সঙ্গে অগ্রগতি হলেও সিজিএল পরীক্ষা এবং সিবিআই তদন্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে এখনও পূর্ণ সমঝোতা হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে সোমবারের বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচির দিকে নজর রয়েছে প্রশাসনের। পুলিশ একদিকে বড় জমায়েত সামলাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আশ্বাস দিয়েছে। এখন দেখার, সোমবারের কর্মসূচির পর সরকার ও আন্দোলনরত পড়ুয়াদের মধ্যে দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা কতটা কাটে।
