গরুড় কমান্ডোদের জন্য আসছে .50 BMG স্নাইপার রাইফেল, বাড়বে হামলার ক্ষমতা

কলকাতা: ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF)। গরুড় স্পেশাল ফোর্স (Garud Special Forces)-এর জন্য নতুন প্রজন্মের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ১২.৭x৯৯ মিমি…

iaf-garud-special-forces-new-50-bmg-sniper-rifle-rfi-india

কলকাতা: ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF)। গরুড় স্পেশাল ফোর্স (Garud Special Forces)-এর জন্য নতুন প্রজন্মের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ১২.৭x৯৯ মিমি (.50 BMG) ক্যালিবারের স্নাইপার রাইফেল কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বায়ুসেনা। এই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই একটি রিকোয়েস্ট ফর ইনফরমেশন (RFI) জারি করা হয়েছে। নতুন অস্ত্র যুক্ত হলে গরুড় কমান্ডোদের দূরপাল্লার নির্ভুল হামলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

Advertisements

বর্তমানে গরুড় স্পেশাল ফোর্স গ্যালিল (Galil) স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার করে, যার কার্যকর পাল্লা প্রায় ৮০০ মিটার। কিন্তু নতুন .50 BMG ক্যালিবারের রাইফেল যুক্ত হলে সেই দূরত্ব প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। ফলে কমান্ডোরা আরও নিরাপদ অবস্থান থেকে শত্রুকে লক্ষ্য করে অভিযান চালাতে পারবেন।

   

শুধু দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস নয়, নতুন রাইফেলের আরেকটি বড় সুবিধা হল অ্যান্টি-ম্যাটেরিয়াল (Anti-Material) সক্ষমতা। অর্থাৎ এটি শুধু শত্রুসেনার বিরুদ্ধে নয়, বরং হালকা সাঁজোয়া যান, রাডার ব্যবস্থা, সামরিক সরঞ্জাম এবং অন্যান্য অসুরক্ষিত যানবাহন ধ্বংস করতেও ব্যবহার করা যাবে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এই ধরনের অস্ত্র বিশেষ বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

বায়ুসেনার জারি করা RFI-তে শুধু রাইফেল নয়, তার সঙ্গে একাধিক উন্নত সরঞ্জামেরও চাহিদা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাউন্ড সাপ্রেসর (সাইলেন্সার), ডে টেলিস্কোপিক সাইট এবং থার্মাল ইমেজিং স্কোপ। এই সরঞ্জামগুলির সাহায্যে গরুড় কমান্ডোরা দিনের পাশাপাশি কম আলো বা সম্পূর্ণ অন্ধকারেও সফলভাবে অভিযান চালাতে পারবেন।

Advertisements

বিশেষ করে থার্মাল ইমেজিং স্কোপের সুবিধা অনেক বেশি। সাধারণ নাইট ভিশন ডিভাইস যেখানে আলোর উপর নির্ভরশীল, সেখানে থার্মাল স্কোপ তাপের উৎস শনাক্ত করে লক্ষ্যবস্তু খুঁজে বের করতে পারে। ফলে চাঁদহীন রাত, ঘন মেঘ বা সম্পূর্ণ অন্ধকার পরিবেশেও শত্রুর অবস্থান নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

নতুন রাইফেলটি শুধু সাধারণ গুলি নয়, বিভিন্ন ধরনের বিশেষ গোলাবারুদ ব্যবহার করতে সক্ষম হতে হবে বলেও জানিয়েছে বায়ুসেনা। এর মধ্যে রয়েছে Armour-Piercing (AP), Armour-Piercing Incendiary (API), Armour-Piercing Incendiary Tracer (APIT), Armour-Piercing Explosive Incendiary (APEI) এবং Saboted Light Armour Penetrator (SLAP) রাউন্ড। এই বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে একই অস্ত্র দিয়ে একাধিক ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করা যাবে।

এছাড়া এই ধরনের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্নাইপার রাইফেল Explosive Ordnance Disposal (EOD) দলও ব্যবহার করে। দূর থেকে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে গুলি করে অবিস্ফোরিত বোমা বা বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করা যায়, ফলে সেনা সদস্যদের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

শুধু নতুন স্নাইপার রাইফেল নয়, গরুড় কমান্ডোদের জন্য স্বদেশি ম্যান-পোর্টেবল লয়টারিং মিউনিশন কেনার উদ্যোগও নিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় তৈরি এই অস্ত্রের ন্যূনতম পাল্লা ৪০ কিলোমিটার, দুই ঘণ্টার বেশি উড়ে থাকার ক্ষমতা এবং দুটি ভিন্ন ধরনের ওয়ারহেড থাকার শর্ত রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে গরুড় কমান্ডোরা স্বাধীনভাবে দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল হামলা চালাতে সক্ষম হবেন।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে গরুড় স্পেশাল ফোর্স গঠন করা হয় মূলত বায়ুসেনার ঘাঁটিগুলিকে জঙ্গি হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের দায়িত্বের পরিধি বেড়েছে। বর্তমানে তারা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ (CSAR), বিশেষ নজরদারি ও রেকি মিশন-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে অংশ নেয়। নতুন স্নাইপার রাইফেল ও উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র যুক্ত হলে গরুড় বাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করছে প্রতিরক্ষা মহল।

Also Read |  NEET কে অনলাইনে নিয়ে যেতে চায় কেন্দ্র! কিন্তু বাস্তব কি বলছে ?

Also Read |  পুলিশের পোশাক জাল করে যন্তরমন্তরে নাশকতার ছক! হামিমকে নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য STF র

Advertisements