কলকাতা: শহরের বর্ষাকালে জল জমার সমস্যা কমাতে এবং শহরের বন্যা মোকাবিলা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বড় প্রকল্পে হাত দিয়েছে কলকাতা পুরসভা (KMC)। সেই প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে বুধবার শহর পরিদর্শনে আসে ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (NDMA)-র একটি প্রতিনিধি দল। দলের নেতৃত্বে ছিলেন NDMA-র সদস্য কৃষ্ণ এস. ভাটসা।
শহরে কার্যকর বন্যা ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে NDMA কলকাতা পুরসভাকে ৫০০ কোটি টাকার অনুদান মঞ্জুর করেছে। এই অর্থ দিয়ে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, জলাধার পুনরুদ্ধার, পাম্পিং স্টেশনের উন্নয়ন এবং বন্যা সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে।
পুরসভার এক আধিকারিক জানান, প্রকল্পের আওতায় পুকুর ও জলাশয় পুনরুদ্ধার, ফ্লাড ওয়ার্নিং সিস্টেম স্থাপন, ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশন আধুনিকীকরণ এবং আউটফল খাল সংস্কার ও ড্রেজিং করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য, অতিবৃষ্টির সময় দ্রুত বৃষ্টির জল বের করে দিয়ে শহরে জল জমার প্রবণতা কমানো।
বুধবার NDMA-র প্রতিনিধি দল দক্ষিণ কলকাতার কুদঘাট এলাকার দুটি ঝিল পরিদর্শন করে। প্রায় ৫০ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে থাকা এই জলাশয় দুটি বন্যা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের অংশ হিসেবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও বাঁশদ্রোণী-গড়িয়া এলাকা এবং ইএম বাইপাস সংলগ্ন একাধিক পুকুর পুনরুদ্ধারের কাজেও এই তহবিল ব্যবহার করা হয়েছে।
পুরসভার পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিচু এলাকায় থাকা ঝিল ও পুকুরগুলিকে এমনভাবে পুনর্গঠন করা হচ্ছে, যাতে সেগুলি মিলিয়ে ৩৪৬ মিলিয়ন লিটার পর্যন্ত বৃষ্টির জল ধারণ করতে পারে। একই সঙ্গে পুনরুদ্ধার হওয়া জলাশয়গুলির চারপাশে সবুজ অঞ্চল গড়ে তুলে পরিবেশের উন্নয়নও করা হবে। প্রসঙ্গে কৃষ্ণ এস. ভাটসা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, জলাশয় পুনরুদ্ধার শহুরে বন্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
প্রতিনিধি দল শহরের দক্ষিণাংশের বেহালা-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে বৃষ্টির জল বহনকারী আউটফল খালগুলিও পরিদর্শন করে। পুরসভার পরিকল্পনা অনুযায়ী, খিদিরপুর এলাকায় হুগলি নদী ও টালির নালার সংযোগস্থলে একটি নতুন ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশন এবং লকগেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে অতিবৃষ্টির সময় জল নিষ্কাশন আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়াও প্রকল্পের আওতায় শহরের বিভিন্ন ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশনে রেইন-গেজ মিটার বসানো হবে। এই যন্ত্রগুলি সরাসরি কলকাতা পুরসভার সদর দফতরে থাকা ফ্লাড মনিটরিং কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ফলে কোথায় কত বৃষ্টি হচ্ছে এবং কোন এলাকায় জল জমার আশঙ্কা রয়েছে, তা রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
বর্ষাকালে কলকাতার দীর্ঘদিনের জল জমার সমস্যার সমাধানে এই প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পুরসভা। জলাধার পুনরুদ্ধার, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে ভবিষ্যতে শহরের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা আরও কার্যকর হবে বলেই প্রশাসনের আশা।
Also Read | NEET কে অনলাইনে নিয়ে যেতে চায় কেন্দ্র! কিন্তু বাস্তব কি বলছে ?
Also Read | পুলিশের পোশাক জাল করে যন্তরমন্তরে নাশকতার ছক! হামিমকে নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য STF র
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচিন ক্লাব
